ভূত চতুর্দশীতে কাটানো সুন্দর মুহূর্ত
নমস্কার বন্ধুরা ,সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করি সকলেরই ভালো লাগবে।
কালীপুজো কেটে গেছে বেশ কিছুদিন হয়ে গেছে ।তবে কালীপুজোর কয়েকটা পোস্ট আপনাদের মাঝে শেয়ার করা হয়নি। তাই আজকে কি পোস্ট শেয়ার করব সেটা ভেবে পাচ্ছিলাম না। এইরকম ভাবে প্রচুর পোস্ট জমে আছে।তাই গ্যালারি ঘাটতে ঘাটতে কালীপুজো কিছু ছবি আমার চোখে পড়ল। সে গুলোই আপনাদের মাঝে শেয়ার করব ।কালীপুজোর আগের দিন থেকে বেশ কিছু রিচুয়ালস থাকে। আমাদের হিন্দুদের মধ্যে অনেক কিছুই নিয়ম-কানুন পালন করতে হয়। ছোট থেকেই দেখে আসছি কালীপুজোর আগের দিন কে ১৪ শাক খাওয়া হয়। ১৪ শাক খেলে নাকি ১৪ পুরুষকে জল দিতে হয়। কালীপুজো হয় অমাবস্যায় । অমাবস্যা লাগার আগে পর্যন্ত চতুর্দশী থাকে। এই চতুর্দশীকে বলা হয় ভূত চতুর্দশী।
এই ভূত চতুর্দশীতে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন জায়গাতে বিভিন্ন রিচুয়ালস পালন করা হয়। ঠিক তেমনি আমাদের দেশেও অনেক নিয়ম পালন করা হয়। এই দিন নাকি আমাদের পরিবার থেকে যারা আমাদের ছেড়ে চিরদিনের মতো চলে যান। তাদের এই দিনে অন্ধকার থেকে আলোতে আসার জন্য বিভিন্ন রকমের খাবার দেওয়া হয়। এমনকি তাদের নামে প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে। তারা অন্ধকার থেকে আলোয় এসে তাদের সমস্ত খাবার গ্রহণ করে, এইরকমই নিয়ম রয়েছে। ছোট বেলায় আমরা নিজের হাতেই মাটির প্রদীপ তৈরি করতাম। কিন্তু এখন আর সেগুলো হয় না। ছোটবেলার অনেক কিছুই মিস করি। আমরা কৃষ্ণনগরে বাড়ি কিনে রয়েছি। আমাদের গ্রামের বাড়িতে সকলেই রয়েছে ।তাই সমস্ত রিচুয়ালস গ্রামের বাড়িতে পালন করা হয় ।নতুন করে আমরা আর কৃষ্ণনগরের বাড়িতে পালন করি না।
তবে এই দিন প্রত্যেক বছর আমি দিদার বাড়িতেই থাকি ।আমি দাদুর জন্যে দাদুর নাম করে খাবার দিই। তবে এ বছরে দেওয়া হয়ে ওঠেনি। কিছু দিদার বাড়িতে সমস্ত কিছু রেডি করে রেখে বাড়িতে এসেছিলাম রেডি হওয়ার জন্য। এরই মধ্যে ঈশা আমাকে ডাকলো তার কাজে হেল্প করার জন্য। ওদের বাড়িতে গিয়ে দেখি একই নিয়ম চলছে। এদিকে বাড়ির প্রত্যেক কোনায় কোনায় প্রদীপ জ্বালানো শুরু হয়ে গেছে। ওর হাতে হাতে হেল্প করতে করতে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল ।তাই আর দিদার বাড়িতে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। ঈশা বায়না ধরল চলো বৌদি দুজনে মিলে সুন্দর করে প্রদীপ দিয়ে সাজায়। আমিও আর না করতে পারিনি।
তাই দুজনে মিলে ওদের উপরের ঘরে সুন্দর করে প্রদীপ দিয়ে সাজিয়ে তুলেছিলাম। সারা বাড়িটাকে আলোয় ভরিয়ে তুলেছিলাম। প্রদীপের সাথে কিছু গাঁদা ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছিল ।অনেকে আবার বিভিন্ন রকমের রং দিয়ে সাজায় তার উপরে প্রদীপ গুলো রাখে। যে যেরকম পারে সে সেই রকম ভাবে সাজিয়ে তোলে। এ বছরে ওদের বাড়িতেই সমস্ত রিচুয়ালস পালন করেছিলাম। ওর বাবা, ভাই ও তিনজনে মিলে ওর বাড়ির পূর্ব পুরুষদের জল দিয়েছিল ।আমি এবছরে আমার কোন পূর্ব-পুরুষকেই জল দিতে পারেনি। তবে এই নিয়মটা প্রত্যেক বছর আমার ভীষণ ভালো লাগে। খুব আনন্দ সহকারে এই নিয়মটা পালন করি।ভূত চতুর্দশীতে কাটানো সুন্দর মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম।
আজ এইখানে শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।




