Better Life with Steem|| The Diary Game||07-03-25||

in Incredible India11 months ago (edited)
IMG_20250307_143904.jpg

Hello,

Everyone,

মেয়েদের জীবনটা সত্যি বড়ই অদ্ভুত! জীবনের এমন একটি সময় আসে যখন নিজের আপনজন, নিজের চেনা বাড়ি, পাশের পরিবেশ সমস্ত কিছু ছেড়ে নতুন একটি লোকের হাত ধরে চলে যেতে হয় এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেই বাড়িতেই থাকতে হয় ।মাঝে মাঝে আমার মনে হয়, ঈশ্বর মেয়েদেরকে বড় কঠিন করে পাঠিয়েছেন। জন্মদাত্রী মা বাবাকে ছেড়ে নতুন একটি পরিবারকে আপন করে নেয়া এটা কিন্তু সহজ নয়।

আমার মা করেছেন, তার মা করেছেন, আমি করেছি এবং ভবিষ্যতে আমার মেয়েও করবে এটাই বাস্তব। এই কঠিন মুহূর্তে যেন মেয়ে, বাবা-মা কষ্ট না পায় সেজন্যই তো এত ধুমধাম করে আয়োজন করা হয় । গতকাল ছিল শুভ বিবাহ আজ হল কন্যা বিদায়। আমাদের এলাকায় বাসিবিয়ে বলা হয় ।

IMG_20250307_103625.jpg

বিয়ে হতে হতে সকাল সাড়ে সাতটা বেজে গেছিল তাই গতকাল রাতে আর আমাদের কারো ঘুম হয়নি । আমি, আর্মিবাবু বড় ও কনে সকলে উপবাস ছিলাম তাই সকাল বেলায় আমাকে বলা হলো ওদেরকে নিয়ে গঙ্গা পূজা করে আসতে । আমি তৈরি হয়ে গেলাম এবং পুজোর সামগ্রী সবকিছুর নিয়েছি । মেয়ে ও জামাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা গঙ্গা পূজা করতে পুকুরে আসলাম । গঙ্গা মাকে সাক্ষী রেখে নবদম্পতি নতুন জীবন শুরু করবে। মা সবাইকে ভালো রাখবেন, শান্তিতে রাখবেন। মা যেরকম শান্ত তেমনি তাদের সন্তানকেও শান্ত রাখবে।

এটা একটি রীতি হিসেবে পালন করা হয় ।রাস্তায় খই ছিটাতে ছিটাতে যেতে হয় ।আমি জানিনা খই কেন ছিটানো হয়? তবে আপনাদের কারো যদি জানা থাকে অবশ্যই মন্তব্য করে জানাতে পারেন। মেয়ে জামাইকে বাসায় নিয়ে এসে ওদের খাবার দেওয়া হলো। এই সকালবেলা তারা ভাত খেতে চাচ্ছিল না তারপরেও নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে সমস্ত কিছু সাজিয়ে সামনে দেয়া হয়েছিল। আমি সকাল বেলা এক গ্লাস হালকা লিকারের আদা চা খেয়েছিলাম সাথে খ্‌ইয়ের মোয়া নিয়েছিলাম । আমার একদমই ভাত খেতে ইচ্ছে করছিল না ।

খুবই ক্লান্ত ছিলাম কিছুক্ষণ ঘুমানোর চেষ্টা করছিলাম। বর পক্ষের কিছু অতিথি ছিলেন, তাদের সকালের নাস্তা দেয়ার জন্য আবার আমাকে ডেকে তোলা হলো । সকালের নাস্তার জন্য বাড়িতে আর ঝামেলা করা হয়নি বাহির থেকে সমস্ত নাস্তা নিয়ে এসেছিল । সেগুলো সবাইকে দেওয়া হলো। আজ মেয়ে তার শ্বশুর বাড়ি চলে যাবে তাই সমস্ত রীতিনীতি মেনে মেয়েকে তৈরি করে দিতে হবে।

অন্যদিকে রান্নাবান্নার আয়োজন চলছে, দুপুরবেলা সবাই এই বাড়িতেই খাবে। গ্রামের বাড়িতে এই একটা আনন্দের বিষয়, কারো বাড়িতে অনুষ্ঠান হলে প্রতিবেশীরা সবাই এসে হাতে হাতে কাজ করে এবং সবাই একত্রে খাওয়া-দাওয়া করে। আমাদের বাড়িতেও পাঁচ দিন ধরে প্রতিবেশীরা কাজ করেছেন এবং বাড়িতে খেয়েছেন । আমাদের বাড়ির মেহমান ওদের বাড়িতে গিয়ে ঘুমাচ্ছে। এ যেন সকলে মিলে একটি পরিবার ।

এদিকে মেয়ে ও জামাইকে স্নান করানোর জন্য জল আনতে যাবে । আমরা অনেকে জল আনতে গেলাম। সে অনেক দূর। আমি গ্রামের বাড়িতে এসে এত দূরে কখনো আসেনি ।তারা জল কলসে ঠিকই নিল কিন্তু তারা এতটা মজা ও দুষ্টামি করছিল সেই কলসির জল দিয়ে একে অপরকে স্নান করিয়ে দিল। গান গাইতে গাইতে ও নাচতে নাচতে জল আনতে যাচ্ছে এ অন্যরকম একটি আনন্দ ।

IMG_20250307_142048.jpgIMG_20250307_142835.jpg

আবার নতুন করে জল নেওয়া হলো। হলুদ, গিলা বাটা হলো এবং মেয়ে , জামাইকে নিয়ে আসা হল ।মেয়ের দুলাভাইদেরকে ডাকা হল, ছেলের দুলাভাইকে ডাকা হল ,জল খেলা হলো ,রং খেলা হলো, শেষ পর্যন্ত মাটি খেলা হল । স্নানের শেষে ঘরে তোলা ভালো এবং মেয়েকে তৈরি করা হলো ।মেয়ে ও জামাইকে নিয়ে মন্দিরে গিয়ে প্রণাম করা হলো ।বাসিবিয়ের নিয়ম কানুন শুরু হল। কলাতলা ঘোরানো হলো ,পাশা খেলা হল।

দুপুরবেলা বরপক্ষের অতিথিদের খাবারের ব্যবস্থা করা হলো। জামাইকে খাবার দেওয়া হল কিন্তু মেয়েকে দুপুরের খাবার এখান থেকে দেওয়া হবে না ।সে অন্য কিছু খেতে পারবে কিন্তু ভাত খেতে পারবে না। কারণ নিয়ম আছে, বাবার বাড়ি থেকে ভাত খেয়ে গেলে শ্বশুরবাড়িতে ভাত খেতে পারবে না। জানি না এই নিয়মটা কে করে গেছেন।

দুঃখের বিষয় হল , এমন সময় ছোটদিদির বাড়ি থেকে ফোন আসলো ”তার মা আর এই পৃথিবীতে নেই”। তিনি অনেকদিন থেকেই অসুস্থ ছিলেন ।তার বয়স প্রায় ৮০ বছর হবে, আমার সঠিক জানা নেই ।এই শুভ মুহূর্তে কাউকে কিছু জানিয়ে দিদি সঙ্গে সঙ্গে তার বাবার বাড়ি চলে গেলেন।

একদিকে মাকে হারাচ্ছে অন্যদিকে তার মেয়ে আজ তাকে ছেড়ে শ্বশুর বাড়ি চলে যাচ্ছে ।সে কাকে আগে দেখবে তাই মেয়েকে যাত্রা না করিয়ে দিয়েই তিনি তার বাবার বাড়ি চলে গেলেন, শেষ মুহূর্তে মাকে একবার দেখার জন্য। মেয়েকে বলতেও পারেনি” তোমার দিদিমা আর এই পৃথিবীতে নেই ”।সমস্ত রীতিনীতি সম্পূর্ণ হল ।এবার আসলো মেয়ে বিদায়ের সেই ক্ষন।

IMG_20250307_143606.jpgIMG_20250307_144751.jpg

এক এক করে সকলে আশীর্বাদ করছেন ।সমস্ত বাড়িতে কান্না শুরু হয়ে গেল ।আমি আর কান্না ধরে রাখতে পারলাম না ।আমি মা না হয়েও ওর মায়ের সমস্ত কাজ করেছিলাম এবং ওকে আমি আমার মেয়ের মতে ভালবাসতাম। ও আমার কাছাকাছি থাকত ।কোন সুবিধা অসুবিধা হলে আমাকে সঙ্গে সঙ্গে ফোন দিত। আর্মি বাবুর খুব প্রিয় ছিল ।

বিদায়ের এই করুন মুহূর্ত আমাদের সব মেয়েদের জীবনে আসে। যে বাবা মায়ের কাছে আমরা বড় হয়েছি তাদেরকে এক মুঠো চাল আর একটি টাকা দিয়ে কি তার ঋণ শোধ করা যায়। আমার শ্বশুর বাড়িতে নিয়ম হলো , একটি কুলায় কিছু মাটি ও একটি কাঁচা টাকা দিয়ে মায়ের ঋণ শোধ করে দেয়া হয় ।

আমি জানিনা এই নিয়মগুলো কারা তৈরি করে গেছেন তবে মায়ের ঋণ কখনো শোধ করা যায় না ।ওদের যাত্রা করিয়ে দিতে বিকেল হয়ে গেল ।মেয়েকে যাত্রা করিয়ে দেওয়ার পরে বাড়িটা কেমন অন্ধকার হয়ে গেছে। ছোট দিদি বাবার বাড়ি থেকে আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেল।

সত্যিই আজ ওর জন্য খুবই মায়া হচ্ছে ,এমন দিনে মেয়েটা চলে যাবার সময় মাকে একটু প্রণাম করে যাবে তাও পারল না। ওর মেয়ের বিদায়ের সময় দেখতে পেল না।ছোট দিদি বাসায় এসে কান্নায় ভেঙে পড়ে ।আমরা সকলে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করি। আমার মন, শরীর দুটোই ক্লান্ত ছিল তাই রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লাম ।এভাবে কেটে গেল আমার ৭ তারিখের দিনটি। আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি। বাবা মাকে ভালোবাসুন, নিজের সন্তান ও পরিবারকে ভালবাসুন।

Sort:  
Loading...
 11 months ago 

মেয়েদের জীবনটার কথা ভাবলে আসলেই খারাপ লাগে। আপনার লেখাটা আমি পড়তেছিলাম বেশ মনোযোগ সহকারে। পড়তে প্যেয়ে আমার বিয়ের আগে যখন গ্রামের বাড়িতে থাকতাম তখনকার সময়ের আমার প্রতিবেশীদের বিয়ের অনুষ্ঠানের সাথে মিল খুঁজে পাচ্ছিলাম সেই সাথে বলা যাই কিছুটা বিয়ে বাড়ির মজা নিচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই যে এমন একটা দুঃসংবাদের মুখোমুখি হতে হবে এটা কল্পনাতেও আসে নাই। পড়ার পরে মনটাই খারাপ হয়ে গেলো। আমি মেয়েটার মায়ের কথা চিন্তা করছিলাম। একইসাথে মা ও মেয়ে দুজনই দূরে চলে গেলো ,একজন আবার চিরতরে। ভালো থাকুক বর -কনে। তারা সুখী হোক এই প্রার্থনাই করি।

 11 months ago 

আপনার মূল্যবান সময় দিয়ে পোস্টটি পড়ে সুন্দর একটি মন্তব্য দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। মেয়েদের জীবনটা বড়ই অদ্ভুত ।আমাদের জন্ম যে বাড়িতে, বেড়ে ওঠা যে বাড়িতে, সে বাড়ি এক নিমিষেই ছেড়ে যেতে হয় নতুন একটি বাড়িতে এবং রক্তের সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে আপন করে নিতে হয় ।তাদেরকে মায়ার বন্ধনে বেঁধে নিতে হয়। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সেই বাড়িতে থাকতে হয় । এটাই মেয়েদের জীবন।

 11 months ago 

আসলে এটা একদম ঠিক কথাই বলেছেন মেয়েদের জীবন বড়ই অদ্ভুত,, তবে মানুষের জীবনে একটি সঠিক মানুষের এবং তার খেয়াল রাখার জন্য একটি মানুষের অনেক প্রয়োজন,, যার সাথে সারাটি জীবন মানুষ সুখ-দুঃখ গুলো ভাগ করে নিতে পারে,, আসলে সৃষ্টিকর্তা চাইলে ছেলেদের কেও এই ভাবে অন্য বাড়িতে গিয়ে থাকতে দিতে পারতো,, তবে কথায় আছে মেয়েরা মায়ের জাত এবং মায়েদের অনেক ধৈর্য ধরার ক্ষমতা আছে,, তার পাশাপাশি একটি মেয়ের মধ্যে যে গুন গুলো আছে সেই গুন গুলো ছেলের মধ্য নাই,, তাই হয়তো বা একটি মেয়েকে অন্য নতুন বাড়ি অচেনা মানুষদের সাথে থাকার জন্য তৈরি করে পাঠিয়েছে,, এটা আমি সঠিক জানি না যাই হোক সুন্দর একটি লেখা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

Coin Marketplace

STEEM 0.05
TRX 0.29
JST 0.044
BTC 68043.89
ETH 1971.53
USDT 1.00
SBD 0.38