||স্মৃতিচারণ পোস্ট||শৈশবে চড়ুইভাতি করার গল্প||

in আমার বাংলা ব্লগ10 months ago


আসসালামু আলাইকুম

হাই
বন্ধুরা!

আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাইবোন বন্ধুদেরকে আমার পক্ষ থেকে সালাম এবং অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি পোস্ট। আজকে আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করব শৈশবের চড়ুইভাতি করার গল্প। আশা করি আপনাদের অনেক ভালো লাগবে।


IMG_20221218_122229.jpg


আলোচনার বিষয়:
শৈশবে চড়ুইভাতি করার গল্প


ছোটবেলায় আমাদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ একটু বেশি থাকে। দেখা যেত আমি বেশি সময় নারিকেল এর পাত্রের মধ্যে আগুন জ্বালিয়ে কোন জিনিস সিদ্ধ করতে থাকতাম। ছোটবেলায় ম্যাচের কাঠি নিয়ে আগুন জ্বালাতাম তখন আম্মু বকা দিত। এমন বোকা না শুনে চুরি করে হলেও আগুন জ্বালিয়ে এভাবে রান্না করতাম। কিন্তু এখন বড় হবার পর মনে হয় সেই ছোটবেলা টাই ভাল ছিল। সেই সময় গুলাকে অনেক বেশি মিস করা হয়। তাইলে ওই সময়গুলো ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। ছোটবেলায় আমি এভাবে রান্না করে আমার আব্বুকে নিয়ে গিয়ে বলতাম খাও। আবার আম্মু যখন রুটি বানাত তখন আম্মুর কাছে গিয়ে রুটির আটা একটু নিয়ে রুটি বানাতাম এবং আব্বুকে বলতাম যে আব্বু তুমি খাও। পুরা হোক বা কাঁচা তাও আমার আব্বু খেয়ে নিতো। খাওয়ার পর বলতো অনেক সুন্দর হয়েছে। সত্যিই বাবারা কখনো ভুল ধরে না কাজের। আস্তে আস্তে বড় হলে বোঝা যায় বাস্তবতা কত কঠিন। ছোটবেলায় আমরা এগুলা কিছুই বুঝতাম না। শুধু খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম। তবে এখন এই সময় গুলার কথা মনে পড়ে। তবে চাইলেই সেই সময়গুলো ফিরে পাওয়া সম্ভব না। কারন আমাদের প্রকৃতির নিয়মই এমন। যে শুরুতে মায়ের পেট থেকে বের হয়ে ছোট থেকে হাঁটা শেখা এবং বড় হয়ে বাস্তবতা চেনা। ছোটবেলায় আমাদের বাসার কাছে কয়েকটা ছোট মেয়ে ছিল তাদের সাথে মিলে এভাবে চড়ুইভাতে করতাম। মাঝে মাঝে দেখা যেত সবার বাড়ি থেকে চাউল ডাউল উঠিয়ে রান্না করতাম। কতই না সুন্দর ছিল সেই সময় গুলো। চাউল ডাউল উঠানো শেষ হলে আবার রসুন পেঁয়াজ রান্না করতে যা যা লাগে সবকিছু নিয়ে আসতাম। নিয়ে আসার পর আম্মুকে বলতাম যে তুমি রান্না করে দাও আমরা তো রান্না করতে পারবো না। আম্মু তো রান্না করতে রাজি হইতো না। তাও আমরা সবাই মিলে জোর করে রাজি করাতাম। আবার মাঝে মাঝে নারিকেলের মালা এর উপর কোন পাতা দিয়ে জাল করাতাম।

এখানে আমার ভাই একই কাহিনী করছে। সেও নারিকেলের মালাই এর মধ্যে এলোভেরা দিয়ে জাল করাচ্ছে। ওর কাজ দেখে আমারও ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। যে আমিও ছোটবেলায় এভাবে খেলা করতাম। তবে এখন বড় হয়ে গেছি তাই এভাবে আর খেলা হয়ে ওঠে না। আসলে সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়ে যাই। এখন বড় হবার পর সেই সময়গুলোর কথা মনে পড়ে। সময় আসলে থেমে থাকে না। সময় যত চলে যায় তত আগের স্মৃতিগুলো মনে পড়ে। শুধু আমাদের স্মৃতি মনে পড়বে কিন্তু সেই স্মৃতিগুলো আর কখনো ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে না। আমাদের সারা জীবন এই স্মৃতি নিয়ে বাঁচতে হবে। তাছাড়া আমাদের কোন উপায় নাই। জীবন আসলে অনেক ছোট। দেখতে দেখতে কত সময় চলে যাই। আর সেই সময়গুলা কখনো খুঁজেই পাওয়া যায় না। ছোটবেলার খেলাধুলার মুহূর্তগুলো কখনোই ভোলা সম্ভব নয়।


পোস্ট বিবরণ


বিষয়স্মৃতিচারণ পোস্ট
ফটোগ্রাফি ডিভাইসrealme note50
লোকেশনঢাকা সাভার
ব্লগার@sumiya23
দেশবাংলাদেশ


পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

received_434859771523295.gif


পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোস্টে, ততক্ষণ ভালো থাকুন সবাই। আল্লাহ হাফেজ।

TZjG7hXReeVoAvXt2X6pMxYAb3q65xMju8wryWxKrsghkLbdtHEKTgRBCYd7pi9pJd6nDf4ZPaJpEx3WAqvFVny2ozAtrhFXaDMnAMUAqtLhNESRQveVFZ7XHcED6WEQD48QkCkVTAvNg6.png

Sort:  
 10 months ago 

আজকের টাস্ক সম্পূর্ণ
Screenshot_20250305-232913~2.png

Screenshot_20250305-232746~2.png