নস্টালজিক গেমিং ডায়েরি — এপিসোড 2 : GTA Vice City
আসসালামু আলাইকুম
আশা করি সকলেই ভালো আছেন, আল্লাহর রহমতে আমিও ভাল আছি । আমার এই নস্টালজিক গেমিং ডায়েরিতে আপনাদের সাথে শেয়ার করব শৈশবকালে খেলা গেমগুলোর কিছু স্মৃতিচারণ । আর আজকের গেমটার নাম হলো GTA Vice City.
আমি যখন সর্বপ্রথম জিটিএ ভাইস সিটি গেম খেলেছিলাম তখন আমি ক্লাস টু তে পড়তাম, জীবনে প্রথমবারের মতো ওপেন ওয়ার্ল্ড গেমের সাথে যুক্ত হই । গেম টা ওপেন করার পর আমি বেশ অবাক হই, একটা গেমে এতগুলো ফিচারস থাকতে পারে এটা সম্পর্কে আমার তখন কোন ধারণাই ছিল না । আমি শুরুতে যখন এই গেমটা খেলতাম তখন গেমের মধ্যে মিশন করা যায় সেটা সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না । আমি সব সময় গাড়ি চালাতাম এবং গাড়ি দিয়ে শহরগুলো ঘুরে বেড়াতাম । এই গেমটা আমার কাছে সবচেয়ে বেশি মজা লাগার পেছনে আরেকটি কারণ যখন যা ইচ্ছে তাই করতে পারতাম । ভাইস সিটিতে আমি শুরুতে কখনোই মোটরসাইকেল চালাতে পারতাম না আর মোটরসাইকেল চালালেও খুব হালকা পাতলা মোটরসাইকেলগুলো চালাতাম, রেসিং মোটরসাইকেল গুলো আমার আতঙ্ক ছিল তাই আমি বেশিরভাগ সময়ই গাড়ি চালাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতাম । আমি এই গেমটা এখনো খেলি এবং এখন শুধু রেসিং মোটরসাইকেল চালাই । এখন হয়তো সময় বদলে গেছে স্কিল বদলে গেছে কিন্তু শহরটা এখনো সেই আগের মতই রয়ে গেছে ।
এখানে আমার পছন্দের একটা স্মৃতি রয়েছে সেটা হলো আমি সব সময় পুলিশ স্টেশন থেকে পুলিশের পোশাক পরে আর্মি স্টেশনে যেতাম এবং আর্মি স্টেশন থেকে একটা ফাইটার জেট নিয়ে উড়তাম । আমি ছোট বেলায় এই গেমটাতে সবচেয়ে বেশি চিটকোড ব্যবহার করতাম, এই গেমটা যারাই প্রথম খেলে তারা চিটকোড ব্যবহার করে । চিট করলে এই গেমটার মজা আরো বেড়ে যায়, আমি চিটকোড ব্যবহার করে সব সময় ট্যাংক নিয়ে আসতাম আর এই ট্যাংক দিয়ে ছয় স্টার ওয়ান্টেড লেভেল করে পুরো শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে বেড়াতাম । আমার পিছনে পুরো পুলিশ ফোর্স, আর্মি ফোর্স, হেলিকপ্টার ইত্যাদি তাড়া করত । যদিও এখন এই গেমটাকে যখন খেলি তখন একদমই চিটকোড ব্যবহার করিনা, গেমার হিসেবে আমি মনে করি আমাদের কিছু লিমিটেশন রয়েছে আর সেই লিমিটেশন ভঙ্গ করা একদমই উচিত নয় । আমি বর্তমানে কোন মিশন করতে গেলে যত কষ্টই হোক আমি কখনো চিটকোড ব্যবহার করিনা কেননা চিটকোড ব্যবহার করলে নিজের স্কিল বাড়ানো পসিবল হয় না ।
ভাইসিটি পুরো গেমটা একটা ক্যারেক্টরের উপর নির্মিত সেটা হলো টমি ভার্সিটি আর সে একজন অ্যাসাসিন । ভাইসিটির প্রত্যেকটা মিশন আমি একদম প্রফেশনাল অ্যাসাসিন এর মতোই শেষ করতাম, প্রত্যেকটা মিশন আমার কাছে একটা টাস্ক ছিল আর টাস্ক শেষ না করে আমি কখনোই উঠতাম না । পুরো জিটিএ সিরিজের মধ্যে টমি ভার্সিটি এখনো আমার একজন পছন্দের ক্যারেক্টার । টমি ভার্সিটিকে পছন্দ করার বেশ কিছু কারণ রয়েছে যেমন টমি একজন পারফেক্ট অ্যাসাসিন । সে কখনো কোন প্রকার দয়া দেখায় না, তার মধ্যে কোন প্রকার আবেগ নেই সে তার কাজটাকেই প্রাধান্য দেয় । একজন অ্যাসাসিন হিসেবে সে একদম পারফেক্ট, এমনকি গেমের শেষের দিকে কাছের বন্ধু লেন্স তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে কিন্তু টমি তখন ইমোশনাল না হয়ে একদম প্রফেশনাল ভাবে সিচুয়েশন টা হ্যান্ডেল করে । আর ছোটবেলা থেকেই টমি ভার্সিটির সাথে একটা ইমোশনাল কানেকশন রয়েছে যার কারণে টমি ভার্সিটি আমার পছন্দের ক্যারেক্টার ।
ভাইস সিটি শুধু আমার কাছে একটা গেম না আমার ছোটবেলার স্বাধীনতা, আবেগ আর নিজের মত হয়ে ওঠা । এই গেমটা আমার মত অনেকেরই শৈশবের ভালোবাসা, এই গেমটা আমাদের সবাইকে একটা সুন্দর শৈশবের উপহার দিয়েছে । আজ নস্টালজিক গেমিং ডাইরির দ্বিতীয় পাতায় আমি লিখলাম জিটিএ ভাইস সিটি । ধন্যবাদ আপনাদের সবাইকে, ইনশাল্লাহ আপনাদের সাথে আগামীতে দেখা হবে নতুন কোন পোস্টে — আল্লাহ হাফেজ ।
আমি আগেও আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করেছি ক্রিপ্টো, মুভি রিভিউ, ফটোগ্রাফি, গল্প লেখালেখি আর ব্লগ । এখন সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় শুরু করেছি নতুন এক অধ্যায় — গেমিং ! 🎮 । 🎥 আমার ইউটিউব চ্যানেল Bokhtiar The Survivor-এ আমি প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি, যেখানে আমি আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি আমার গেম খেলার বাস্তব অনুভূতি আর সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো ।







Twitter
https://x.com/i/status/2007694943960350906
https://x.com/i/status/2007426948591493554
https://x.com/i/status/2007695339684589760
https://coinmarketcap.com/community/post/372539089