নস্টালজিক গেমিং ডায়েরি — এপিসোড ১, Project IGI
আসসালামু আলাইকুম
আশা করি সকলেই ভালো আছেন, আল্লাহর রহমতে আমিও ভাল আছি । আমার এই নস্টালজিক গেমিং ডায়েরিতে আপনাদের সাথে শেয়ার করব শৈশবকালে খেলা গেমগুলোর কিছু স্মৃতিচারণ । আর আজকের গেমটার নাম হল Project IGI.
ছোটবেলা থেকেই আমি গেম পাগল ছিলাম আর যুদ্ধের গেম? সেটা ছিলো আমার খুবই পছন্দের জঁনরা । আমি এই গেমটাকে আমার বড় ভাইয়ের ল্যাপটপের মধ্যে খেলতাম, বড় ভাই যখন Project IGI ইনস্টল করেছিলো তখন তিনি গেমটাকে খেলতো আর আমি পাশে বসে দেখতাম আর তার যখন খেলার শখ মিটে যেত তখন আমাকে খেলার জন্য দিত । আমার বড় ভাই গেম থেকে টাইম পাস এর জন্য খেললেও আমি এই গেমটাকে খুব মনোযোগ দিয়ে খেলতাম । এই গেমটা এত সহজ ছিল না তার উপর আবার গেমের মাঝখানে যদি আপনি মরে যান তাহলে এই গেমটা কে আবার পুনরায় শুরু করতে হতো আর এই ডিফিকাল্টির জন্য এই গেমটাকে অনেকেই অপছন্দ করতো । তবে এই গেমটা আমার মনের মধ্যে এক অন্যরকম জায়গায় করে নিয়েছিল, গেমটা খেলার সময় নিজেকে ডেভিড জন্স (গেমের মেইন ক্যারেক্টার) মনে হতো । এই গেমটার একটা নেগেটিভ দিক থাকলেও অনেকগুলো পজিটিভ দিক ছিল যেমন গেমটার গ্রাফিক্স অনেক বেশি ভালো ছিল ওই সময়ের তুলনায় তার ওপর এই গেমের মধ্যে একটা সুন্দর স্টোরি ছিল আর এই স্টোরি প্রত্যেকটা গেমারকে হুক করে রাখতো শেষ অবধি ।
Project IGI গেমের মধ্যে তখন আমার যে ভয়টা সবচেয়ে বেশি হতো সেটা হল এলার্ম যেন না বেজে ওঠে, কেননা এলার্ম বাজার সাথে সাথে প্রত্যেকটা পাহারাদার সতর্ক হয়ে যেত এবং ব্যারাক থেকে সৈন্যদল বের হয়ে পাহারা দেওয়া শুরু করতো আর সেই সময়টা অনেক ভয়াবহ ছিলো । এতগুলো সৈন্যকে আমার একা সামলাতে অনেক বেশি হিমশিম খেতে হত কিন্তু তারপরও আমি কখনো হার মানতাম না, আমি আবারো নতুন করে ম্যাচটাকে শুরু করতাম ।
Project IGI শুধু আমার কাছে একটা গেম ছিল না, এই গেমটার মধ্যে আমি অনেক মিশনে নিজেকে যোদ্ধা হিসেবে দেখতে পেতাম । আমি একটা মিশনকে শেষ করার জন্য অনেক বেশি সময় নিতাম এবং আমি কখনই এগ্রেসিভলি খেলতাম না । এই গেমের মধ্যে তাড়াহুড়া করলে অনেক বেশি ভুল হতো যার কারণে আমি সবসময় শান্তভাবে খেলার চেষ্টা করতাম কিন্তু তারপরও যখন আমি সবার কাছে এক্সপোস হয়ে যেতাম তখন ভয় পেয়ে যেতাম এবং খুব তাড়াতাড়ি মরে যেতাম ।
Project IGI গেমটা ২০০০ সালে রিলিজ হয়েছিল কিন্তু এখনও এই গেমের প্রেমে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানের গেমাররা । এই গেমটাকে এখনো অনেক মানুষ খেলে এবং এই গেমটার ভিডিও এখনো আপলোড করতে দেখা যায় অনেক ইউটিউব চ্যানেলে । আমার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এই গেমের ভিডিও আপলোড রয়েছে, আমি নিচে দিয়ে দিচ্ছি চাইলে আপনারা দেখে আসতে পারেন । Project IGI এর গ্রাফিক্স আমার কাছে এখনো অনেক বেশি ভালো লাগে, আর আমি এখনো এই গেমটাকে খেলি এবং এই গেমটাকে খেলার সময় চিন্তা করি এত ভালো গ্রাফিক্স আর এত সুন্দর ডিটেইল একটা গেমের মধ্যে ২০০০ সালে দেওয়া খুবই প্রশংসনীয় একটা ব্যাপার । আগে এই গেমটাকে খেলতে অনেক কষ্ট হলেও এখন এই গেমটাকে অনেকটাই ইজি লাগে এবং এখন খুব আগ্রেসিভলি গেমের মিশন গুলোকে শেষ করতে পারি ।
Project IGI শুধুই একটা গেম নয় এটা আমার শৈশবের সঙ্গী, সময় পেলেই এখনো গেমটাকে আমি খেলি এবং আমার কাছে বেশ ভালই লাগে । আজ নস্টালজিক গেমিং ডায়েরির প্রথম পাতায় আমি Project IGI এর নাম লিখলাম । ধন্যবাদ আপনাদের সবাইকে, ইনশাল্লাহ আপনাদের সাথে আগামীতে দেখা হবে নতুন কোন পোস্টে — আল্লাহ হাফেজ ।
আমি আগেও আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করেছি ক্রিপ্টো, মুভি রিভিউ, ফটোগ্রাফি, গল্প লেখালেখি আর ব্লগ । এখন সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় শুরু করেছি নতুন এক অধ্যায় — গেমিং ! 🎮 । 🎥 আমার ইউটিউব চ্যানেল Bokhtiar The Survivor-এ আমি প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি, যেখানে আমি আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি আমার গেম খেলার বাস্তব অনুভূতি আর সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো ।







Twitter
https://x.com/i/status/2004914918123004068
https://x.com/i/status/2004819426898837560
https://x.com/i/status/2004915322995065125