ঈদের যাত্রা হোক নিরাপদ!
19-03-26
০৫ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
🌼আসসালামুআলাইকুম সবাইকে🌼
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো ও সুস্থ্য আছেন। তো দেখতে দেখতে ঈদ চলে এলো। রমজানের রোজাগুলো মনে হচ্ছে খুব দ্রুতই শেষ হয়ে গেল! আর রমজানের পরে আসে পবিত্র ঈদ উল ফিতর। যেটাকে আমরা বলি ছোট ঈদ। ঈদে শহরের ব্যস্ত মানুষগুলো ছুটে চলে প্রিয়জনদের সাথে উদযাপন করতে গ্রামের দিকে। যানবাহনগুলোতে তখন চোখে পরার মতো ভীড় দেখা যায়। সবচেয়ে ব্যস্ততম ঢাকা শহর হয়ে যায় ফাকাঁ! শুধুমাত্র প্রিয়জনদের সাথে ঈদে উদযাপন করার জন্যই ছুটে চলা। কিন্তু সমস্যা হলো শহরের মানুষগুলো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনে চড়ে বাড়িতে যায় প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ খুশি ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য!
ট্রেন, বাস, লঞ্চ সব জায়গায় চোখে পরার মতো ভীড় থাকে। ঈদের বোনাস পেয়ে ছুটে চলে গ্রামের দিকে। ঈদকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি বিজনেস করে পরিবহন মালিকরা! ৩০০ টাকার ভাড়া, ঈদের সময় সেখানে নেয়া হয় ১০০০ টাকা! তবুও গ্রামমুখী মানুষদের মাঝে মাঝে অভিযোগ থাকে না। কারণ প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারলেই তারা খুশি! শহরের মানুষগুলো জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যাত্রা করে। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন ট্রেন ও লঞ্চ গুলোতে মানুষের ভীড় থাকে চোখে পরার মতো!
সবকিছুর একটা লিমিটেশন থাকে! আপনি ১০০ কেজির বোঝা মাথায় নিতে পারেন, এখন আপনাকে যদি আমি ১৫০ কেজি দেয় তাহলে আপনার অবস্থাটা কি হবে একবার চিন্তা করুন! ট্রেনের টিকেট ঈদের দশদিন আগেই কেটে ফেলতে হয়। কিন্তু সবাই কি আর টিকেট পায়। যাদের গ্রামের বাড়ি ঢাকা শহর থেকে অনেকদূরে সেখানে বেস্ট মাধ্যম ট্রেন! কিন্তু ট্রেনের টিকেট না পেয়ে বেশিরভাগ মানুষ হয় দাঁড়িয়ে যায় নয়তো ট্রেনের ছাদের উপরে উঠে বসে যায়! গতকাল অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা ঘটে গেল। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলহাটির উদ্দেশ্য আসা নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়ে নয়টা বগী পরে যায়। প্রায় দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়।
নিউজটা দেখার পর খারাপই লাগছিল আসলে। মানুষগুলো কতটা উৎসাহ নিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিল কিন্তু পথেই অনেকের ঈদ শেষ! আবার এদিকে একটা নিউজে দেখলাম সদরঘাটে অনাকাঙ্ক্ষিত আরেকটি ঘটনা। লঞ্চের চাপ খেয়ে এক যুবক সেখানেই স্পট ডেড! কথা ছিল প্রিয়জনদের সাথে ঈদ ভাগাভাগি করে নেয়ার কিন্তু সে সুযোগ তার হয়নি! তাকে যেতে হলো মৃত হয়ে! আপনি যদি গভীরভাবে চিন্তা করেন প্রতিবছরই কিন্তু এমন দূর্ঘটনা ঘটে। আমরা একই ভুল করে আসছি! দেখেন আপনি একটু সময় নিয়ে পরে উঠেন সমস্যা তো নেই!
যাত্রার থেকেও আপনার জীবনের মূল্য অনেক বেশি! আপনি বেচেঁ থাকলে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন! তবে আপনার যাত্রাটা হতে হবে সুন্দর! এবারের ঈদে যেন আর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে। শহরের মানুষগুলোর যাত্রা যেন সুন্দর হয় সেই আশায় রইলো।
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। বর্তমানে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর বিএসসি করছি ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয় (ডুয়েট) থেকে । পাশাপাশি লেখালেখি করে আসছি গত চার বছর ধরে। ভালো লাগার জায়গা হলো নিজের অনুভূতি শেয়ার করা, আর সেটা আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,কবিতা লেখা,গল্প লেখা ,রিভিউ,ডাই এবং আর্ট করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।



