জেনারেল রাইটিং : চাঁদা। শেষ পর্ব।
সবাইকে শুভেচ্ছা,
আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা, আশাকরি কুশলে আছেন সবাই। পবিত্র রমজান মাসে সবাই কুশলে থাকেন এই কামনা করি। পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম ১০ দিন রহমত। ভালো ভাবেই সমাপ্ত হলো। মাগফেরাতের ১০ দিন শুরু হলো। শেষ ১০ দিন নাজাতের। আশাকরি রহমতের মত মাগফেরাত ও নাজাত শেষ হবে ভালো ভাবে। রমজান মাসের বড় সৌন্দর্য আমার কাছে মনে হয় ইফতার। সবার সাথে একসাথে ইফতার করার যে আনন্দ তা অন্য খাওয়া দাওয়ায় খুঁজে পাইনা। রমজান উপলক্ষে চারিদিকে চলছে, ইফতার মাহফিলের নানা আয়োজন। পলিটিক্যাল দল গুলোর মধ্যে চলছে ইফতারের রাজনীতি। কেউ কেউ আয়োজন করছেন গণ ইফতারের।প্রতিদিনেই একের অধিক ইফতারের দাওয়াত থাকলেও সব গুলোতে যাওয়া হয়ে উঠেনা। তবে সবার সাথে একসাথে ইফতার করতে ভালোই লাগে। বন্ধুরা, আমার বাংলা ব্লগে আজ একটি জেনারেল রাইটিং শেয়ার করবো। চাঁদা নিয়ে লিখেছিলাম গতকাল, আজ তার শেষ পর্ব। আশাকরি বরাবরের মত সাথেই থাকবেন।

চাঁদার অনেক শক্তি। সবার সম্মিলিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চাঁদা বড় কিছু সৃষ্টি করে। যা দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যবহার হয়। এরকম সম্মিলিত প্রচেষ্টা অতীত ছিল, এখনো আছে ভবিষ্যতেও থাকবে। সমিতিতে চাঁদা দিন, বন্যার্তদের সাহায্যে এগিয়ে আসুন,একজন অসহায় রোগীর পাশে দাঁড়ান এরকম আহবান প্রায় আমাদের দৃষ্টি গোচর হয় এবং মানুষ তার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। মানুষ তার সামর্থ অনুযায়ী চাঁদা দিয়ে সমাজের ভালো কাজ গুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। একটি কথা না বললেই নয়, দেশের অধিকাংশ মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জিমের বেতন হয় মানুষের চাঁদার টাকায়। আবার মানুষের চাঁদার টাকায় দেশের অধিকাংশ দূর্গাপুজা সহ অন্যান্য পুজা সুন্দর ভাবে সম্পন্ন হচ্ছে প্রতিবছর। শুধু ধর্মীয় ক্ষেত্রে নয়, সামাজিক অনেক কাজেই মানুষের চাঁদার টাকায় সম্পন্ন হয়, তা আপনি আমি সবাই জানি।
চাঁদার এই মহৎ শক্তিকে কলংকিত করে, সমাজের ক্যান্সারে পরিনত করেছে সমাজের কিছু অসাধু নিচু প্রকৃতির মানুষ। চাঁদাবাজি ও চাঁদাবাজরা ধবংস করে দিয়েছে চাঁদার মহাত্বকে। চাঁদাবাজির সাথে যারা জড়িত তারা আমাদের আশপাশেই থাকে। তারা কাদের নির্দেশে চাঁদাবাজি করে সেটাও আমরা জানি! কিন্তু অনেক সময় করার কিছু থাকে না। তবে মানুষ পারেনা এমন কোন কাজ নেই। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছে চাঁদাবাজি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে। চাঁদাবাজি ও চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা জরুরি। এর জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। সরকার,রাজনৈতিক দল,জনপ্রতিনিধিরা যদি সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে আসে, তাহলে সমাজের ক্যান্সার চাঁদাবাজি মুক্ত হবে। আসুন,৷চাঁদাবাজ মুক্ত সমাজ ও দেশ গড়ি। বন্ধুরা, আজ এই পর্যন্ত। আবার দেখা হবে অন্য কোন ব্লগ নিয়ে। সবাই ভালো থাকুন-নিরাপদে থাকুন।
ঢাকা বাংলাদেশ।
২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.