“হাইপ বেশি, টেস্ট কম — Roadside Kitchen CTG Brunch"

in আমার বাংলা ব্লগ6 days ago

আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।




6319040097206079933.jpg
6319040097206079935.jpg

কিছু রেস্টুরেন্ট থাকে যেগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় এত বেশি দেখা যায় যে মনে হয় জায়গাটা বুঝি খাবারের স্বর্গ। চট্টগ্রামের ব্রাঞ্চ লাভারদের মাঝেও এখন এমন একটা নাম হলো Roadside Kitchen। বড় বড় প্ল্যাটার, সাজানো পরিবেশন, ফিউশন খাবারের নাম আর ফেসবুক রিলস দেখে আমিও বেশ আগ্রহ নিয়ে গিয়েছিলাম ওদের ব্রাঞ্চ ট্রাই করতে।প্রায় ৫০০ টাকার মধ্যে দুইটা প্ল্যাটার অর্ডার করেছিলাম। ছবি আর প্রেজেন্টেশন দেখে প্রথমে মনে হয়েছিল খাবার হয়তো দারুণ হবে। কিন্তু খাওয়া শুরু করার পর বুঝলাম—দেখতে যতটা আকর্ষণীয়, টেস্ট ততটা না। পুরো এক্সপেরিয়েন্সটা শেষ পর্যন্ত “মোটামুটি” শব্দটার মধ্যেই আটকে গেল। ছবি আর মেনু মিলিয়ে যতটুকু বোঝা যায়, প্রথম প্ল্যাটারটা সম্ভবত ওদের কোনো “গ্রিলড চিকেন রাইস প্ল্যাটার” টাইপ আইটেম ছিল। সেখানে ছিল ফ্রাইড রাইস, গ্রিলড চিকেন, কিছু ভেজিটেবল আর সস। অন্য প্ল্যাটারটায় ছিল ফ্রাইড রাইসের সাথে ফ্রাইড এগ, মোমো, চিকেন, স্প্রিং রোল আর সালাদ জাতীয় কিছু আইটেম। অনলাইনে ওদের বিভিন্ন মেনু ও ডেলিভারি লিস্টে “Rice Khadok Symphony”, “Garlic Combo”, “Double Strike” বা বিভিন্ন প্ল্যাটারের নাম পাওয়া যায়, যেগুলোর সাথে এই আইটেমগুলোর মিল আছে।প্রথমেই যেটা চোখে পড়ে, সেটা হলো ওদের প্রেজেন্টেশন। খাবারগুলো দেখতে সত্যিই সুন্দর। বড় প্লেট, কালারফুল সাজানো রাইস, চিকেনের উপরে গ্রিল মার্ক—সবকিছু ক্যামেরায় ভালো লাগে। যারা মূলত ছবি তুলে পোস্ট দিতে ভালোবাসে, তাদের কাছে জায়গাটা আকর্ষণীয় লাগতেই পারে। কিন্তু সমস্যা হলো, শুধু দেখতে ভালো হলেই তো খাবার ভালো হয় না।রাইসটা মোটামুটি ছিল, কিন্তু আলাদা কোনো ফ্লেভার পাইনি। মনে হচ্ছিল খুব সাধারণ ফ্রাইড রাইস, যেটা বাসার পাশের অনেক দোকানেও পাওয়া যায়। চিকেনটাও ঠিকঠাক রান্না হলেও মেরিনেশনের স্বাদ খুব একটা ছিল না। বাইরে একটু গ্রিলড লুক দিলেও ভিতরে সেই জুসি ফ্লেভারটা পাওয়া যায়নি। সসটাও বেশ সাধারণ লেগেছে।দ্বিতীয় প্ল্যাটারে থাকা মোমোগুলোও খুব একটা ইমপ্রেস করতে পারেনি। ভেতরের ফিলিং অনেকটাই ছিল। স্প্রিং রোলও মচমচে থাকলেও স্বাদে আলাদা কিছু মনে হয়নি। সবচেয়ে হতাশাজনক ব্যাপার ছিল—এতকিছু এক প্লেটে দিলেও কোনো আইটেমই “আহা, এটা সত্যিই দারুণ!” তৈরি করতে পারেনি।আরেকটা বড় সমস্যা ছিল সার্ভিস। খাবার আসতে অনেক দেরি হয়েছে। ব্রাঞ্চ টাইমে রেস্টুরেন্টে ভিড় থাকতেই পারে, সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু যদি অপেক্ষা এতটাই বেশি হয় যে খাওয়ার আগ্রহই কমে যায়, তাহলে সেটা অবশ্যই একটা নেগেটিভ দিক। বিশেষ করে যখন খাবারের টেস্টও মোটামুটি হয়, তখন লম্বা দেরি পুরো অভিজ্ঞতাকে আরও বিরক্তিকর করে দেয়।অনলাইনে খুঁজে দেখলাম, অনেকেই ওদের খাবারের সাজসজ্জা আর বড় পরিমাণ নিয়ে কথা বললেও স্বাদ নিয়ে দিয়েছে। কোথাও কোথাও দেখা যায়। বিশেষ করে প্ল্যাটফর্মে খুব না।চট্টগ্রামের খাবারের বাজার এখন অনেক। মানুষ এখন শুধু বড় দেখে হয় না;—সবকিছুর চায়। Reddit-এ চট্টগ্রামের নিয়ে অনেক -এও দেখা যায়, মানুষ এখন -এর চেয়ে বেশি খোঁজে।আমার কাছে মনে হয়েছে Roadside Kitchen এখনো হিসেবেই বেশি পরিচিত। মানে, এমন একটা জায়গা যেখানে খাবার দেখতে সুন্দর, কিন্তু সেই -এর না। যারা প্রথমবার যাবে, তারা হয়তো দেখে হবে। কিন্তু দ্বিতীয়বার যাওয়ার ইচ্ছা তৈরি করার জন্য খাবারের আর -এ আরও দরকার।তবে পুরো একেবারে খারাপও না। মোটামুটি ভালো ছিল, প্লেটিং সুন্দর ছিল, আর খারাপ না। বন্ধুদের সাথে গিয়ে আড্ডা দিতে চাইলে জায়গাটা বলা যায়। কিন্তু যদি কেউ “খাবারের স্বাদ” এর জন্য যায়, তাহলে হয়তো একটু কম নিয়েই যাওয়া ভালো।

সবশেষে একটা কথাই বলব—এখনকার সময়ে শুধু সুন্দর সাজসজ্জা বা ভাইরাল প্ল্যাটার দিয়ে কোনো রেস্টুরেন্ট দীর্ঘদিন মানুষের মন ধরে রাখতে পারে না। মানুষ এখন টাকার সঠিক মূল্য চায়। পাঁচশ টাকার প্ল্যাটার মানেই স্বাভাবিকভাবে প্রত্যাশা একটু বেশি থাকবে। সেখানে যদি খাবারের স্বাদ সাধারণ হয় আর পরিবেশন করতেও অতিরিক্ত সময় লাগে, তাহলে হতাশ হওয়াটা খুব স্বাভাবিক।


সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।

1000038736.webp


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png