বিকৃত মূল্যবোধের যুগে// by ripon40
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বন্ধুরা,
আমি@ripon40 বাংলাদেশের নাগরিক
- বিকৃত মূল্যবোধের যুগে
- ২৪, মে ,২০২৫
- শনিবার
আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশাকরি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছেন। আমিও ভালো আছি। আজ আমি " বিকৃত মূল্যবোধের যুগে " শেয়ার করছি । আশাকরি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
আমাদের সময়টা এখন এমন এক যুগে পৌঁছেছে, যেখানে মানুষের ভালো-মন্দের বোধ অনেকটাই পাল্টে গেছে। আগে যেসব কাজকে খারাপ মনে করা হতো, এখন সেগুলোকেই অনেকে ভালো বা স্বাভাবিক বলে মানে। মানুষের নৈতিকতা বা চারিত্রিক গুণ এখন অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।বর্তমান সময়কে অনেকেই 'বিকৃত মূল্যবোধের যুগ' হিসেবে অভিহিত করছেন। মানবসভ্যতার ইতিহাসে নৈতিকতা, সততা, সহমর্মিতা ও মানবিক গুণাবলিকে যে গুরুত্ব দেওয়া হতো, আধুনিক সমাজে তার অভাব ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষ ও বৈষয়িক অগ্রগতি সত্ত্বেও মানুষের নৈতিক অবক্ষয় উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে।
আজকাল অনেক মানুষ সঠিক পথে না গিয়ে ভুল পথে সফল হতে চায়। মিথ্যা বলা, ঠকানো, দুর্নীতি করা যেন সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে ভাবে, কে ভালো না খারাপ সেটা গুরুত্বপূর্ণ না, বরং কে কত বড় হয়েছে সেটাই বড় কথা।সমাজে একসময় যা অশোভন বা অনুচিত বলে বিবেচিত হতো, এখন তা স্বাভাবিক বলে গণ্য হচ্ছে। অসততা, স্বার্থপরতা, প্রতারণা, ও অবৈধ উপায়ে সফলতা অর্জনের প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ আদর্শ নয়, বরং প্রচার-ভিত্তিক জনপ্রিয়তাকে অনুসরণ করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেমন, ফেসবুক, ইউটিউব অনেকেই মিথ্যা কথা বা অশ্লীল জিনিস ছড়িয়ে দিচ্ছে। কেউ কেউ শুধু জনপ্রিয় হবার জন্য ভুল কাজ করছে। এতে অনেক তরুণ-তরুণী ভুল পথে যাচ্ছে, ভুল কিছু শিখছে।
আজকের শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া আর চাকরি পাওয়ার দিকে নজর দিচ্ছে। কিন্তু একজন ভালো মানুষ হওয়ার জন্য যে শিক্ষা দরকার, সেটা খুব কম দেওয়া হচ্ছে। তাই অনেক শিক্ষিত মানুষও অন্যায় করছে।আগে পরিবার থেকেই ভালো-মন্দ শেখার শুরু হতো। কিন্তু এখন বাবা-মা অনেক ব্যস্ত, ছেলেমেয়েদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারে না। ফলে তারা বাইরে থেকে যেটা দেখে, সেটাই শিখে নিচ্ছে ভালো হোক বা খারাপ।
ধর্ম আমাদের ভালো কাজ করতে শেখায়। কিন্তু এখন অনেকেই ধর্মকে শুধু বাহ্যিকভাবে পালন করে, মনের ভেতরে সঠিক শিক্ষা নেই। আবার কেউ কেউ ধর্মের নামে ঝগড়া-বিবাদ করছে, যা একেবারেই ভুল।এইসব কারণে সমাজে মানুষ একে অপরকে বিশ্বাস করতে পারছে না। অন্যায়-অবিচার, আত্মহত্যা, হিংসা এসব বাড়ছে। ভালো মানুষরা পিছিয়ে যাচ্ছে, আর খারাপরাই সামনে আসছে।
এই সমস্যা থেকে বের হতে হলে আমাদের আবার সত্য ও ন্যায়ের পথে ফিরতে হবে। পরিবার, স্কুল, সমাজ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের ভালো-মন্দ শেখাতে হবে। তাহলেই আমরা একটা সুন্দর সমাজ গড়তে পারবো।এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে। নৈতিক শিক্ষার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সত্য-ভিত্তিক প্রচারমাধ্যম, এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা ও চেতনার জাগরণই পারে এই বিকৃত মূল্যবোধের যুগ থেকে সমাজকে রক্ষা করতে।
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি মোঃ রিপন মাহমুদ। আমার স্টীমিট একাউন্ট@ripon40। আমি একজন বাঙালি আর আমি বাঙালী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ব বোধ করি। আমি স্টীমিটকে অনেক ভালোবাসি। ভালোবাসি পড়তে, লিখতে, ব্লগিং,ফটোগ্রাফি,মিউজিক,রেসিপি ডাই আমার অনেক পছন্দের। আমি ঘুরতে অনেক ভালোবাসি। আমার সবচেয়ে বড় গুণ হলো কারোর উপর রাগ করলে সহজেই ভুলে যাই।





https://x.com/mahmudrr_r/status/1925846508580089980?t=AxgU3o-iqcsGkKD-7YwWRw&s=19
https://x.com/mahmudrr_r/status/1925847517863752088?t=ltkCSW33zTr69HLXabg8FQ&s=19
লেখাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। আপনি সমাজের বর্তমান অবস্থা ও নৈতিক অবক্ষয়ের চিত্র খুব স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। সত্যিই, এখন অনেকেই শুধু বাহ্যিক সফলতাকেই গুরুত্ব দেয়, অথচ একজন ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। আপনার কথাগুলো ভাবিয়ে তোলে বিশেষ করে পরিবারের ভূমিকা, শিক্ষার ঘাটতি এবং প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে যেভাবে বলেছেন, তা খুবই বাস্তব।