বয়সের সাথে দায়িত্বও বাড়ছে
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি ভালো থাকার চেষ্টা করছেন। তো দেখতে দেখতে সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। কিভাবে সময় চলে যাচ্ছে টেরই পাচ্ছি না। সময়ের সাথে সাথে বাড়ছে বয়স। পরিবর্তন হচ্ছে নিজের অনুভূতি। ছোটবেলায় ভাবতাম কবে বড় হবো? কবে চাকরি করবো কবে গাড়ি চড়বো? কতো সহজ অনুভূতি নিয়ে কথাগুলো অকপটে বলে ফেলতাম। শৈশবে জীবন নিয়ে যেন কোনো টেনশনই কাজ করতো না। তখন আমাদের ছোট্র একটা দায়িত্ব পালন করতে হতো। সেটা হচ্ছে সন্ধ্যা হলেই পড়ার টেবিলে বসে পড়া। এ সময়টাতে পড়তে হবেই। এ ছিল প্রতিদিনকার রুটিন তখন! বড়দের কথা শোনা আর বিকাল হলে খেলাধুলা করা।
ছোটবেলায় কোনো ভুল করলে তেমন কিছু বলতো না। মুরুব্বিরা কয়েকটা বকা দিত ঠিকই কিন্তু তারা জানে যে আমরা ছোট আমরা ভুল করবো তারা শুধরে দিবে। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেটা আর থাকে না। বয়স বাড়ার সাথে আমরা হয়ে যায় স্বাধীনচেতা মানুষ। নিজের ভালোমন্দ বোঝার ক্ষমতা নিজেকেই নিতে হয়। কোনো ভুল করলে তখন আর কেউ শুধরে দিতে আসবে না। আপনার ভুল আপনাকেই শুধরাতে হবে। এবং আপনার ভুলের মাশুল আপনাকেই গ্রহণ করতে হবে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমরা যেমন স্বাধীনতা পায় তেমনই আমাদের কাধেঁ তখন দায়িত্বের বোঝা! আর দায়িত্ব আমাদের পালন করতেই হয়। কারণ আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে আমরা কেমন কাজ করছি সেটার উপর।
জীবনের একেকটা পর্যায় পার করতে হয় আমাদের। যে সময় যে কাজটা আমাদের করা দরকার সেসময় সে কাজটাই আমাদের করে ফেলা উচিত! আপনার জীবনে পড়ার একটি সময় থাকে। তখন যদি আপনি পড়াশোনা না করেন তাহলে সামনের জীবন আপনার ভালো হবে না সেটা বাস্তব। আবার আপনার যে সময়টাতে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করা দরকার তখন যদি পরিশ্রম না করেন তখনও কিন্তু সামনের জীবন ভালো হবে না। আপনার বয়স বাড়ছে মানে আপনার দায়িত্ব বাড়ছে। দিনশেষে আপনার জীবিকার জন্য আপনাকেই লড়তে হবে।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে সময় ম্যানেজমেন্ট করাটাও একটা ইস্যু হয়ে যায়। আপনার ফ্যামিলি, প্রিয়জন সময় চাই এখন যদি সময় দিতে না পারেন তাহলে তাদের মাঝে তৈরি হয় অভিমান। সব কাজ শেষ করে হলেও তাদের সময় দিতে হয়। এসবই জীবনের অংশ! দায়িত্ব থাকা ভালো। তবে নিজের জন্য সময় বের করাটাও জরুরি। যদি নিজের জন্য সময় বের করতে না পারেন তাহলে ক্লান্তি অনুভব করবেন, হতাশায় ভুগবেন। এজন্য দায়িত্ব যতই বাড়ুক না কেন নিজের জন্য সময় রাখা জরুরি।
আসলে মানুষের জীবনে ব্যস্ততা থাকবেই। আপনি যদি ব্যস্ততায় অভ্যস্ত হয়ে পরেন তাহলে আপনার জীবনটা সহজ হয়ে যায়। আমার বাস্তব জীবনের কথায় যদি বলি। আমি সবসময় চেষ্টা করি নিজেকে ব্যস্ত রাখার। কারণ ব্যস্ত থাকলে সব ধরনের ডিস্ট্রাকশন থেকে নিজেকে দূরে রাখা যায়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ব্যস্ততা বাড়বে জীবন সম্পর্কে উপলব্ধি করার ক্ষমতা বাড়বে। আপনার চিন্তাশক্তি উন্নত হবে। আসলে দায়িত্ব আমাদের চিন্তাশক্তিকে বদলে দেয়। জীবন যতদিন বেচেঁ থাকবেন দায়িত্ব থাকবেই! এই সংক্ষিপ্ত জীবনে বয়স বাড়ার সাথে সাথে দায়িত্বের সামঞ্জস্যতা রাখা জরুরি। দিনশেষে আপনার আমিটাকেও যত্ন নিয়েন। ধন্যবাদ সবাইকে।
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। বর্তমানে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর বিএসসি করছি ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয় (ডুয়েট) থেকে । পাশাপাশি লেখালেখি করে আসছি গত চার বছর ধরে। ভালো লাগার জায়গা হলো নিজের অনুভূতি শেয়ার করা, আর সেটা আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,কবিতা লেখা,গল্প লেখা ,রিভিউ,ডাই এবং আর্ট করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।



