শিউলি গাছের নিচে রেখে যাওয়া ভালোবাসা

উঠানের কোণে শিউলি গাছটা লাগিয়েছিলেন দাদি। তখন মিতু এত ছোট ছিল যে গাছের চারায় পানি দিতে গেলেই নিজের জামাটাই বেশি ভিজিয়ে ফেলত। দাদি হাসতেন, তারপর ছোট্ট মগটা ধরে দুজনে মিলে গোড়ায় পানি ঢালতেন।

অনেক বছর পর মিতু গ্রামে ফিরল এক শরতের বিকেলে। বাড়ির কাঠের দরজা, বারান্দার পুরোনো চেয়ার, রান্নাঘরের তাক—সবই চেনা। শুধু দাদি নেই।

শিউলি গাছটা এখন অনেক বড়। কয়েকটা ডাল বেড়ার বাইরে ঝুঁকে পড়েছে। নিচে শুকনো পাতা জমে আছে। মিতু ব্যাগ রেখে কিছুক্ষণ গাছটার পাশে দাঁড়িয়ে রইল।

পরদিন খুব ভোরে ঘুম ভাঙল তার। জানালা খুলতেই শিউলির গন্ধ। বাইরে এসে দেখল, সাদা পাপড়ি আর কমলা বোঁটায় গাছতলার মাটি ভরে আছে।

ছোটবেলায় দাদির সঙ্গে ফুল কুড়াত সে। মিতু তাড়াহুড়ো করে মুঠোভর্তি ফুল তুলত, সঙ্গে মাটিও উঠে আসত। দাদি একটা একটা করে ফুল কুড়িয়ে আঁচলে রাখতেন।

সেই সকালে মিতুও নিচু হয়ে বসল। ধীরে ধীরে ফুল তুলতে লাগল। একটা ফুলের পাপড়িতে শিশির জমেছিল। হাতে নিতেই ঠান্ডা পানি আঙুল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল।

রান্নাঘরের তাকে দাদির ছোট্ট পিতলের বাটিটা পাওয়া গেল। মিতু সেটা ধুয়ে ফুলগুলো সাজিয়ে রাখল বারান্দার টেবিলে।

বাবা চা নিয়ে এসে থেমে গেলেন।

“তোর দাদিও এখানে রাখত।”

মিতু বাটিটা একটু মাঝখানে সরিয়ে দিল। বাবা পাশের চেয়ারে বসলেন। অনেকক্ষণ দুজনের কেউ কথা বলল না। উঠানে রোদ নামছিল, আর চায়ের কাপের ওপর দিয়ে ভেসে আসছিল শিউলির গন্ধ।

শহরে ফেরার সকালে মিতু গাছের চারপাশের আগাছা পরিষ্কার করল। পানি দেওয়ার সময় বাবা এসে বললেন, “আমি দেখব গাছটা। তুই মাঝে মাঝে আসিস।”

মিতু খালি মগটা নামিয়ে রাখল। এবার ফেরার তারিখটা ঠিক করেই সে বাড়ি ছাড়ল।

🌼 আপনার শৈশবের কোন গাছ বা ফুলের সঙ্গে প্রিয় কারও স্মৃতি জড়িয়ে আছে?