স্মৃতি কথা - আমাদের ধর্মীয় সম্প্রীতি
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসী, কেমন আছেন আপনারা? আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আজ আপনাদের সাথে একটি স্মৃতি কথা শেয়ার করব। যার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে, আমাদের গ্রামের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চমৎকার ইতিহাস।

মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় উদ্দীপনার মাস, মাহে রমজান, চলে এসেছে। আর কিছুদিন পরই রমজান মাস শুরু হবে। আমাদের জন্য অবশ্যই পালনীয় পাঁচটি কাজের মধ্যে একটি হচ্ছে রমজান মাসে রোজা রাখা। অধিক পরিমাণ সওয়াব অর্জন করার সুযোগ রয়েছে এই পবিত্র রমজান মাসে।
আমার গল্প ঘিরে রয়েছে এই মাস। রমজান মাসে আমাদের জন্য সারাদিন না খেয়ে থাকা যেমন ফরজ, অর্থাৎ অবশ্যই পালনীয়, তেমনি সময় মত ইফতার করাও আবশ্যক। আমাদের গ্রামাঞ্চলে সাধারণত বুট - মুড়ি এবং এর সাথে অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ইফতার করা হত। আমি সেই সময় সময়ের কথা বলছি, যখন আমাদের গ্রামের মানুষরা মুড়ি কিনতো না। মুড়ি ভেজে আনতো।
আমাদের গ্রামের ঠিক মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে ডাকাতিয়া নদী। নদীর পূর্বপাশকে বলা হয় পূর্ব আলোনিয়া আর পশ্চিম পাশকে বলা হয় পশ্চিম আলোনিয়া। নদীর দুই পাশে নদী ঘেঁষেই হিন্দু পাড়া অবস্থিত। এই হিন্দু পাড়াতে বেশ কয়েকটি হিন্দু পরিবার ছিলো যারা মুড়ি ভাজার জন্য সিদ্ধ হস্ত ছিল। আমরা রোজা আসার আগে মুড়ি ভাজার জন্য জমানো চাল নিয়ে সেখানে চলে যেতাম। দল বেঁধে যেতাম একসাথে অনেক জন। সকালবেলা যেতাম, কারন অনেক সময় লাগতো। একেক জন একেকজনের কাছে গিয়ে মুড়ি ভাজতো। অনেক সময় লাগতো। এমনও হয়েছে, আমরা সকালবেলা গিয়েছি, সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে পড়েছে তখন আমরা ফিরেছি।
হিন্দু বাড়িগুলো ফুল গাছে সাজানো ছিল। গাছগুলো ফুলে ফুলে ভরে থাকতো। বাড়ির উঠোনো যথেষ্ট পরিষ্কার থাকত। যা আমাদের মুসলমান বাড়িগুলোতে সচরাচর দেখা যেত না। আমরা সেখান থেকে ফুল ছিড়তাম আর খেলতাম। বড়রা মুড়ি ভাজার সেখানে বসে থাকতো।
এভাবেই আমরা নিজেদের অন্যতম একটি বড় ফরজ কাজ আদায়ের জন্য হিন্দুদের সাহায্য নিতাম। সাহায্য নিতাম সেই খাবার প্রস্তুতে, আল্লাহর ওয়াদা অনুযায়ী যেই খাবারে আমাদের বরকত রয়েছে। অর্থাৎ ইফতারে আমাদের বরকত রয়েছে।
এখন অবশ্য সেইদিন নেই। উনারাও আর মুড়ি ভাজেন না। আমরাও অলসতার কারণে মুড়ি ভাজতে যাই না। মুড়ি এখন বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। আমাদের রুচিরও অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন আর গণহারে সবাই মুড়ি খায় না। যার কারণে সেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিটা হারিয়ে গেছে কোথাও না কোথাও।