জেনারেল রাইটিং - বই উৎসব
আসালামুআলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসি, কেমন আছেন আপনারা? আশা করি সকলেই ভাল আছেন। আজ আপনাদের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং শেয়ার করব। যার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে, বই। অর্থাৎ, বছরের শুরুতে যে বই উৎসব হয়, তা নিয়ে আজ আপনাদের সাথে আমি কথা বলব।

নতুন একটি বছর মানেই সবকিছু নতুন করে শুরু করার নতুন একটি অঙ্গীকার। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সেই অঙ্গীকার সবচেয়ে দারুন ভাবে কাজ করে। কারণ নতুন বছর মানে নতুন একটি ক্লাস, নতুন করে শুরু।
এই নতুন শুরুকে আরো আনন্দময় করে তোলে প্রত্যেক বছরের শুরুতে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে আসা নতুন বই। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সেই শুরু থেকেই প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারিভাবে নতুন বই দেওয়া হত। বর্তমান সময় নিম্ন মাধ্যমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদেরকেও সরকারিভাবে নতুন বই দেওয়া হয়। বছরের শুরুতে নতুন বই আনতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের উৎসবের আমেজ তৈরি করে। তাদের মনে নতুন শিহরণ জাগে। নতুন ক্লাস, নতুন বই, নতুন করে তাদেরকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়। নতুন করে নিজেদেরকে ভাবতে শেখায়। সবকিছুর মধ্যে এক ধরণের নতুনত্ব আসে। এ যেন শীত শেষে বসন্তকালে গাছে গজিয়ে ওঠা নতুন কচি সবুজ পাতা।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে তখন একটা উৎসব উৎসব ভাব পরিলক্ষিত হয়। তাদের মধ্যে পড়ালেখা নিয়ে নতুন এক ধরনের আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়। নতুন বইয়ের পাতায় পাতায় স্বপ্ন আঁকা থাকে। সেই স্বপ্ন শিক্ষার্থীরা ধারণ করে তাদের জীবনকে আলোকিত করার পরিকল্পনা করে।
বই উৎসবে ছোটবেলার কথা আমার মনে পড়ে যায়। যখন আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়তাম, তখন খুব সকালবেলা স্কুলে গিয়ে হাজির হতাম। ক্লাস অনুযায়ী আমরা সিরিয়াল ধরে দাঁড়াতাম। ধাপে ধাপে আমাদের সবার মধ্যে বই বিলি করা হতো। আমরা সে বই মাথায় নিয়ে খুশিতে নাচতে নাচতে বাড়ি আসতাম। নতুন বইতে কি কি আছে তা খুজতাম দল বেঁধে তারপর বই মলাট করতাম। যাতে নতুন বই নতুনই থাকে। নতুন বই একমাস খুব যত্ন সহকারে রাখতাম, যাতে বই পুরাতন না হয়। বছরের মাঝামাঝি সময় দেখা যেত আমরা বের করতাম কার বইটি এখনো কত নতুন। তা নিয়ে আমাদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা হতো। খুবই আনন্দময় দিন ছিল সেগুলো।