জেনারেল রাইটিং - দূষিত শহর ঢাকা।
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসি, কেমন আছেন আপনারা? আশা করি সকলেই ভাল আছেন। আজ আপনাদের সাথে আমাদের সকলের প্রিয় নগর ঢাকা নিয়ে কথা বলব। অবশ্য ঢাকার গুনগান নয় বরং ঢাকা যে বসবাসের স্থান হিসেবে চূড়ান্ত রকমের অযোগ্য, সেই বিষয়টি নিয়েই কথা বলব।

বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষতা আমরা খুব সহজেই কোন শহর কোন গ্রাম তথ্য পেয়ে যাই। নানা বিষয়ের নানান রকমের তথ্য। সেভাবেই আমরা পাই, পরিবেশ দূষণের দিক থেকে ঢাকা পৃথিবীর দ্বিতীয় দূষিত শহর। এটি আমাদের ঢাকা শহরের জন্য খুবই লজ্জাজনক একটি প্রাপ্তি। তাছাড়া ঢাকা শহরের জ্যামও বিভিন্ন দেশের শহরগুলোর মধ্যে নিজের ভালো একটি অবস্থান তৈরি করেছে।
এগুলো তো হচ্ছে ইনডেক্স থেকে প্রাপ্ত তথ্য, যা পৃথিবীর অন্যান্য শহরগুলোর সাথে তুলনা করে প্রস্তুত করা হয়েছে। আজ আমি আপনাদের বলব ভিন্ন কিছু কথা। পরিবেশ দূষণের বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরি থাকে। যেমন - বায়ুদূষণ, পানি দূষণ, শব্দ দূষণ, ময়লা - আবর্জনার স্তুপ ইত্যাদি। আমি নিশ্চিত ঢাকা শহরের মত দূষণের দিক থেকে এগিয়ে পৃথিবীর আর কোন শহর নেই।
শহরের রাস্তায় দেদারছে বালু উড়ছে। আপনি একটু শান্তির জন্য পার্কে হাঁটতে যাবেন, গিয়ে দেখবেন পার্কের নানা জায়গায় মানুষ ইউরিনেশন করে জায়গাটিকে দূষিত করে ফেলেছে। রাস্তার ফুটপাতে হাটার কোন জায়গা নেই, কারণ সেখানে টং দোকান বসেছে। রাস্তা পারাপারের জন্য ফুটো ব্রিজে উঠবেন দেখবেন সেখানেও অস্থায়ী দোকান বসে আছে। রাতের বেলা সেখানে নেশাখোররা থাকে যারা কখনো কখনো ছিনতাইয়ের সাথেও জড়িত হয়ে যায়।
ঢাকা শহরের সবগুলো রাস্তা দিয়েই সব সময় গাড়ি চলাচল করে। গাড়ির হর্নের এমনই এক অবস্থা আপনি দিনের বেলা নিঃশব্দ পরিবেশ পাওয়ার কথা চিন্তাও করতে পারবেন না। কিছু কিছু এলাকার রয়েছে যেগুলো আবাসিক এলাকা। সেখানে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, যেমন - বাস, লেগুনা ইত্যাদি প্রবেশ করে না। কিন্তু সেখানেও আপনি শান্তি পাবেন না। কারণ সেখানে হকাররা পরিবেশ গরম করে রাখে। একটা সময় ছিল যখন তারা মুখে চিৎকার করত। কিন্তু এখন সেখানে রয়েছে ক্ষুদ্র মাইক্রোফোন। যা শব্দকে আরো কর্কশ করে তোলে। নিঃসন্দেহে বলা যায়, ঢাকা শহর কোনভাবে আর বসবাসর উপযুক্ত হিসেবে নেই।

...
