শৈশবের ঈদ আনন্দ!
সবাইকে জানাই পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক। এইতো কিছুদিন আগে একটি ঈদ উদযাপন করলাম। দেখতে দেখতে আরও একটি ঈদ চলে আসলো। আসলে সময় কতো দ্রুত চলে যাচ্ছে বুঝায় যাচ্ছে না। জীবন থেকে সময়গুলো এভাবেই হারিয়ে যায়। আসলে শৈশবের ঈদ আর বর্তমানের ঈদের মধ্যে অনেক পার্থক্য দেখতে পায়। শৈশবের ঈদে আলাদা একটা ভালো লাগা কাজ করতো।
কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঈদের ফিলিংসটাও যেন চলে যাচ্ছে। ছোটবেলায় ঈদ আসলেই অন্য একটা ফিলিংস কাজ করতো! ঈদের আগেই পরিবারের বড়রা বড় গরু কিনে নিয়ে আসতো। আর গরু নিয়ে আসার পর আমাদের কি যে আনন্দ লাগতো। ঈদের আগের রাতে আমরা সারারাত গরু পাহাড়া দিতাম। ঈদের রাতে গ্রামাঞ্চলে মাঝে মাঝে গরু চুরি হতো। এজন্য ঈদের আগের রাতে গরু পাহাড়া দিতে হতো।
গরু নিয়ে আসার পর আমাদের অন্যরকমের একটা ফিলিংস কাজ করতো। আমরা ছোটরা সবাই মিলে গরুলে খর, ভূষি খাওয়াতাম। গরুর শরীর মুছে দিতাম। আবার কান্নাও হতো কারণ গরু কুরবানিতে জবাই করা হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য। আবার ঈদের আগের রাতে যখন আকাশে চাদঁ দেখা যেত তখন অন্যরকম একটা ফিলিংস কাজ করতো!
বাড়ির সবাই আমরা চাদঁ দেখতে রাস্তায় চলে যেতাম। সবাই মিলে হৈহুল্লোড় শুরু করে দিতাম চাদঁ দেখে। চাদঁ দেখে অনেকেই আবার বাজি ফুটাতে। নতুন ঈদকে এভাবেই বরণ করে নিতো। আবার মেহেদী দেয়ার ধুম পরে যেত। পরিবারের ছোটরা হাতে মেহেদী দিতো। ছোটবেলায় আমরাও মেহেদী দিতাম। বিশেষ করে হাতে মেহেদী দিয়ে ঈদ মোবারক লেখতাম। আর এটা সবাইকে দেখাতাম।
আর এখন হাতে মেহেদী দেয়া হয় না। কেমন যেন বিরক্ত লাগে। আসলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের রুচিরও পরিবর্তন হয়। আপনার একটা সময় যে কাজটা করতে ভালো লাগতো সেটা বয়স বাড়ার সাথে সাথে দেখবেন আর ভালো লাগে না। তবে শৈশবের ঈদের সময়গুলো আজও স্মৃতিতে রয়ে গেছে।

