নির্বাচনকে ঘিরে জাল টাকা ছড়িয়ে পড়া ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা।।
বাংলা ভাষার কমিউনিটি
হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই অনেক ভালো এবং সুস্থ আছেন
বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন এলেই দেশের পরিবেশ একটু অন্যরকম হয়ে যায়। মানুষের ভিড় বাড়ে, প্রচারণা বাড়ে, টাকা-পয়সার লেনদেনও হঠাৎ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ঠিক এই সুযোগটাই নেয় জাল টাকা ছড়ানো চক্র। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই বাজারে জাল নোটের সংখ্যা বেড়ে যায়। কয়েকদিন আগেই আমি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে দেখলাম এক রিকশাওয়ালার হাতে চলে এসেছে জাল টাকা। সে তো বুঝতেই পারেনি, কিন্তু নোটটা হাতে নিয়েই আমার চোখে পড়ে যায়। এমন ঘটনা এখন দেশের বহু জায়গায় ঘটছে।
নির্বাচনের সময় কেন জাল টাকা এত সহজে ছড়ায়? কারণ খুব সহজ। মানুষের ব্যস্ততা থাকে বেশি, সবাই তাড়াহুড়ায় থাকে। দোকানদার, রিকশাওয়ালা, ভ্যানচালক এসব মানুষের কাছে জাল টাকা ধরিয়ে দেওয়া সবচেয়ে সহজ। তারা সাধারণত নোট ঠিক করে পরীক্ষা করতে পারেন না। এছাড়া প্রচারণা, পোস্টার বানানো, গাড়ি ভাড়া, রাস্তার মানুষের মধ্যে টাকা বিতরণ এসব জায়গায়ও জাল টাকা ঢুকে পড়ার সুযোগ থাকে। জাল টাকা ব্যবসায়ীরা ঠিক এই সুযোগটাই কাজে লাগায়।
কিন্তু একটু সচেতন হলেই আমরা অন্তত নিজেরা অনেকটা নিরাপদ থাকতে পারি। জাল টাকা চেনা খুব কঠিন কিছু না। শুধু চোখ-কান খোলা রাখতে হবে।
একটা আসল নোট হাতে নিলে প্রথমেই লক্ষ্য করবেন নোটের কাগজটাই আলাদা। শক্ত, খসখসে এবং টেকসই মনে হবে। জাল নোট সাধারণত নরম বা মসৃণ হয়, কখনো কখনো ফটোকপির মতোও লাগে। নোটটি আলোর সামনে ধরলে বঙ্গবন্ধুর একটি স্পষ্ট জলছাপ দেখা যাবে। আসল নোটে এই জলছাপ খুব পরিষ্কার, কিন্তু জাল নোটে তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঝাপসা, বিকৃত বা ঠিকমতো দেখা যায় না।
আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো সিকিউরিটি সুতো। আসল নোটে মাঝ বরাবর একটি উজ্জ্বল রঙের সুতো থাকে, যা নড়াচড়া করলে রঙ একটু পরিবর্তনও করে। জাল নোটে সাধারণত এই সুতো আসলে সুতোই থাকে না শুধু ছবির মতো প্রিন্ট করা থাকে।
তাছাড়া নোটে কিছু অংশ হাত দিয়ে ছুঁলে একটু উঁচু অনুভূত হয়—এটাকেই বলে বিশেষ প্রিন্টিং। বাংলাদেশ ব্যাংক, মূল্যমান ও বঙ্গবন্ধুর ছবি এগুলো আসল নোটে একটু উঁচু থাকে। জাল নোট ঠিক এভাবে তৈরি করতে পারে না, তাই জাল নোট বেশি সমতল লাগে।
আরেকটা সহজ টিপস হলো নোটের লেখা ও ডিজাইন। আসল নোটের লেখা খুব পরিষ্কার, ধারালো। জাল নোটে অনেক সময় লেখা ঝাপসা বা ভাঙা ভাঙা দেখতে লাগে। বিশেষ করে মাইক্রো লেখাগুলো জাল নোটে ঠিক থাকে না।
এখন কথা হলো জাল টাকা বাজারে এলে ক্ষতি কার? সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় সাধারণ মানুষের। কারণ ধরা পড়লে জাল নোট কেউ নেয় না। দোকানদার ফেরত দেবে, ব্যাংক নেবে না ফলে যে মানুষটি অজান্তে নোটটি পেয়েছিল, সেই মানুষটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রিকশাওয়ালার হাতে যদি ৫০০ টাকার জাল নোট দেওয়া হয়, তার জন্য সেটি পুরো দিনের আয় হারানোর মতো ঘটনা।
নির্বাচনের সময় বিশেষ সতর্ক থাকার কারণ হলো এই সময় জাল নোট সবচেয়ে বেশি ছড়ায়। তাই বাজারে কেনাকাটা করার সময় কোনো বড় নোট হাতে নিলেই একবার আলোর সামনে ধরে দেখুন। নোটের কাগজ, জলছাপ, সুতো এসব চোখে দেখলেই বোঝা যায়।
শেষ কথা হলো, জাল টাকার বিরুদ্ধে লড়াই শুধু পুলিশের বা ব্যাংকের দায়িত্ব নয়। প্রত্যেক মানুষের সচেতনতা এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। আমরা যদি একটু খেয়াল করি, একটু লক্ষ্য করি, তাহলে নিজেরা যেমন নিরাপদ থাকব, তেমনি সমাজেও জাল টাকা ছড়ানো অনেক কমে যাবে। সচেতন থাকাই আমাদের সবার জন্য সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server

















