জেনারেল রাইটিং - শুনা কথায় বিশ্বাস ও ভোগান্তি।
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসি, কেমন আছেন আপনারা? আশাকরি সকলেই ভালো আছেন। আজ আপনাদের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং শেয়ার করবো। যার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে, শুনা কথায় বিশ্বাস করে ভোগান্তি।

আমাদের মধ্যে একটা প্রবণতা হচ্ছে শুনা কথায় বিশ্বাস করা। ফলস্বরূপ, ভোগান্তিতে পড়া। বিশেষ করে কেউ যদি ঠাঁট বাটে চলে এবং শুদ্ধ ও সুন্দর মতো কথা বলে, আমরা সহজেই তাদের কথা বিশ্বাস করি। যার কারনে প্রতারকরাও এই পন্থা বিশ্বাস করে আর মানুষকে ঠকায়।
রাস্তার ধারে যারা সাপের তাবিজ বিক্রি করে, তাদেরকে সবসময় দেখবেন একটি গল্প সহকারে হাজির হয়। কিভাবে সে এই তন্ত্র শিখেছে। বেশির ভাগই শুরু হয় তার শ্বশুরের হাত ধরে, পাহাড়ের কোন গুহায় কিংবা বড় কোন গাছ তলায়। এমন সুরে সুরে, তাল মিলিয়ে একসময় সাপ বশীভূত হোক আর না হোক, আমরা বশীভূত হয়ে যাই। আর অনর্থক তাবিন ক্রয় করে থাকি।
আমাদের ওই অঞ্চলে বিদেশ যাওয়াত প্রবণতা বেশি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। কিন্তু গত এক দশক ধরে অর্ধেক মানুষই ধরা খেয়েছে। বাকি অর্ধেকের অর্ধেক আবার নিজের চেষ্টায় কোন একটা কাজ জুটিয়েছে। এদেরকে মূলত একই কায়দায় বশীভূত করা হয়। আমি নিজেও একবার আরব দেশে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করি। তখন এক এজেন্সির লোক আমাকে বলেছিলো, সৌদি আরব তো অনেক কাছেই। আমাদের দেশেও ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে ৮ ঘন্টা সময় লাগে। কিন্তু সৌদি যেতে আসতে লাগে মাত্র ৬ ঘন্টা। আসলে, ঘটনা তো সত্য। ঠিক এভাবেই আমাদেরকে মুখরোচক গল্প শুনিয়ে তারা কনভিন্স করে আমাদের জমানো টাকা তাদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য। যাইহোক, আমি নিজে অবশ্য আর যাইনি।
কিন্তু বহু মানুষ আছে যারা এসবে বিশ্বাস করে। আমি যখন ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে গিয়েছিলাম, তখন দেখেছি, হাজারখানেক ছেলে, বুড়ো প্রতিদিন সৌদি ভিসা সেন্টারে যায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেয়ার জন্য। যাক সে কথা, আমাদেরকে অবশ্য যে কোন কথাই হোক, আমাদেরকে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করতে হবে। নচেৎ পস্তাতে হবে।