বৃদ্ধ পিতা-মাতার অনুভূতি ও তাঁদের প্রতিটি সন্তানের যত্নশীল হওয়া।
"আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির প্রিয় সদস্যগণ, সবাই কেমন আছেন?আশা করি সবাই ভালো আছেন। মহান সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহে আমিও ভালো আছি।আজকে আমি"বৃদ্ধ পিতা-মাতার অনুভূতি ও তাঁদের প্রতি প্রতিটি সন্তানের যত্নশীল হওয়া"শিরোনামে একটি লেখা আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে এসেছি। আশা করি সবাই আমার লেখাটি মূল্যায়ন করবেন।
![]() |
|---|
প্রতিটি সন্তান তাঁদের পিতা-মাতার অসিলায় এই পৃথিবীর মুখ দেখতে পান। সন্তান জন্মের পর থেকে যখন বড় হতে থাকে, পিতা-মাতাও ক্রমশই বৃদ্ধ বয়সের দিকে এগুতে থাকেন। এভাবেই সন্তানের পরিপক্ক বয়সে প্রতিটি পিতা-মাতা বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হন।তখন তাঁদের অবস্থা এমন হয় যে,তাঁরাও একটি শিশুর মতো অবুঝ বা শক্তিহীন হয়ে পড়েন।বয়সের ভারে নুয়ে পড়েন।একা চলতে কষ্ট হয়। নিজের কাজটাও নিজে করতে পারেননা।তাইতো অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন হয়।তখন তাঁদের সময় যেন আর কাটে না।সে সময় তাঁদের ফেলে আশা প্রতিটি স্মৃতি হৃদয়কে নাড়া দেয়। কিন্তু তা শোনার মতো কেউ থাকে না।তাঁদের সেই সুখ দুঃখের গল্পগুলো বলে মনকে শান্ত করার জন্য একজন বিশ্বস্ত মানুষের বড্ড অভাব অনুভব করেন। ছোট্ট বাচ্চাদের মতো কতকিছুই খেতে মনে চায়।তখন তাঁদের মনে চায়,যে সন্তানকে মায়ের গর্ভে আসার পর থেকে আদর যত্নে গড়ে তুলেছিলেন,সে সন্তানের বুকে মাথা রেখে একটু ঘুমায়।
এমতাবস্থায় প্রতিটি সন্তানের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো বৃদ্ধ পিতা-মাতার সকল অনুভূতিকে বোঝার চেষ্টা করা। ছোট্ট সন্তানকে হাঁটা শেখাতে গিয়ে যেমন পিতা মাতা সন্তানের পথ চলার সঙ্গী হয়েছেন,তাঁদের বৃদ্ধ বয়সেও প্রতিটি সন্তানকে পিতা-মাতার পথ চলার সঙ্গী হওয়া একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য।বয়সের ভারে যখন নুয়ে পড়েন,পথ চলতে একটি লাঠির প্রয়োজন হয়,তখন সন্তানের কাজ হচ্ছে পিতা-মাতার লাঠি হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করা। প্রতিটি সন্তানের উচিত তাঁর সারাদিনের কর্মব্যস্ততার মাঝেও বৃদ্ধ পিতা-মাতার সাথে গল্প করে সময় কাটিয়ে দেওয়া। সন্তানের ছোট্ট বয়সে বাড়তি খাবার হিসেবে পিতা মাতা যেমন বিভিন্ন মিষ্টি বা খাদ্য দ্রব্য সন্তানের জন্য মমতা ভরে খাওয়াতেন,ঠিক তেমনি করে সন্তানের উচিত পিতা-মাতাকেও ভাতের পাশাপাশি মিষ্টি বা বাড়তি খাদ্য দ্রব্য খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা।মাঝেমধ্যে তাঁদের সাথে হাঁটতে বের হওয়া। পিতা-মাতার পুরোনো স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো ঘুরিয়ে দেখানো। তাঁদের মনের মধ্যে জমে থাকা গল্পগুলো একান্ত মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা।তাঁদের কাপড়গুলো পরিপাটি করে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা।ভালো ভালো পোশাকের ব্যবস্থা করা।এসবই প্রতিটি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য।মনে রাখতে হবে, মহান সৃষ্টিকর্তা বাঁচিয়ে রাখলে সবাইকেই বৃদ্ধ বয়সে হাজির হতে হবে।সে সময় কি অবস্থা হবে একটাবার চিন্তা করলেই বোঝা যাবে।তাই আসুন,এখন থেকেই আমরা আমাদের পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও যত্নবান হয়।
প্রিয় বন্ধুরা, আজকের মতো লেখাটি এখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্টে আপনাদের সাথে সাক্ষাৎ হবে ইনশা-আল্লাহ।সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিদায় নিচ্ছি।
Sort: Trending
[-]
successgr.with (75) last month

