সোনার দাম বাড়লে বা কমলে আমাদের আয় ব্যয়ের ওপর কী প্রভাব ফেলে।।
বাংলা ভাষার কমিউনিটি
হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো এবং সুস্থ আছেন। অনেকদিন পরে আজকে $BTCএক লাখ ডলারের নিচে নেমেছে। যদিও কিছুক্ষণ পরে আবার এক লাখ প্লাস হয়ে গেছে। বিটিসির সাথে পাল্লা দিয়ে স্বর্ণের দামও কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশের অনেক মানুষ ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা ভরি স্বর্ণ কিনেছিল। এখন স্বর্ণের দাম কিছুটা কমার কারণে তারা চিন্তিত। বর্তমানে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ দুই হাজার টাকা প্লাস। এখন স্বর্ণের দাম কমলে বা বাড়লে আমাদের অর্থনীতিতে কি প্রভাব ফেলে সে বিষয়টি নিয়ে আজকে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
বাংলাদেশের মানুষের কাছে সোনা শুধু অলঙ্কার নয়, এটি এক ধরনের নিরাপদ বিনিয়োগ এবং সামাজিক মর্যাদার প্রতীক। তাই সোনার দামের ওঠানামা আমাদের অর্থনীতি, সঞ্চয় এবং দৈনন্দিন ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে যখন আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্সে রেকর্ড ছুঁইছুঁই, তখন দেশের মানুষও অনুভব করছে এর আর্থিক চাপ।
সোনার দাম বাড়লে প্রথম আঘাত পড়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর। যারা বিয়ে, উৎসব বা সামাজিক অনুষ্ঠানে সোনা কেনার পরিকল্পনা করেন, তারা সেটি পিছিয়ে দেন। এছাড়া দাম বাড়লে অলঙ্কার ব্যবসা মন্থর হয়ে যায়, কারণ ক্রেতারা অপেক্ষায় থাকেন দাম কমার জন্য।
সঞ্চয়ের ধরন বদলায়, অনেকে তখন ব্যাংক ডিপোজিট বা ডিজিটাল বিনিয়োগে ঝুঁকে পড়েন।বাজারে টাকার প্রবাহ কমে যায়, কারণ সোনায় বিনিয়োগ মানে টাকাকে দীর্ঘমেয়াদে আটকে রাখা।
এই অবস্থায় অনেকেরই মাসিক বাজেটের ভারসাম্য নষ্ট হয়। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি মেয়ের বিয়ের জন্য ৫ ভরি সোনা কেনার পরিকল্পনা করে থাকেন, আর দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে তাকে অতিরিক্ত ৫০,০০০ থেকে ৭০,০০০ টাকা বেশি খরচ করতে হতে পারে। এর ফলে অন্য খাতে ব্যয় কমিয়ে দিতে হয়- যেমন ঘরোয়া কেনাকাটা, শিক্ষা বা ভ্রমণ ইত্যাদি।
সোনার দাম কমলে সাধারণত মানুষ ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং বাজারে সোনার চাহিদা বাড়ে। গহনার বিক্রি বেড়ে যায়, ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হন। অনেকেই এটিকে সঞ্চয়ের সুযোগ হিসেবে দেখেন এখন কিনলে পরে দাম বাড়লে লাভ হবে। সঞ্চয়ের পাশাপাশি বিনিয়োগের আগ্রহও বেড়ে যায়।
তবে সোনার দাম কমলে কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিও হয়। যারা আগে বেশি দামে কিনেছিলেন, তাদের বিনিয়োগমূল্য হ্রাস পায়। বিশেষ করে বড় ব্যবসায়ীদের জন্য এটি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশের পরিবারগুলো সাধারণত সঞ্চয়ের তিনটি জায়গায় বিশ্বাস রাখে - ব্যাংক বা সঞ্চয়পত্র, জমি বা সম্পত্তি এবং সোনা। যখন সোনার দাম বাড়ে, তখন মানুষ সোনা কেনা থেকে দূরে সরে গিয়ে ব্যাংকে টাকা জমাতে শুরু করে। কিন্তু এতে ব্যাংকের ওপর চাপ বাড়ে এবং মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবও দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে, সোনার দাম কমলে মানুষ নগদ টাকা দিয়ে সোনা কিনতে চায়, ফলে সঞ্চয়ের পরিমাণ কমে যায়। বাজারে তরল টাকার প্রবাহ কমে, যা অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলে।
সোনার দাম বাড়া বা কমা দুটোই স্বাভাবিক চক্রের অংশ। তাই সোনায় বিনিয়োগ করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থাকা জরুরি। দাম বেড়ে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে ধীরে ধীরে সঞ্চয় বাড়ানো উচিত। দাম কমলে হঠাৎ সব টাকা সোনায় ঢেলে না দিয়ে পরিকল্পিতভাবে কেনা উচিত।
সোনার দাম আমাদের অর্থনৈতিক মানসিকতা, পারিবারিক ব্যয় এবং সঞ্চয়ের নীতিতে বড় প্রভাব ফেলে। দাম বাড়লে আমাদের ব্যয় সংকুচিত হয়, আবার দাম কমলে আমরা সঞ্চয়ের ঝুঁকি নিই। তাই সচেতনভাবে পরিকল্পনা করে সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য রাখা খুবই প্রয়োজন। সোনা শুধু ধনসম্পদের প্রতীক নয়, এটি আমাদের অর্থনৈতিক সচেতনতারও একটি আয়না।
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server

















