ক্রিয়েটিভ রাইটিংঃ- সুযোগের অপব্যবহার।
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসি, কেমন আছেন আপনারা? আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আজ আপনাদের সাথে একটি ক্রিয়েটিভ রাইটিং শেয়ার করব, যার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে, সু্যোগের অপব্যবহার।

মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে একসাথে বসবাস করার ফলে, একজনের সাথে অন্যজনের সম্পর্ক তৈরি হয়। সেই সম্পর্ক একসময় মজবুত হয় এবং কখন নিজেদের মধ্যে এক ধরনের অধিকার চলে আসে। সেই অধিকারের খাতিরে একজন অন্যজনের কাছে নানা রকম জিনিসের আবদার করে। আবদার রক্ষারও চেষ্টা করা হয়। কিন্তু অবস্থা এমন পর্যায়ে যায়, এই যে আবদার রক্ষা করে যে সুযোগটা দেওয়া হয়েছে, তার চরম অপব্যবহার করা হয়।
সব সময় যে এমনটা হয় তা কিন্তু নয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, বেশিরভাগের সময় এমন হয়। সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তার অপচর্চা এবং অপব্যবহার করা হয়। কোন কারনে যিনি সুযোগ দিয়েছেন তিনি যদি একটু বেশি নমনীয় হন তাহলে তখন অনধিকার চর্চার বিষয়টিও প্রবলভাবে শুরু হয়। মানুষ তৎক্ষণাৎ ভুলে যায় তার স্থান সম্পর্কে।
সুযোগ দেওয়া ব্যক্তি যখন আর সহ্য করতে পারে না, তখন তিনি যদি সুযোগ দেওয়া বন্ধ করে দেন, তখন অপরপক্ষ রুষ্ট হয়। দীর্ঘদিন সুযোগের ব্যবহার, অপব্যবহার করার বিষয়টি একদমই ভুলে যায়। সুযোগ দেওয়া ব্যক্তিকে রুষ্ট আচরণে মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত করে। এতদিন যে সুযোগ পেয়েছেন সে বিষয়ে নূন্যতম কৃতজ্ঞতাবোধ প্রকাশ করে না। বরং কৃতঘ্নের মত আচরণ করে।
এসব কারনেই সমাজে পরোপকারী মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এখন একজন আরেকজনকে পরামর্শ দেয়,
উপকার করো না। উপকারীকে বাঘে খায়।
বারবার এমন নিষ্ঠুরতার মুখোমুখি হওয়ায় এক সময় মানুষ এমন সিদ্ধান্তে আসতে বাধ্য হয়। এ যেন আমাদের এক অদ্ভুত আচরণ। যে আমাদেরকে সুযোগ দেয়, যে আমাদের উপকার করে, আমরা তারই ক্ষতি করি। চরম অবমাননা কর, কষ্টদায়ক, নিদারুণ এক সত্যি।
এমন আচরণ যে নির্দিষ্ট কোন জাতি বা স্থান বা গোষ্ঠী বা দেশের মানুষের, এমন না। এমন আচরণে সারা পৃথিবীর মানুষের মধ্যেই পরিলক্ষিত হয়। আমাদের সহজাত ঘৃণ্য এই প্রবণতা, আমাদের মনুষ্যত্ব নিয়েই প্রশ্ন জাগায়। তাহলে বেশিরভাগ মানুষই কি, কুপ্রকৃতির? উত্তর সম্ভবত হ্যাঁ-ই হবে। আমাদের কু-প্রভৃতি আমাদের কুরে কুরে খাচ্ছে।
