"বাড়িতে সয়াবিন দিয়ে তৈরি পিজ্জার রেসিপি ( Homemade pizza recipe with soyabeans)"
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশা করি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটা খুব ভালো কেটেছে।
বহুদিন যাবৎ আপনাদের সাথে কোনো রেসিপি শেয়ার করা হয় না। তাই ভাবলাম অনেকদিন আগে তৈরি করা একটা পিজ্জার রেসিপি আপনাদের সাথে আজ শেয়ার করি।
বর্তমানে পিজ্জা খেতে ভালোবাসে না এমন বাচ্চা খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে শুধু বাচ্চা কেন, বড়দের মধ্যেও এই খাবারটির সমান ভাবে জনপ্রিয়। আজকাল পিজ্জার এতো রকম প্রকারভেদ আছে যে, যে কোনো নামিদামি রেস্টুরেন্টে গেলে আপনাকে আগে ভাবতে হবে আপনি কোন পিজ্জা অর্ডার করবেন।
তবে আমি আজ যে পিজ্জা রেসিপিটি শেয়ার করবো, এটি খুবই সহজে তৈরি করা যায় এবং আমিও প্রথমবার এটি তিতলি ও তাতানের জন্যই তৈরি করেছিলাম। বাচ্চারা খেয়ে খুশি হয়েছিলো এটাই ছিলো আমার বড় পাওনা।
তবে ব্যক্তিগতভাবে যদি আমার কথা বলেন, আমি কোনোদিনও পিজ্জা ট্রাই করিনি, আর ভবিষ্যতেও করার কোনো ইচ্ছে নেই। কারণ এই খাবারটি আমার ব্যক্তিগতভাবে একেবারেই পছন্দ নয়। কিন্তু বাচ্চাদের মধ্যে খাবারটি জনপ্রিয়তা প্রচুর,আর তিতলি তাতানও ব্যতিক্রমী নয়। বিশেষ করে চিজ এর জন্য এটা ওদের কাছে অনেক বেশি আকর্ষণীয়। যাইহোক ওদের বায়না মেটাতেই একদিন বাড়িতে তৈরি করেছিলাম।
|
|---|
চলুন প্রথমে আপনাদের সাথে শেয়ার করি যে পিজ্জা বানানোর জন্য আমি কি কি উপকরণ ব্যবহার করেছিলাম।
|
|---|
এবার চলুন আপনাদের সাথে শেয়ার করি কিভাবে আমি বাড়িতে এই পিজ্জাটা বানিয়েছিলাম।
সবার প্রথমে একটা বাটি নিয়ে তার মধ্যে পরিমাণ মতো পিজ্জা পাস্তা সস, টমেটো সস, মেয়োনিজ ও গোলমরিচ দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। তিতলি ও তাতান একেবারেই ঝাল খেতে পারেনা। ওদের জন্য তৈরি করছিলাম বলে আমি গোলমরিচ গুঁড়ো কম দিয়েছি। আপনারা চাইলে একটু বেশি পরিমাণে দিতে পারেন।
এরপর পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম,ও সয়াবিন গুলো ছোট্ট ছোট্ট টুকরো করে কাটতে হবে। আমি সয়াবিন গুলোকেও টুকরো করে কেটে নিয়েছিলাম যাতে সেগুলোর ভেতরেও মসলাটা খুব ভালোভাবে ঢুকতে পারে। তবে আপনারা চাইলে গোটা সয়াবিনও ব্যবহার করতে পারেন।
এ বিষয়ে আপনাদের জানিয়ে রাখি দিদি বাড়িতে সেদিন সয়াবিন রান্না হয়েছিলো। তাই আমি সেই তরকারির মধ্যে থেকে কয়েকটা সয়াবিন তুলে নিয়েছিলাম। আপনারা যখন তৈরি করবেন, তখন সয়াবিন গুলো ভালো ভাবে সেদ্ধ করে নিয়ে, সামান্য আদা-রসুন-কাঁচালঙ্কা বাটা, ধনে গুঁড়ো, জিরেগুঁড়ো ও গরম মসলা গুঁড়ো দিয়ে সমস্ত কিছু দিয়ে ভালো করে কষিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
এরপর আমি একটা তাওয়া বসিয়ে তার ভেতরে বাটার দিয়ে, আগে থেকে কেটে নেওয়া পেঁয়াজ ও ক্যাপসিকাম গুলো ভালো করে একটু সময় ভেজে নিলাম। তারপর টুকরো করে কেটে রাখা সয়াবিন গুলোকেও দিয়ে দিলাম। যেহেতু সয়াবিনগুলো রান্না করাই ছিলো, তাই খুব বেশিক্ষণ ভাজার প্রয়োজন হয়নি।
এরপর ওর মধ্যে পরিমাণ মতো টমেটো সস, পিজ্জা-পাস্তা সস এবং অরিগ্যানো দিয়ে দিলাম, যাতে গন্ধটা ভালো আসে। যেহেতু তিতলি এবং তাতনের জন্য বানিয়েছে তাই আমি চিলি ফ্লেক্স ব্যবহার করিনি। তবে আপনারা চাইলে অবশ্যই ব্যবহার করতে পারেন।
এরপর আগে থেকে তৈরি করে রাখা সসের মিশ্রণটিকে চামচের সাহায্যে ভালো করে পিজ্জা ব্রেড এর ওপরে ছড়িয়ে দিলাম। তারপর পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম ও সয়াবিনের তৈরি মিশ্রণটাকেও ব্রেডের উপরে খুব সুন্দর ভাবে সাজিয়ে দিলাম। তারপর অল্প পরিমানে অরিগ্যানো ছড়িয়ে দেওয়ার পর দিলাম, তিতলি তাতানের সবথেকে পছন্দের জিনিস চিজ।
চিজ স্লাইসটাকে আমি টুকরো টুকরো করে দিয়েছি, আপনারা চাইলে গোটা স্লাইসও ব্যবহার করতে পারেন। এরপর চিজ কিউবটাকে উপর থেকে গ্রেটারের সাহায্যে গ্রেট করে দিয়েছি।
আমাদের কাছে বাটার পেপার ছিলো না, তাই আমি নরমাল খাতা থেকে পেপার নিয়ে তার উপরে ভালো করে বাটার ব্রাশ করে দিয়ে বাটার পেপার তৈরি করে নিয়েছিলাম। এরপর একটা তাওয়া বসিয়ে সেটাকে হালকা গরম করে, তার উপরে বাটার পেপার দিয়ে, ওপর থেকে তৈরি করে রাখা পিজ্জাটা বসিয়ে দিলাম।
সবশেষে উপর থেকে ঢাকা দিয়ে দিলাম। আমি যে পাত্রটা দিয়ে ঢাকা দিয়েছি তাতে একটা ছোট্ট ছিদ্র থাকে। আপনারাও যদি এই রকমই পাত্র ব্যবহার করেন, তাহলে অবশ্যই একটা কাগজ বা লবঙ্গ দিয়ে ছিদ্রটা বন্ধ করে দেবেন, যাতে ভাঁপটা বাইরে বেরিয়ে না আসে।
ব্যাস এরপর শুধুমাত্র কিছুক্ষণের অপেক্ষা। চিজটা খুব ভালোভাবে মেল্ট হয়ে গেলে আপনারা গ্যাস বন্ধ করে আরও কিছুক্ষণ ঢাকা অবস্থায় রেখে দেবেন। এরপর তাওয়া থেকে নামিয়ে ছুরি বা পিজ্জা কাটারের সাহায্যে কেটে পরিবেশন করতে পারেন সয়াবিন দিয়ে তৈরি গরম গরম সয়া পিজ্জা।
একই রকম ভাবে আপনারা চিকেন পিজ্জাও তৈরি করতে পারেন। শুধু সয়াবিনের জায়গায় চিকেনের টুকরো ব্যবহার করতে হবে। আর চিকেনটাকে আগে থেকে একটু ভালোভাবে রান্না করে নিতে হবে। তিতলি এবং তাতান ভীষণ খুশি হয়েছিল এরকম পিজ্জা দেখে।
তবে দোকান থেকে কিনে না এনে বাচ্চাদের জন্য যদি এইরকম ভাবে বাড়িতে পিজ্জা তৈরি করে দেওয়া যায়, আমার মনে হয় সেটা অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর হয়। যেহেতু প্রথমবার বানাচ্ছিলাম তাই দিদি একটা পিজ্জা ব্রেড কিনে এনেছিলো। তবে আমি আপনাদেরকে বলবো সম্ভব হলে বাড়িতেই নিজেরা এই ব্রেডটা তৈরি করে নেবেন। কারণ যে কোনো প্যাকেট জাতীয় খাবারই বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
![]() |
|---|
যাইহোক এটা ছিলো তিতলি এবং তাতানের জন্য আমার প্রথম পিজ্জা তৈরির অভিজ্ঞতা। দেখতে বেশ লোভনীয় হয়েছিলো, আর তিতলি ও তাতানের কথায় খেতেও ভীষণ সুস্বাদু ছিলো। যদিও ব্যক্তিগতভাবে আমি সেটা টেস্ট করে দেখিনি।
আপনারা যদি বাড়িতে এইভাবে বানিয়ে থাকেন তাহলে মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন। আর যারা এখনও পর্যন্ত বানান নি অবশ্যই একবার বানাবেন এবং সেটা কেমন হলো জানাতে ভুলবেন না।
সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকের লেখা শেষ করছি। ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।
































Thank you for your support 🙏.