"সিকিম ডায়েরি: গুরুদংমার লেকে কাটানো সুন্দর কিছু মুহূর্ত"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
নর্থ সিকিম ঘোরার গত পর্বে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম জিরো পয়েন্টে কাটানো সময়ের অনুভূতি। আজকে এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো জিরো পয়েন্ট থেকে ফেরার পথে গুরুদংমার লেকে কাটানো কিছু সুন্দর মুহূর্তের কথা।
জিরো পয়েন্টে অক্সিজেনের অভাবে শ্বাস নিতে সকলেরই কষ্ট হয়েছে। আমরা প্রত্যেকে সেখানে কর্পূর ব্যবহার করেছিলাম সে কথা আগের পোস্টেই আপনাদেরকে জানিয়েছিলাম।
জিরো পয়েন্ট থেকে যখন আমরা বেরিয়ে আসি তখনও স্নো ফল হচ্ছিলো। আমাদের সকলের যদিও খুব একটা সমস্যা হয়নি, কিন্তু আমাদের সঙ্গে একটা ছোটো বোন গিয়েছিলো, যার নাম রূপরেখা, তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিলো।
![]()
|
|---|
তাই গুরুদংমার ও বেশিরভাগ সময় গাড়ির ভিতরেই বসে ছিলো। আর তার সাথে পিয়ালীর হাসবেন্ড ও রাখির দাদাও। শুধু আমি, পিয়ালী ও রাখি তিনজন নেমেছিলাম গুরুদংমার লেক পরিদর্শন করতে। রাস্তার একদম উপরেই ছোট্ট মন্দির মতন ছিলো, তবে সব থেকে আকর্ষণীয় ছিলো নিচের দিকে থাকা লাচুং নদীর দৃশ্য। তাই গাড়ি থেকে নেমে মন্দিরের একটা ছবি তুলেই, আমরা নিচের দিকে নামতে শুরু করেছিলাম।
![]()
|
|---|
সত্যি কথা বলতে আমরা যে সময় গিয়েছিলাম, সেই সময় গুরুদংমার লেকের বিশেষত্ব বেগুনি রঙের সুন্দর ফুল গুলোর সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছিলো। এখানে যাওয়ার আগে যতো রিলস দেখেছিলাম, তাতে ঐ ফুলগুলো দেখে এতো ভালো লেগেছিল যে, মনে মনে আশা করেছিলাম গিয়ে হয়তো এই ফুল প্রচুর পরিমাণে দেখতে পারবো। তবে আমাদের ড্রাইভার দাদা বললেন, আরও মাসখানেক আগে গেলে আরও সুন্দর দৃশ্য দেখার সুযোগ হতো।
![]()
|
|---|
তবে একেবারেই যে ফুল ছিলো না এমনটা নয়। তবে আরও কয়েকদিন আগে গেলে এখানকার সৌন্দর্য্য নাকি আরও অনেক বেশি সুন্দর থাকতো। যাইহোক সেখানে আমাদের গাড়ি রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলো। আর আমরা হেঁটে নিচে নেমেছিলাম। তবে লাচুং নদী আরও অনেকটাই দূরে ছিলো বলে অতো দূরে যাইনি।
![]()
|
|---|
আশেপাশের খানিকটা জায়গা শুধু ঘুরে দেখেছিলাম। ইতিমধ্যে দূর থেকে হঠাৎ কানে ভেসে আসলো খুব পছন্দের হিন্দি গান। প্রথমে ভাবছিলাম বোধহয় কয়েকজন বক্স বাজিয়ে পিকনিক করছে। তবে কিছুদূর এগিয়ে গিয়ে লক্ষ্য করলাম, এটা কোনো বক্সে বাজানো গান নয়। একজন মহিলা নিজেই গান করছেন।
![]()
|
|---|
গানটা শুনে এতো ভালো লাগলো যে আরও খানিকটা এগিয়ে গেলাম এবং দেখলাম ওনরা চারজন বান্ধবী, ছোট্ট একটা বক্স এবং মাইক্রোফোন, সাথে পছন্দের কয়েক ধরনের খাবার ও পানীয় এনে সেখানে বসে সুন্দর সময় কাটাচ্ছেন। চারিপাশে মেঘ দিয়ে ঘেরা সুন্দর পরিবেশ সামনে বয়ে চালা লাজুক নদী ঠান্ডা আবহাওয়া আর প্রিয় বান্ধবীদের সাথে সময় কাটানো এক অভূত করব শান্তি যা ওই মুহূর্তে আমরা চারজন ছাড়াও আমরা অনুভব করতে পেরেছিলাম।
![]()
|
|---|
ওনারা নিজেরাই গান করছেন, একসাথে খাওয়া দাওয়া করছেন, বিষয়টি দেখে এতো ভালো লাগলো যে উৎসুক হয়ে তাদের দিকে আরও খানিকটা এগিয়ে গেলাম। হঠাৎ করেই তাদের মধ্যে একজন আমাদেরকে ডাকলেন এবং ওনাদের সাথে জয়েন করতে বললেন।
বিষয়টা বেশ অন্যরকম লাগলো। সচরাচর আমরা কিন্তু এই রকমটা অচেনা কারোর সাথে করি না। নিজেরা নিজেদের মতো সময় উপভোগ করলে, অপরিচিত মানুষদেরকে ডেকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত হতে বলাটাও কিন্তু অনেক বড় মনের পরিচয়। আমরাও বেশ উৎসাহ নিয়ে এগিয়ে গেলাম ওনাদের কাছে।
![]()
|
|---|
ওনাদের মধ্যে থেকে একজন আমাদের দিকে পপকর্ন এগিয়ে দিলেন, আমরা যদিও খেতে চাই নি কিন্তু তিনি এতো ভালোবেসে আমাদের অনুরোধ করলেন যে, আমরা সেটা ফেলতে পারিনি। তাই আমরা তিনজনেই অল্প অল্প করে নিলাম।
![]()
|
|---|
ওনাদের মধ্যে যিনি গান করছিলেন, তিনি এগিয়ে এসে আমাদেরকেও গান করতে বললেন। তবে আমরা জানালাম আমরা ওনার মত অতো সুন্দর গান করতে পারি না। তখন বাকি দুজন বললেন চলুন তাহলে আমরা সকলে একসাথে এনজয় করি।
![]() |
|---|
![]() |
|---|
|
|---|
নাচেও যেও আমরা পারদর্শী এরকমটা নয়, তবে ওনাদের অনুরোধ যেন কিছুতেই ফেলতে পারলাম না। তাই ওনাদের সাথে তালে তাল মেলাতে শুরু করলাম। ওই মুহূর্তে আমরা যেন একটা অন্য জগতে ছিলাম। অনবদ্য ছিলো সেই অভিজ্ঞতা। ওই কয়েক মিনিটের পরিচয়ে যেন ওনরা মনের অনেক গভীরে চলে গেলেন।
শেষে ওনাদের সাথে দু তিনটে ছবি তুলে, আমরাও গাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করলাম। ভাবলাম যদি এখানে না নামতাম, তাহলে হয়তো এই মানুষ গুলোর সম্পর্কে এমন সুন্দর অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারতাম না।
![]() |
|---|
![]() |
|---|
|
|---|
আজ হয়তো আমরা বহু দূরে। ওনাদের সাথে জীবনে আর কখনো দেখা হবে না। এমনকি ওনাদের স্মৃতিতে আমরা থাকবো কিনা জানি না, কিন্তু আমাদের স্মৃতিতে ওনরা আজীবন অমলিন থাকবেন একথা হলফ করে বলতে পারি। কারণ এমন আতিথেয়তা, এমন আত্মিকতা, এমন বন্ধুত্ব, ভুলে যাওয়া আসলে কখনোই সম্ভব নয়।
এই পৃথিবীর কোনো এক কোণে ঈশ্বর যেন ওনাদেরকে ভালো রাখেন, সুস্থ রাখেন, আনন্দে রাখেন, দূর থেকে আজ শুধু এইটুকুই প্রার্থনা করি। এরপর আর কি, ফিরে এলাম গাড়িতে। আবার রওনা করলাম লাচুং এ আমাদের হোমস্টের উদ্দেশ্যে।
ফিরতি পথে আমাদের গাড়ি আরও একবার দাঁড়িয়েছিলো। কারণ পাহাড়ের সেই বিখ্যাত রডোডেনড্রন ফুলের ছবি তোলা বাকি ছিল তখনও। পাহাড় থেকে যখন সকলের স্মৃতি সাথে এনেছি, তখন এরাই বা বাদ যায় কেন!
তাই রডোডেনড্রন ফুলের এর মাঝে কিভাবে সময় কেটেছিলো, আর জিরো পয়েন্ট থেকে ফিরে হোমস্টেতে আমাদের রাতটা কেমন কেটেছিলো, সে গল্প না হয় পরবর্তী পর্বে শেয়ার করবো। এই পর্বটা কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না।
ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি।
|
|---|













Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟