নদীর পাড়ে নিঃশব্দ প্রতিধ্বনি (পর্ব ৬)
আজ আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি ‘নদীর পাড়ে নিঃশব্দ প্রতিধ্বনি’ গল্পের ষষ্ঠ পর্ব।
হঠাৎ করেই রুদ্রর মাথার ভেতর অদ্ভুত কিছু দৃশ্য জেগে উঠতে শুরু করল। যেন বহুদিন চাপা পড়ে থাকা কোনো স্মৃতি ধীরে ধীরে জেগে উঠছে। সে দেখতে পেল উত্তাল নদীর কালো জল, কুয়াশায় ঢেকে থাকা এক নির্জন ঘাট, আর দূর থেকে ভেসে আসা আতঙ্কিত কণ্ঠ— “বাঁচাও... আমাকে বাঁচাও...!”
মুহূর্তেই রুদ্র দু’হাতে মাথা চেপে ধরল।
— এসব কী দেখছি আমি? কেন মনে হচ্ছে এগুলো আমারই অতীত?
তার বুকের ভেতর অকারণ ভয় জমতে লাগল। অথচ পুরো ঘটনাটার একটুও স্পষ্টভাবে মনে করতে পারছে না সে। শুধু মনে হচ্ছিল, এই ভয়ংকর দৃশ্যগুলোর সঙ্গে তার জীবনের গভীর কোনো সম্পর্ক আছে।
কিছুক্ষণ পর সবকিছু আবার নিস্তব্ধ হয়ে গেল। রুদ্র হাঁপাতে হাঁপাতে তাকাল হাতে ধরা পুরোনো কাপড়ের টুকরোটার দিকে। কাপড়টায় যেন এক অজানা শীতলতা লেগে আছে। আর এক মুহূর্তও সেটা হাতে রাখতে পারল না সে। দ্রুত দরজা খুলে বাইরে গিয়ে উঠোনের অন্ধকার কোণে ছুঁড়ে ফেলল কাপড়টা।
ঘরে ফিরে দরজা বন্ধ করলেও তার অস্বস্তি একটুও কমল না।
রাত তখন প্রায় দুটো পেরিয়েছে। চারপাশে এমন নিস্তব্ধতা, যেন পুরো পৃথিবী ঘুমিয়ে আছে। ঠিক তখনই রুদ্র অনুভব করল— তার ঘরের ভেতর কেউ হাঁটছে।
খুব ধীরে... টুপ... টুপ...
সে চোখ খুলল না। কারণ তার মনে হচ্ছিল, চোখ খুললেই হয়তো এমন কিছু দেখতে পাবে, যা দেখার সাহস তার নেই। কিন্তু শব্দগুলো থামল না। বরং আরও কাছে আসতে লাগল। মনে হলো, অন্ধকারের কেউ ধীরে ধীরে তার বিছানার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।
ভয়ে তার পুরো শরীর অবশ হয়ে গেল। নড়াচড়া করার শক্তিটুকুও যেন হারিয়ে ফেলল সে।
হঠাৎ বরফশীতল এক নিঃশ্বাস তার কানের কাছে এসে থামল।
— “আমাকে ভুলে গেছিস...?”
কথাটা শুনেই রুদ্র হঠাৎ চোখ খুলে ফেলল।
চারপাশ ফাঁকা।
ঘরে কেউ নেই।
কিন্তু তার বুকের ধুকপুকানি যেন থামতেই চাইছে না। কাঁপা হাতে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল— রাত ২টা ০৩।
সে ধীরে ধীরে উঠে বসল। তারপর হঠাৎ তার মনে হলো... বিছানার নিচে যেন কেউ নিঃশব্দে হাসছে।
