আমি নিজেই অবাক: এই একটা সিদ্ধান্ত আমার জীবন পাল্টে দিয়েছে
আমার বাংলা ব্লগ' পরিবারের সকল সদস্যকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আশা করি সবাই সুস্থ আছেন। আপনাদের দোয়ায় আমিও বেশ ভালো আছি। আজ আমি আপনাদের সাথে আমার জীবনের একটি বিশেষ অধ্যায় শেয়ার করব।

এক মুহূর্ত, যা সবকিছু বদলে দিল
জীবনে কিছু মুহূর্ত থাকে, যেগুলো প্রথমে খুব সাধারণ মনে হয়। ঠিক যেন প্রতিদিনের ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া একটা সকাল। কিন্তু সেই সাধারণ মুহূর্তটাই একদিন ফিরে তাকালে মনে হয়—এইখান থেকেই সব শুরু। আমিও জানতাম না, সেদিন নেওয়া ছোট্ট একটা সিদ্ধান্ত আমার জীবনকে এমনভাবে উল্টে দেবে।
এই গল্পটা আপনার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
কারণ আপনি হয়তো এখন ঠিক সেই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছেন, যেখানে আমি একসময় ছিলাম—দ্বিধায়, ক্লান্তিতে, অনিশ্চয়তায়। এই গল্পটা কোনো মোটিভেশনাল বক্তৃতা নয়, এটা বাস্তব। মানুষের জীবন বদলাতে সবসময় বড় ঘটনা লাগে না; কখনো একটা সৎ সিদ্ধান্তই যথেষ্ট।
সেই সিদ্ধান্তের আগের জীবন
দিশেহারা আর আটকে থাকার অনুভূতি
সবকিছু ছিল, তবু কিছুই ঠিক ছিল না। বাইরে থেকে দেখলে জীবন মোটামুটি ভালো—কাজ আছে, পরিচিত মানুষ আছে, প্রতিদিন চলছে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে একটা শূন্যতা কাজ করত। মনে হতো, আমি যেন নিজের জীবনটা নয়, অন্য কারও লেখা স্ক্রিপ্ট মেনে চলছি।
অটোপাইলটে বাঁচা
প্রতিদিন একই রুটিন। ঘুম থেকে ওঠা, কাজ, ফোন স্ক্রল, আবার ঘুম। কোনো উত্তেজনা নেই, কোনো লক্ষ্য নেই। প্রশ্ন করতাম না, “আমি এটা কেন করছি?”—কারণ উত্তরটা শুনতে ভয় লাগত।
অনুশোচনার নীরব বোঝা
রাতে ঘুমানোর আগে একটা প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসত—“আমি কি এটাই চেয়েছিলাম?” উত্তরটা জানতাম, কিন্তু মানতে চাইতাম না।
টার্নিং পয়েন্ট
যেদিন সবকিছু আলাদা লাগল
সেদিন কোনো নাটকীয় ঘটনা ঘটেনি। না কোনো দুর্ঘটনা, না কোনো বড় সাফল্য। শুধু হঠাৎ করে নিজের সাথে সৎ হওয়ার সাহস পেলাম। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করলাম—“আর কতদিন এভাবে চলবে?”
ছোট সিদ্ধান্ত, বড় প্রভাব
সিদ্ধান্তটা খুব সাধারণ ছিল: যা আমাকে ভেতরে ভেতরে শেষ করে দিচ্ছে, সেটা আর করব না। মানুষ খুশি রাখতে গিয়ে নিজেকে হারানো—এই অভ্যাসটা ছাড়ব।
একটা সিদ্ধান্তের শক্তি বোঝা
ছোট সিদ্ধান্ত বনাম জীবন বদলে দেওয়া সিদ্ধান্ত
আমরা ভাবি, জীবন বদলাতে বিশাল কিছু করতে হয়। আসলে না। জীবন বদলে যায় যখন আমরা প্রতিদিনের ছোট ছোট আপসগুলো করা বন্ধ করি।
ভয়ের ওপারে কী আছে
ভয় ছিল—মানুষ কী বলবে, ব্যর্থ হলে কী হবে, একা হয়ে গেলে কী হবে। কিন্তু সত্যি বলতে কি, ভয়ের ওপারেই ছিল শান্তি।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রথম পরিবর্তন
মানসিক শান্তি
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা বাইরে নয়, ভেতরে। প্রথমবার মনে হলো—আমি নিজের পাশে দাঁড়িয়েছি।
আত্মসম্মান ফিরে পাওয়া
নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়া মানে নিজেকে সম্মান করা। এই অনুভূতিটা নেশার মতো।
চ্যালেঞ্জ আর প্রতিকূলতা
সমালোচনা ও সন্দেহ
সবাই হাততালি দেয়নি। কেউ বলেছে, “এটা বাস্তবসম্মত না।” কেউ বলেছে, “তুমি পারবে না।”
নিজের সাথেই লড়াই
সবচেয়ে কঠিন ছিল পুরনো অভ্যাস ভাঙা। মাঝেমধ্যে মনে হতো, আগের জীবনেই ফিরে যাই। কিন্তু জানতাম, সেটা করলে আবার নিজেকেই হারাব।
ধীরে ধীরে বদলে যাওয়া জীবন
নতুন সুযোগের দরজা
সিদ্ধান্ত বদলাতেই সুযোগ আসতে শুরু করল। হয়তো হঠাৎ করে নয়, কিন্তু ধারাবাহিকভাবে।
নিজের উপর বিশ্বাস
আমি বুঝলাম—সব উত্তর বাইরে নেই, অনেক উত্তর ভেতরেই ছিল।
এই সিদ্ধান্ত আমাকে কী শিখিয়েছে
নিজের কথা শোনা জরুরি
সবাই কী ভাবছে, সেটা নয়—আমি কী চাই, সেটাই আসল।
সঠিক সময় বলে কিছু নেই
আমরা অপেক্ষা করি পারফেক্ট সময়ের জন্য। আসলে সাহসটাই আসল সময়।
আপনার জীবনের জন্য এই গল্পের মানে
আপনিও পারবেন
আপনি যদি ভাবেন, “আমার পক্ষে সম্ভব না”—আমি বলব, আমিও তাই ভাবতাম।
আজই শুরু করা যায়
কাল, পরশু, আগামী বছর—এসব অজুহাত। পরিবর্তন সবসময় আজ থেকেই শুরু হয়।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজেকে যে প্রশ্নগুলো করবেন
আমি কি সত্যিই খুশি?
এই পথে ৫ বছর পর নিজেকে কেমন দেখছি?
ভয় আমাকে আটকে রাখছে, নাকি যুক্তি?
ছোট সিদ্ধান্ত কীভাবে বড় পরিবর্তন আনে
কম্পাউন্ড ইফেক্ট
প্রতিদিনের ছোট সাহস একদিন বিশাল আত্মবিশ্বাসে রূপ নেয়।
নতুন পরিচয় গড়ে ওঠা
আপনি ধীরে ধীরে এমন একজন মানুষে পরিণত হন, যাকে আপনি নিজেই সম্মান করেন।
যদি আবার পেছনে তাকাই
অনুশোচনা নেই
সবকিছু সহজ ছিল না, কিন্তু একটুও অনুশোচনা নেই।
কৃতজ্ঞতা
নিজের সেই দিনের সাহসের জন্য আজ আমি কৃতজ্ঞ।
একটা সিদ্ধান্তই আমার জীবন পাল্টে দিয়েছে—এই কথাটা এখন আর ক্লিশে মনে হয় না। কারণ আমি এর প্রমাণ। জীবন বদলাতে বড় কিছু দরকার নেই, দরকার নিজের সাথে সৎ হওয়ার সাহস। আপনি যদি আজ একটা ছোট সিদ্ধান্ত নেন—নিজের পক্ষে দাঁড়ানোর—হয়তো কয়েক বছর পর আপনিও বলবেন, “আমি নিজেই অবাক।”