অভাবের হাসিতে এক চিলতে আনন্দ: কাকার সবটুকু স্বপ্ন যখন আমার হলো

1771329483265.jpg

শহরের ব্যস্ত রাস্তার এক কোণে জীর্ণ এক ভ্যানগাড়ি। বয়স আর অভাবের ভারে নুয়ে পড়া এক বৃদ্ধ কাকা জীবনযুদ্ধে লড়াই করছেন প্রতিদিন। সারাদিন রোদে পুড়ে দু-চার পালি কলা বিক্রি করে যা জোটে, তা দিয়ে হয়তো দিনশেষে চাল কেনাও দায় হয়ে পড়ে। আজ সেই কাকার মলিন মুখে এক চিলতে হাসি ফোটানোর ক্ষুদ্র এক চেষ্টা ছিল আমার।

রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কাকার ক্লান্ত চোখগুলো বারবার গ্রাহক খুঁজছিল। তার সামনে সাজানো ছিল হাতেগোনা কয়েক ছড়ি কলা। আমি কাছে গিয়ে যখন বললাম, "কাকা, আপনার দোকানের সব কলা আমি কিনে নেব," তিনি যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। বয়সের ভারে ঝাপসা হয়ে আসা চোখে তখন এক অন্যরকম বিস্ময় আর আনন্দ খেলা করছিল।

আমি কোনো দরদাম না করেই তার পুরো দোকানের যা ছিল সবটুকু কিনে নিলাম। আমার লক্ষ্য ছিল শুধু ফল কেনা নয়, বরং আজ যেন কাকাকে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে গিয়ে পরিবারের সাথে একটু নিশ্চিন্তে সময় কাটানোর সুযোগ করে দেওয়া। টাকাটা হাতে নিয়ে কাকা যখন "আলহামদুলিল্লাহ" বলে আকাশের দিকে তাকালেন, সেই মুহূর্তের প্রশান্তি কোনো সম্পদ দিয়ে কেনা সম্ভব নয়।

আমরা হয়তো বড় বড় অংকের দান করতে পারি না, কিন্তু আমাদের ছোট ছোট উদ্যোগগুলো কারো জীবনে বড় স্বস্তি হয়ে আসতে পারে। অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর চেয়ে বড় কোনো ইবাদত বা সার্থকতা আর নেই। আসুন, আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী চারপাশের অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াই।

Sort:  
 24 minutes ago 

অসাধারণ একটি মানবিক কাজ করেছেন ভাইয়া। আপনার এই লেখাটি পড়ে মনটা ভরে গেল। আমরা অনেক সময় অনেক বড় বড় ত্যাগের পরিকল্পনা করি, কিন্তু আপনার মতো এভাবে রাস্তার ধারের কোনো অসহায় মানুষের 'সবটুকু স্বপ্ন' কিনে নিয়ে তাকে একটু আগেভাগে বাড়ি ফেরার সুযোগ করে দেওয়াটা যে কত বড় তৃপ্তির, তা আপনার বর্ণনাতেই স্পষ্ট। ধন্যবাদ বিষয়টি শেয়ার করার জন্য।