নিজের খারাপ লাগার কিছু অনুভূতি।
হ্যালো বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই আশা করি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আজ কয়েক দিন ধরে ফেসবুকের মধ্য চলছে ঈদের বাজার। হয়তো বা বাজার ঘাটে মানুষ বাজার যতোটা না করছে। তার চেয়ে বেশি ফেসবুকে বাজার করছে ভিডিওর মধ্য দিয়ে। আজ কয়েক দিন ধরে ফেসবুকের মধ্য ঢুকলে ঈদের বাজার নিয়ে শুধু ভিডিও চলে আসছে সামনে।
তবে এই ভিডিওর মধ্যেও একটি জিনিস খেয়াল করে দেখলাম। ঈদের বাজারে ছেলে মানুষ খুবই কম দেখা যাচ্ছে বেশি দেখা যাচ্ছে মেয়েদের কে। এবং এই মেয়েদের মধ্যে সব চেয়ে বেশি প্রবাসীদের পরিবার বেশি। কতো আনন্দ করে তারা নিজেদের জন্য নতুন জামা নতুন জিনিস নিয়ে যাচ্ছে। দেখে অনেকটা ভালই লাগছে তারা নতুন জামা প্যান্ট কিনছে নিজের পরিবারের জন্য। অনেকেই ভিডিও কলের মাধ্যমে প্রবাসী থাকাটা সেই মানুষটাকে দেখাচ্ছে।
তবে তারা হয়তো বা এটা বুঝতে পারছে না এই বাইরে থাকা মানুষটি নিজের জন্য ঈদের কোন শপিং করে নাই। আসলে এই বাহিরে যে সকল মানুষ ঈদ পালন করবে তারা যে কতটা কষ্টে ঈদ পালন করবে তা হয়তোবা তারা বুঝতে পারছে না। যদি বুঝতে পারতো তাহলে তারা শপিং করতে গিয়ে এই ভাবে ভিডিও কলে দেখাতে পারতো না।
যাইহোক সেটা এক একটি মানুষের অনুভূতি যে যেমন বোঝে সে ঠিক তেমন টাই করে। তবে এই ঈদের সময় নিজের পরিবার শপিং করে এটা একজন প্রবাসীর জন্য ভালো লাগার বিষয়। একটি বছর পরে এই রোজার ঈদ আবারো ফিরে এসেছে আমাদের জীবনে। তবে প্রবাসীদের শুধু খারাপ লাগা একটি জায়গায় থাকে। যদি নিজের পরিবারের সাথে ঈদ পালন করতে পারতো তাহলে ভালো লাগতো।
এবং আমার নিজের খারাপ লাগা একটি জায়গায় বছরের একটি দিন সামনে আসছে দুই একের মধ্য। মাকে ছাড়া দুই নাম্বার ঈদ পালন করব আবারো। আগের বার ঈদ পালন করেছিলাম অনেক কষ্টে। জানি না এবারও ঈদ কেমন ভাবে কাটবে। অবশ্যই এই বারের ঈদটা একটু ভালো ভাবে কাটতে পারে। কারণ এবার আছি ভাইদের কাছে আগের বার ছিলো মামুন ভাই আমার কাছে। তবে এই বার আমার একটি খালাতো ভাই এবং আমার নিজের ভাইয়া আছে আমার কাছে।
যাইহোক ঈদের জন্য আমাদের কোনো শপিং নেই বাংলাদেশ থেকে ভাইয়া কিছু জামা প্যান্ট নিয়ে এসেছিল। যেগুলো এখনো আমার ব্যবহার করা হয়নি ঈদের দিন তার মধ্যে থেকে কিছু একটা পরে ঈদের নামাজ আদায় করতে যাবো। এবং একটি পাঞ্জাবী আছে যদি মনে লাগে তাহলে পাঞ্জাবিটা গায়ে দিয়ে নামাজ আদায় করে পারি ।
তবে খারাপ লাগার বিষয়টি একটি জায়গায় কথা বলতে পারি না কতো দিন মায়ের সাথে। এবার ঈদেও মায়ের সাথে কথা হবে না। এবার ঈদেও মায়ের কন্ঠ শোনা হবে না। আর কখনো তার দেখা হবে না। আসলে আমার মতো অভাগা প্রবাসী অনেক আছে বিদেশের মাটিতে। তারা নিজের মাকে হারিয়েছে আমার মতো তারা খুঁজে পাবে না মায়ের দেখা।
সবাই পাশে থাকলেও মা না থাকার শূন্যতা এটা কেও পূরণ করতে পারবে না মনে পড়ে তার কথা অনেক বেশি। এবারও মনে পড়ছে তার কথা তার কথা ভেবে ভেবে চোখ দিয়ে পানি চলে আসে। যদি সেও আজ আমাদের মাঝে থাকতো তাহলে ঈদের শপিং করতে যেতো। যেটা দেখে আমি সত্যি অনেক বেশি খুশি হতাম। যখন বাড়ি ছিলাম প্রত্যেকটি ঈদে নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে কিছু না কিছু মায়ের জন্য নিয়ে যেতাম।
এখন বাইরে এসেছি যাই হোক ভালো টাকা ইনকাম করি কিন্তু মাকে দেওয়ার মতো ক্ষমতা আমার নাই। এই রোজার মাসে যতটুকু পেরেছি তার নামে দান করেছি । হয়তোবা এটাই তার কাজে লাগতে পারে। আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি আমার মাকে যেনো জান্নাতবাসী দান করে। অনেকটা খারাপ লাগছে এখন থেকে জানি না ঈদের দিন কেমন লাগবে।
যাই হোক সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এবং আপনাদের সবাইকে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা রইল। নিজের পরিবারের সাথে সুন্দর ভাবে ঈদের সুন্দর মুহূর্তটা পার করবেন এবং বাবা-মায়ের দিকে খেয়াল রাখবেন অবশ্যই।






Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আপনি একেবারেই ঠিক বলেছেন ঈদের শপিং করতে গেলে প্রবাসীদের পরিবার অনেক বেশি দেখা যায় তারা প্রবাস জীবনে কষ্ট করে তাদের জন্য টাকা পাঠায় আর তারা সেই টাকা শপিং এবং নিজেদের আনন্দ করার ক্ষেত্রে ব্যয় করে তারা কখনো চিন্তা করে না যারা প্রবাস থেকে টাকা পাঠিয়েছে তারা কতটা ভালো আছে তারা আদৌ নিজেদের জন্য জামা কাপড় কিনেছে কিনা এটা জানার মত সময় কারো কাছে নেই। অসংখ্য ধন্যবাদ নিজের মনের অনুভূতি আমাদের সাথে তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন।