শর্ট স্টোরি — নিঝুম রাতের প্রদধ্বনি


নিঝুম রাতের প্রদধ্বনি


1000152260.jpg

শহর থেকে দূরে, পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত পুরনো বাংলোটা যখন জিয়ান ও তার বন্ধু ভাড়া নিয়েছিল, তখন তারা জানতোও না যে সামনের কয়েক ঘন্টা তাদের জীবনের দীর্ঘতম সময়ে হতে পারে । বাংলোটা মোটামুটি ১০০ বছরের পুরনো । পুরো দেওয়াল জুড়ে শ্যাওলা আর ভাঙা জানালার পাল্লাগুলো বাতাসের ধাক্কায় অদ্ভুত আর্তনাদ করে ওঠে ।

রাত তখন প্রায় বারোটা বেজে গেছে । ড্রয়িংরুমের ফায়ারপ্লেসের সামনে বসে সকল বন্ধু মিলে আড্ডা দিচ্ছিল । হঠাৎ জিয়ান খেয়াল করে শুনলো, ওপরের তলায় কেউ যেন খুব ধীর পায়ে হাঁটছে । বুটের শব্দ । খট.....খট.....খট । সবাই শান্ত হয়ে গেলো । ফয়সাল ফিসফিস করে বলল,

—উপরে কেউ থাকার কথা ছিল না! কেয়ারটেকার তো নিচ তলায় ঘুমাচ্ছে ।

জিয়ান সাহস করে টর্চ নিয়ে উপরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল । কাঠের তৈরি সিঁড়ি দিয়ে যাচ্ছিল, প্রতি পদক্ষেপে ক্যাঁচক্যাঁচ আওয়াজ ছিল । উপরে উঠে করিডোরে টর্চ মারার সাথে সাথে তার বুকটা ধক করে উঠলো । করিডোরের শেষের দিকে একটা দরজা অর্ধেকখোলা । সেখান থেকে আবছা করে একটা নীলচে আলো বেরিয়ে আসছে । অয়ন আস্তে আস্তে করে এগোতে লাগলো । দরজার কাছে যেতেই হাড়কাঁপানো এক শীতল বাতাস থাকে স্পর্শ করে গেল । ঘরের ভেতর পা রাখার সাথে সাথে সে দেখতে পেল, সেখানে কোন আসবাব নেই । মাঝখানে একমাত্র পড়ে রয়েছে একটা ভাঙা আয়না । আয়নার ঠিক সামনে পিঠ দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক দীর্ঘকায় মূর্তি । পরনে এক জরাজীর্ণ কোট, মাথাটা একদিকে অস্বাভাবিকভাবে কাত হয়ে রয়েছে । জিয়ান ডাক দিল,

— কে আপনি?

মূর্তিটা বিন্দু পরিমান নড়ল না । কিন্তু আয়নার ভেতর দিয়ে জিয়ান যা দেখল, তাতে তার আর্তনাদ গলাতেই আটকে গেল । আয়নার মধ্যে মূর্তিটার কোন প্রতিফলন নেই, বরং সেখানে জিয়ান নিজেকে দেখতে পাচ্ছে । কিন্তু আয়নার ভেতরের জিয়ান হাসছে! আর সেটা মানুষের হতে পারে না—কান পর্যন্ত বিস্তৃত এক বীভৎস বিদ্রূপ । হঠাৎ আয়নার প্রতিচ্ছবিটা হাত বাড়িয়ে জিয়নের গলা চেপে ধরল । আর বাস্তবে জিয়ান সেটা অনুভব করতে পারল, তার শ্বাস আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে আসছে । সে আপ্রাণ চেষ্টা করছে হাত সরানোর, কিন্তু অদৃশ্য এক শক্তি থাকে শূন্যে তুলে ধরেছে ।

নিচে জিয়ানের বন্ধুরা জিয়নের চিৎকার শুনে উপরে ছুটে এল । কিন্তু তারা যা দেখতে পেলে তাতে তাদের রক্ত ঠান্ডা হয়ে গেল । করিডোর পুরো অন্ধকার, আর জিয়ান মাঝখানে দাঁড়িয়ে নিজের গলা নিজেই চেপে ধরে রয়েছে । মুখ দিয়ে সাদা ফেনা বের হচ্ছে, চোখগুলো উল্টে গেছে । ফয়সাল আর কনক তাকে জাপ্টে ধরলো, কিন্তু জিয়ানের গায়ের শক্তি তখন ১০ জনের সমান ।

হঠাৎ সব শান্ত হয়ে গেলো । জিয়ান তার জ্ঞান হারিয়েছে । পরের দিন সকালে যখন জিয়ানের জ্ঞান ফিরল, সে কাউকে চিনতে পারছে না । তার স্মৃতি থেকে গত রাতের সকল ঘটনা মুছে গেছে । কিন্তু ভয়ের বিষয় হলো অন্য জায়গায় । ডাক্তার যখন জিয়ানকে পরীক্ষা করেছিলেন তখন তার পিঠের শার্ট সরাতেই দেখা গেল—সেখানে নখ দিয়ে আঁচরে কেউ একজন লিখে দিয়েছে—"আমি এখানেই আছি।"

Posted using SteemX

Sort:  

🎉 Congratulations!

Your post has been upvoted by the SteemX Team! 🚀

SteemX is a modern, user-friendly and powerful platform built for the Steem community.

🔗 Visit us: www.steemx.org

✅ Support our work — Vote for our witness: bountyking5

banner.jpg

Loading...

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.32
JST 0.060
BTC 67289.94
ETH 2064.72
USDT 1.00
SBD 0.48