কার্তিক - ২ য় পর্ব

in Incredible India4 days ago

কার্তিক পুজোর কার্তিক ফেলার প্রথম পর্ব আপনাদের সাথে শেয়ার করা হয়ে গেছে। এবার দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে আজকে হাজির হয়েছি। নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন।।

1000422838.jpg

দুটো কার্তিক কিনে আনার পর একটা কার্তিক প্রথমে সাইট করে রাখা হলো আমার বাবার বন্ধুর বাড়িতে ফেলা হবে বলে। আমার বাবার বন্ধুরা সবাই মিলে ঠিক করেছে সেই কার্তিক বাবার এক বন্ধুর বাড়ি অর্থাৎ উত্তম জেঠুর বাড়িতে ফেলতে যাবে। হাস্যকর বিষয় হলো উত্তম জেঠুর অলরেডি দুটো মেয়ে রয়েছে। তাও আবার আমার বয়সী ।কিছুই না একটু মজা করা এবং যাতে কার্তিক পুজোটা ওদের বাড়িতে হয় এবং আমরা আনন্দ করতে পারি, এই কারণেই তাদের বাড়িতে কার্তিক ফেলতে যাওয়া।

1000422853.jpg

স্বাভাবিকভাবেই উত্তম জেঠুদের বাড়ির কেউই কল্পনা করতে পারেনি আমরা কার্তিক দিতে পারি ওদের বাড়িতে। প্রথমেই একটা চিঠি রেডি করা হলো। এবার আসি এই কার্তিকের চিঠি আসলে কি, সে কথায়। কার্তিক যারা দেয়,তারা কার্তিকের হাতে একটা কাগজের মধ্যে পূজোর খরচ থেকে শুরু করে খাবারের মেনু লিখে রাখে এবং সেই পুজো করে সেই মেনু অনুযায়ী রান্নাবান্না করে খাওয়ানোর আবদার রাখে কার্তিকের নাম করে। কার্তিক ঠাকুর তো নমুনা মাত্র।আসলে খাবারগুলো তো মানুষের পেটেই যাবে। এটাই তো মজা।

1000422842.jpg

আমরা সকলে মিলে বসে অর্থাৎ আমার বাবার বন্ধুরা ,কাকিমা, জেঠি, আমার মা, আমরা সবাই মিলে বসে চিরকুট রেডি করলাম এবং সুন্দরভাবে মেনুটা রেডি করলাম। ছবিটা দিয়ে দিচ্ছি আপনারাই পড়ে দেখুন।

হাতের লেখা দেখে আপনারা বাজে বলতে পারেন। বিষয়টা হচ্ছে হাতের লেখা যে আমার ভালো সেটা ওদের জানানো যাবে না, যারা কার্তিক ফেলছে তাদের লুকিয়ে থাকতে হয় অর্থাৎ বাড়ির লোকজন যেন না জানতে পারে কারা আসলে কার্তিক দিচ্ছে। এ কারণেই লেখাটাকে এমন ভাবে লিখতে হয় যাতে হাতের লেখা ধরার কারোর ক্ষমতা না থাকেন। তাই আমি এমন এঁকে বেঁকিয়ে লিখেছি।

1000422834.jpg

তারপর সাথে রেডি করা হলো কিছু পটকা। যেগুলো রাতের বেলায় ওদের বাড়িতে ফাটিয়ে ওদের জানান দেয়া হবে যে কার্তিক ঠাকুর চলে এসেছে। এই সমস্ত কিছু প্ল্যানিং করতে করতে আমরা যা মজা পেয়েছি ,যেভাবে আমরা হাসাহাসি করেছি ওই মুহূর্তগুলো মনে রাখার মত। রাত বারোটার পর আমার বাবার বন্ধুর গাড়ি করে আমরা সবাই মিলে বেরিয়ে পড়লাম। স্করপিও গাড়িতে আমরা সবাই ঢুকে গিয়ে হাসতে হাসতে রওনা দিলাম উত্তম জেঠুর বাড়ির উদ্দেশ্য। আমাদের বাড়ি থেকে মোটামুটি ১২-১৩ কিলোমিটার দূরে উত্তম জেঠুর বাড়ি।

1000422831.jpg

একদম ফোর লেন রাস্তা ,তার পাশেই অর্থাৎ মেন রোডের পাশেই উত্তম জেঠুর বাড়ি। অনেক দূরে গাড়িটা রেখে ধীরে ধীরে আমার বাবা আর জেঠু মিলে কার্তিক ঠাকুরটাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গুটিগুটি পায়ে উত্তম জেঠুদের বাড়ির উঠোনে একদম দরজার সামনে নামিয়ে রাখল।।

1000422813.jpg

ওদের কার্তিক রাখতে যাওয়া দেখে আমরা রীতিমত ওই রাস্তাতেই হেসে লুটোপুটি বলা যেতে পারে। এত বড় বড় মানুষ বাচ্চাদের মতো এই বদমাইশি গুলো করলে স্বাভাবিকভাবেই মজা লাগবে।। সত্যি বলতে আমাদের বাবা জেঠুরা খুবই রসিক ,তাই আমরাও খুব রসিক হয়েছি।

তারপরের ঘটনা পরের দিন বলবো। আজকে এখানেই শেষ করছি।

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.31
JST 0.060
BTC 70322.63
ETH 2148.39
USDT 1.00
SBD 0.51