কার্তিক - ১ম পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। বেশ অনেকটা গ্যাপ ,তারপর আবার লিখতে আসলাম আজ। বলতে গেলে বছরের শুরুটা ভালোভাবে হলো অর্থাৎ গোটা জানুয়ারি ঠিকভাবে গেলেও গোটা ফেব্রুয়ারি খুব বাজে ভাবে কেটেছে। সবকিছুর মধ্যে দিয়ে কিভাবে যে এতগুলো দিন পেরিয়ে এলাম, আমি নিজেও জানিনা, তবে কিছু কিছু সময় নিজেকে সামলানো বড় কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছিল।
জীবনে চলার পথে আমরা কি পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে এক একজন দিন পার করি, তা শুধুমাত্র আমরা নিজেরাই বুঝতে পারি এবং স্থির করতে পারি। এটা অন্য কাউকে বোঝানোর ক্ষমতা আমাদের থাকে না। আর কেউ বুঝতে পারবে না স্বাভাবিক। যার জ্বর হয়, সেই বোঝে।
সময়টা আমারও বেশ ঘোলাটে বলতে গেলে। পুরোপুরি এখন সবকিছু ছেড়ে দিতে শিখছি।। যা হওয়ার সেটা হতে দেওয়াই ভালো। আলটিমেটলি যতই সবকিছু ভেবে রাখি অথবা বিভিন্ন রকম পরিকল্পনা করি না কেন ,অবশেষে সবকিছুর পরে কেউ একজন আছে যিনি এই সবটাই পরিচালনা করছেন। আর সেগুলোর সাথে তাল মিলিয়েই আমাদের চলতে হচ্ছে।
পুরোপুরিভাবেই সবকিছু নিজের হাতে কখনোই থাকে না। যাইহোক আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করি কার্তিক ফেলার গল্প।
আপনারা জানেন আমাদের হিন্দু ধর্মে বিভিন্ন রকম পুজো হয়ে থাকে ।তার মধ্যে কার্তিক পুজোও একটা অন্যতম পুজো ।এই পুজো নিয়ে আমাদের বাঙ্গালীদের ভিতরে একটা দুষ্টু মিষ্টি মজাও রয়েছে। হিন্দু ধর্মে মা পার্বতীর পুত্র কার্তিক।। তিনি বীর যোদ্ধা ছিলেন। তাই বলা হয়ে থাকে।
কার্তিক পূজার আগে সদ্য বিবাহিত দম্পতির সন্তান গ্রহণের শুভ কামনায় অনেকেই মজা করে সেই বাড়িগুলিতে কার্তিক ফেলে। অর্থাৎ মাটির কার্তিক ঠাকুর এর মূর্তি দরজার সামনে রেখে দিয়ে আসে। বিশেষ করে নব দম্পতির বন্ধুরা কিংবা কোন সময় বাড়ির ননদ দেওররা মিলেও এই মসকরা করে থাকে।
গতবছর আমি যুক্তি বুদ্ধি করে মৌসুমী বৌদিদের বাড়িতে কার্তিক ফেলেছিলাম। এবারও ভেবেছিলাম ,কিন্তু সেই প্ল্যানটা সাকসেসফুল হয়নি ।বৌদির ভয়েই। আসলে বৌদি কার্তিক পূজার সময়ে বাড়িতে একা ছিল। শুধুমাত্র দাদা ছিল সাথে। শাশুড়ি শ্বশুর কেউ বাড়িতে না থাকায় আমি যদি কার্তিক ফেলতাম ,তাহলে পুজোর দায়িত্বটা আমাকেই নিয়ে নিতে হতো। সব কাজ করিয়ে নিত আমাদের বৌদিমনি। এ কারণে আমি ওদের বাড়িতে কার্তিক ফেলবো বলে পরিকল্পনা করলেও অবশেষে সেটা করিনি।
কার্তিক পূজার আগের দিন সকাল থেকে কার্তিক পাওয়া যাচ্ছিল না। সবাই শুনছিলাম দু তিনটে করে কার্তিক কিনছিল ।সকালের দিকে একবার কার্তিক কিনতে পাঠালাম কার্তিক ঠাকুরের দাম শুনে আমি তো হতবাক। যাইহোক বিকেলের দিকে আবার আমার পাশের বাড়ির ভাইকে দিয়ে কার্তিক কেনার জন্য পাঠালাম মার্কেটে ।আমরা নিরুপায় হয়ে দুটো আড়াই ফুটের কার্তিক কিনতে বাধ্য হলাম । চেয়েছিলাম ছোটখাটো, কিন্তু সেটা হলো না।
ভাই কে ফোন করে বললাম তুই দুটো কার্তিক আপাতত কিনে নিয়ে আয়। তারপর দেখছি কার বাড়িতে ফেলা যায়। তখনো কিন্তু ভেবে আছি মৌসুমী বৌদিদের বাড়িতে একটা কার্তিক ফেলবো। এমনকি তার জন্য চিরকুট রেডি।
কিন্তু কার বাড়ির কার্তিক কার বাড়িতে গিয়ে পড়ল। যাইহোক পরিকল্পনার প্রথমটুকু নিয়ে আজকে শেয়ার করলাম। পরের দিন বাকিটুকু শেয়ার করবো।
আজ এখানেই শেষ করছি।
|
|---|



