নবমীর সন্ধ্যা
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আজকে আমি সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি দুর্গাপূজায় নবমীর সন্ধ্যের মুহূর্ত। গত পোস্টে জানিয়েছিলাম নবমীর দিন সকালবেলায় রাজবাড়ী যাওয়ার একটা প্ল্যান করেছিলাম সকলে মিলে। আমি ,ভাই ,আমার পার্টনার আর মৌসুমী বৌদি। কিন্তু রাজবাড়ীতে গিয়ে দেখি রাজবাড়ির গেট বন্ধ। তাই অবশেষে রেস্টুরেন্টে গিয়ে সময় কাটাতে হয়েছে ।তারপর বাড়ি চলে এসেছিলাম ,তাই সন্ধ্যাবেলায় আবার প্ল্যান হয়েছিল আবার।
বিকেলবেলা থেকে আমরা রেডি হতে শুরু করলাম ।আমি আর মৌসুমী বৌদি।বেরিয়ে পড়লাম রাজবাড়ির উদ্দেশ্যে ।সাথে ছিল আমার পার্টনার। ও অনেকটা দূর থেকে এসেছিল শুধুমাত্র আমার জন্য ।
আসলে দুর্গাপুজোর সময়টুকু ও নিজের মামার বাড়িতে কাটায়। অফিসের দুদিন ছুটি থাকে ,সেই ছুটিটুকুনি মামার বাড়িতেই সময় কাটায় ।মামার বাড়িতে দিদার সাথে সময় কাটাতে ওর বেশ ভালই লাগে। আসলে আমার মনে হয় মামার বাড়ি সকলেরই একটা আবদারের জায়গা ।
ওর সাথে পৌঁছে দেখি বেশ ভিড় জমেছে রাজবাড়িতে, পুজোর আলোয় দূর থেকে চকচক করছে রাজবাড়ির গেট ।আপনাদের দেখাবো বলে ছবি তুলে নিলাম। সকালবেলায় যারা এসে ফিরে গেছে অথবা দুপুরের দিকে, তারাই আবার বিকেল থেকে এসে ভিড় জমিয়েছে। গিয়ে ঠাকুরটা দেখে প্রণাম করলাম। রাজবাড়ীর ঠাকুরটা একটু অন্যরকম দেখতে হয়। প্রাচীন এক ঐতিহ্য প্রতিমার রূপে ফুটে ওঠে।
ওখানে আমরা বেশ অনেকক্ষণ ছবি তুললাম ।তারপর ওখান থেকে বেরিয়ে আরো কয়েকটা ঠাকুর দেখেছিলাম বাইকে করে। ঈশান আসেনি কারণ ঈশানের পড়া ছিল। এ কারণে ও বাড়িতেই ছিল ওই সময়। বাইকে করে ঠাকুর দেখলে খুব তাড়াতাড়ি অল্প সময়ের মধ্যেই বেশ অনেকগুলো ঠাকুর দেখতে পাওয়া যায়।
এ কারণে যে জায়গাগুলো বারবার ফেসবুকে দেখতে পারছিলাম, আর বন্ধুদের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে দেখতে পারছিলাম ।ভাবলাম সেই ঠাকুর গুলো একটু দর্শন করে নেয়া যাক ।যেহেতু কদিন ঠিকভাবে ঠাকুর দেখতে পারিনি।
তাই ওখান থেকে সোজা চলে গিয়েছিলাম একটা নতুন জায়গায় ।এর আগে ওই জায়গায় আমি ঠাকুর দেখতে যাইনি। এমনকি মৌসুমী বৌদি কিংবা আমার পার্টনার ওরাও কখনো এই ঠাকুর দেখেনি।
এই ঠাকুর যেখানে পূজিত হয় সেই বাড়ির নাম নীল দুর্গা বাড়ি। এই বাড়িতে বহু প্রাচীনকাল থেকে দুর্গা ঠাকুর নীল বর্ণের রূপে সজ্জিত হয়ে পূজিত হয়। এর পেছনের গল্পটা অনেকবার ফেসবুকে শুনেছি। বাড়ির মানুষদের কাছ থেকে। একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছিল, সেখানে। আমার ইচ্ছা ছিল দর্শন করার। এ কারণেই ওদের সাথে গিয়েছিলাম। বেশ ভালই লাগলো।
বাড়ির দুর্গাপূজা মানে একটা অন্যরকম মজা ।নীল দুর্গা বাড়িতে বুঝতেই পারলাম সকলে একত্রিতভাবে এই পুজোটা করে থাকেন। আমার তো বনেদি বাড়ি কিংবা জমিদার বাড়ির এই পুজোগুলো দেখতে খুবই ভালো লাগে। একটা ইতিহাসের প্রাচীন গন্ধ লুকিয়ে থাকে, এ কারণেই এই পুজোগুলো বেশি চোখ কেড়ে নেয়।
ওখান থেকে বেরিয়ে আমরা আরো কিছু ঠাকুর দেখলাম ।তারপর চলে গিয়েছিলাম আইসক্রিম পার্লারে। তিনজন মিলে বসে গল্প করতে করতে আইসক্রিম খেলাম। আর তারপর সবশেষে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।। এভাবেই নবমীর সন্ধ্যার সময়টুকু খুব সুন্দর ভাবে কেটেছে আমার। আজ এখানেই শেষ করছি।সকলে ভালো থাকুন।











Curated by: @ahsansharif