লক্ষ্মীপুজো - ১ ম পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলেই সুস্থ আছেন ।আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি লক্ষ্মী পূজার দিনের মুহূর্তগুলো।
বাঙালির ঘরে ঘরে বিজয়া দশমীর পরেই লক্ষ্মীপূজো করা হয়ে থাকে। এই দিনটিতে বাড়ির মা কাকিমারা, বাড়ির মেয়েরা সকলেই খুব আয়োজন করে মা লক্ষ্মীর আরাধনায় মগ্ন হয়ে থাকে। অনেকে পুরোহিত দিয়ে পূজা করিয়ে থাকে, আবার অনেকে নিজে নিজেই পুজো করে লক্ষ্মীর পাঁচালী পড়ে লক্ষ্মী ঠাকুরের মন্ত্র জপ করে পুজো করে থাকে ।
দিনটির সবথেকে স্পেশাল বিষয় হল এই দিনে মা লক্ষ্মীকে নারকেলের নাড়ু চিনির অথবা আখের গুড়ের কিংবা দুটোই ,এর সাথে বিভিন্ন ধরনের মোয়া, যেমন -মুড়ির মোয়া ,খইয়ের মোয়া ,চিঁড়ের মোয়া তৈরি করে দেয়া হয় ভোগের প্রসাদ হিসেবে। লক্ষ্মীপূজো আসলেই যে নাড়ু খেতে পারবো ,এটা নিয়েই বাচ্চাদের একটা আবেগ রয়েছে।
আমাদের বাড়িতে প্রত্যেক বছর লক্ষ্মী পূজা হয়। আমার ঠাকুরমা ভরা সন্ধ্যেবেলায় লক্ষ্মীপূজো করত। এই কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার দিন আমাদের বাড়িতে কোনরকম পটের ঠাকুরের পুজো করা হয় না। আঁড়ি পেতে পুজো করা হয়। তাতে থাকে ধান ১ কেজি আড়াইশো। এর সাথে থাকে সাতটা অথবা নটা কলার ছড়া।
আড়িটাকে সুন্দর করে লাল কাপড় দিয়ে ঘিরে রাখা হয় ।যেন মনে হয় একটা ঘোমটা মাথায় দেওয়া লাল টুকটুকে বউ। তার ওপর থাকে চার কদম। এর সাথে আসনে থাকে পাঁচ জায়গায় পাঁচটি পান ।পানের ওপরে বসানো হয় একটি করে বাতাসা, একটা করে এক টাকার কয়েন, একটা করে ফল, এর সাথে থাকে পাঁচ ধরনের ফল।
লক্ষ্মী ঠাকুরের আসন সাজাতে আমার বেশ ভালো লাগে। আমাদের বাড়িতে লক্ষ্মী পূজার সাথে নারায়ণ পূজো করা হয় ।তাই লক্ষ্মীপুজোর দিন আমাদের বাড়িতে শুধুমাত্র কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার ধুমধাম থাকেনা ।থাকে সত্যনারায়ণ ঠাকুরের পুজোর একটা রমরমা ব্যাপার। এ কারণে আমাদের সমস্ত আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধব ,প্রতিবেশী সকলেই সেদিনকে নিমন্ত্রিত থাকে বাড়িতে।
নারায়ণের আসনে থাকে লক্ষ্মীর আসনের মতন সব কিছুই ।শুধু এক্সট্রা থাকে সাদা পইতে। ঠাকুর মশাই নারায়ণ ঠাকুর নিয়ে আসে সাথে করেই। আবার পুজো হয়ে গেলে ওনাকে সাথে করে নিয়ে যায়। নারায়ণ ঠাকুর মানে নারায়ণ শিলা।
লক্ষীর এবং নারায়নের আসনের ঠিক মাঝখানে আলপনা এঁকে দেয়া হয়। তারপরে মাটি দিয়ে ঘট বসানো হয়। ঘটের ওপর ডাব থাকে। থাকে চেরি কাপড় ।ঘটে স্বস্তিক চিহ্ন এঁকে দেওয়া হয়। সাথে ডাবেও থাকে।
সারা বাড়ি জুড়ে আলপনা দিতে বেশ ভালো লাগে সেদিন।তবে সাদা মেঝেতে আলপনা ভালো বোঝা যায় না বলে মন খারাপ করে ।আগেকার দিনে যেমন লাল রঙের সিমেন্টের মেঝে থাকতো, সেরকম জায়গা পেলে আলপনা দিয়েও শান্তি। দেখতেও কত সুন্দর লাগে।।
যাইহোক আজ এখানেই লেখা শেষ করছি। পরবর্তী পোস্টে বাকি কথা শেয়ার করব।




