জগন্নাথ মন্দির দর্শন - তৃতীয় পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি সকলে সুস্থ আছেন। গত পোস্টে যেখানে শেষ করেছি।তারপর থেকে লিখছি।
এখানে চওড়াতে চার পাঁচ ফুট জায়গার মধ্যে এত এত মানুষ কিভাবে আটবে! রীতিমতো গুতাগুতি। বাচ্চাকাচ্চা চেপে যাওয়ার মতো অবস্থা । তাই আমি ওড়িশা গভর্মেন্ট এর উদ্দেশ্যে অবশ্যই এটা বলতে চাই যেন ওরা এই জগন্নাথ টেম্পেলের এই ব্যবস্থার দিকটা খেয়াল করে।
দর্শনার্থীরা অনেক দূর থেকে শুধুমাত্র জগন্নাথ দেবকে দর্শন করতে আসে ।তাদের যদি কোন রকম ভাবে কোন কিছু হয়ে যায়, আর এভাবে চলতে থাকলে ,হয়ে যাবেই যে কেও পদপিষ্ট হয়ে হয়তো মারাও যেতে পারে।
আমাদের পান্ডা টা আমাদের চারজনকে যেভাবে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল গার্ড করে। তার মধ্যে থেকেও আমার মা একদিকে চলে যায়। আমি আরেকদিকে চলে যাই ।ভাই আর বাবা অন্যদিকে চলে যায়। কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ওই সময় এতটা ভিড় ছিল! যেভাবে সবাই ঠেলছিল, খালি বারবার মনে হচ্ছিল, মনে হয় পড়ে যাব।
তার মধ্যে সিঁড়ি, কেউ যদি সিঁড়ির মধ্যেও পড়ে যায়, তার উপর দিয়ে হয়তো ২০০/৩০০ মানুষ বেরিয়ে যাবে। তার মধ্যে রয়েছে পুলিশ দাঁড়িয়ে ।তারা সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তাদের শুধু কাজ মানুষকে বাইরে বার করে দেওয়া । তাও আবার পিঠে মেরে মেরে ।তাদের আচরণও আমার পছন্দ হলো না।
সব থেকে বাজে একটা বিষয়। যেটা খুবই নিন্দনীয়। সেটা হলো ওই ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে কিছু পুরোহিত আছে, যারা কিছুটা উঁচুতে সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে আছে এবং ভিড়ের মধ্যে থাকা ব্যক্তিদের হাতে তুলসী পাতা তুলে দিচ্ছে এবং টাকা চাইছে ওই মুহূর্তে।
সেম ঘটনা আমার বাবার সাথে হয়েছে। আমার বাবার হাতে তুলসী পাতার একটা বান্ডিল ঢুকিয়ে বারবার বলছে একশো টাকা দাও। আমার বাবা রীতিমতো রেগে বললেন যে ,এই ভিড়ের মধ্যে আমি টাকাটা বার করবো কোথা থেকে, পকেটেই হাত দিতে পারছি না। তিনি হাত থেকে আবার তুলসী পাতা টা কেড়ে নিয়ে নিলেন
তাহলে ওই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে ওই এত ভিড়ে যেখানে লোকজন মরে যাওয়ার মতো অবস্থা , সেইখানে দাঁড়িয়ে ওনারা ব্যবসা করছেন।
আমি এখানে আমার দেশকে বদনাম করছি না বা কিছুকে বদনাম করছি না। আমি শুধু এই ব্যবস্থার ঘোর বিরোধী। মানুষের মানসিকতা এতই নিচে নেমে গেছে, যেটা দেখে আবার সত্যিই দুঃখ হয় ।
কারণ আমি সত্যি কথা বলতে এখনো পর্যন্ত এই বয়সের মধ্যে আমি আমার দেশে প্রচুর প্রচুর মন্দির ঘুরেছি। আমার বাবা অনেক অনেক মন্দির দর্শন করেছে। তবে এরকম পুরীর মন্দিরের মতন এত বাজে পরিস্থিতি এত বাজে ব্যবস্থাপনা, সত্যিই আমি এর আগে কখনো দেখিনি।
বলতে গেলে পুরীর মন্দির দর্শন, জগন্নাথ দেবের দর্শন আমি মন মতন পাইনি। ওনাকে হয়তো দেখতে পেয়েছি কিন্তু আমার মন সন্তুষ্ট হয়নি এবং আমি ওই পরিস্থিতিটাকে কি বলে এক্সপ্লেইন করবো, আমি জানিনা।
ওটা তীর্থ স্থান আর নেই।পুরো ব্যবসা চলছে।ভগবান সুবুদ্ধি দিক সকলকে।এর থেকে বেশি কিছু বলার নেই।
"সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই"।
মানুষের প্রতি মানুষের ওই মানবতা কোথায় যে হারিয়ে গেছে ।এখন সবাই শুধুই টাকার পিছনে ছুটে বেড়ায়। সামনে এত এত কিছু বাজে হচ্ছে। ব্যবস্থা বাজে হয়ে যাচ্ছে ,পরিস্থিতি বাজে হয়ে যাচ্ছে। কত জনের কত সমস্যা । তাতে কারোর কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।আমি বাকরুদ্ধ।
আজ শেষ করছি এখানেই।



