নববর্ষ- শেষ পর্ব

in Incredible India4 days ago

নমস্কার বন্ধুরা। আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন।মাঝে কিছুদিন গ্যাপ দেওয়ার জন্য অনেক দুঃখিত।আমি নববর্ষের দিন এর মুহুর্তগুলো শেয়ার করছিলাম।আজ তার শেষ পর্ব শেয়ার করছি।

দিন সন্ধ্যেবেলায় হালখাতা করতে বেরিয়েছিলাম জানিয়েছিলাম। অনেক দোকানে ঘোরাঘুরি করছিলাম। একটা দোকান থেকে বেরিয়ে আর একটা জামা কাপড়ের দোকানে গেলাম সেটা আমার বাবার বন্ধুর দোকান। ওরাও বারবার আমাদের নিমন্ত্রণ করেছিল। মৌসুমী বৌদির ওখানে নিমন্ত্রণ ছিল, তাই আমি, মৌসুমী বৌদি আর ঈশান মিলেই গেলাম। সেম টু সেম সেখানেও মিষ্টির প্যাকেট দিল সকলকে ।

20260508_194100.jpg

তারপর চলে গিয়েছিলাম যশোরেশ্বরী বস্ত্রালয় । আমার বিভিন্ন পোস্টে এই জামা কাপড়ের দোকানটার নাম আপনারা বহুবার শুনেছেন। আসলেই সারা বছর ধরে এই দোকান থেকে প্রচুর জিনিস আমরা কিনে থাকি। হাজার হাজার টাকার জিনিস এখান থেকে কেনা হয়। তাই ওই দোকানেও চলে গিয়েছিলাম। সকলকে একটা করে আইসক্রিম দিল। তারপর সকলকে মিষ্টির প্যাকেট দিল। ওখান থেকে আমি একটা জামা ও কিনলাম।

সব নিয়ে মোটামুটি পাঁচটা দোকানে আমরা হালখাতা সারলাম। ওখান থেকে বেরিয়ে বেশি দেরি না করে বাড়ি চলে এসেছিলাম। বাড়িতে এসে আরো এক জায়গায় নিমন্ত্রণ ছিল।

1000453430.jpg

আমাদের পুতুল পট্টিতে যেহেতু শোরুম রয়েছে। তাই আশেপাশে যেসব দোকানে পুজো হয়েছে, সেখান থেকেও আমরা প্রচুর মিষ্টির প্যাকেট পেয়েছি।। টোটো করে যখন আমি ,ভাই, মৌসুমী বৌদি আর আমার পার্টনার বাড়ি ফিরছি। তখন মৌসুমী বৌদির হাতে কত ব্যাগ ,আমাদের সকলের হাতেই কত ব্যাগ। সব ব্যাগ এ মিষ্টির প্যাকেট রয়েছে। লাডুর প্যাকেট রয়েছে। না হলে সন পাপড়ির প্যাকেট রয়েছে। তখন আমরা বিশাল বড়লোক মিষ্টির দিক দিয়ে। হাহাহাহা।

বাড়িতে ফিরে এসে আমি বৌদি আর ঈশান মিলে চলে গিয়েছিলাম নিমন্ত্রণ খেতে। আমাদের বাড়ি এবং কারখানা তে যে দোকান থেকে প্রতিনিয়ত লোহার জিনিসপত্র , লোহার রড থেকে শুরু করে লোহার পাতি সমস্ত কিছুই ওই দোকান থেকে কেনা হয়।।

আপনারা জানেন আমাদের মূর্তির ব্যবসা। মূর্তি তৈরি করতে হলে ভেতরে আয়রন স্ট্রাকচার দিতেই হয়। আর বড় বড় মূর্তি তৈরি হয় তাই প্রচুর পরিমাণে লোহা লাগে। ভেতরের একটা স্ট্রাকচার বানাতে। সমস্ত কিছুই ওই দোকান থেকে সাপ্লাই দেয়া হয়।। তাই প্রত্যেক বছর ওই দোকানের মালিক যিনি আমার বাবার বন্ধু আমাদের সকলকে নিমন্ত্রণ করে থাকে, কিন্তু প্রত্যেক বছর আমার মা আর বাবা যায় না ,আমাকে আর ঈশানকেই পাঠায়।

20260508_194008.jpg

ওদের আসলে খাওয়া দাওয়ার সিস্টেম থাকে। প্রত্যেক বছরই দুপুরবেলা করে ওদের ওখানে খাওয়া-দাওয়া করতে যাই। কিন্তু এ বছর দুপুরবেলায় এত পরিমাণে গরম পড়েছিল তাই যেতে পারিনি। ওরা ফোন করাতে আমি বলেছিলাম রাতে যাব। এ কারণেই বৌদিকে আর ইশানকে নিয়ে রাতে যাওয়া। ওখানে পৌঁছাতে দেখলাম প্রচুর লোকজন খেতে বসে গেছে। আমাদের দেখে সাথে সাথে ই প্রচন্ড আপ্যায়ন করলো। এবং আমরা খেতেও বসে গেলাম।

20260508_193908.jpg

প্রতিবারের মতো এবারও বাসন্তী পোলাওটা এবং পনিরের তরকারি আর আলুর দমটা বেশ ভালো ছিল। বৌদি তো এত আইসক্রিম খেয়েছে, যে ওখানে গিয়ে আর খেতেই পারছিল না। আসার সময় কাকু আমার হাতে মিষ্টির প্যাকেট দিল। ওরা তিওয়ারি কোম্পানীর শন পাপড়ি দিয়ে থাকে, যেটা অসাধারণ খেতে। তারপর আমাদের হাতে পার্সেলও দিয়ে দিল, যেহেতু বাবা-মা আসেনি।

ওখান থেকে বেরিয়ে সোজা চলে আসলাম বাড়িতে টোটো করে। আমি যতক্ষণ ছিলাম না আমার পার্টনার আর আমার মা মিলে বসে বসে গল্প করছিল। আমরা আসার পর আমাদের সাথে কিছুক্ষণ থেকে পার্টনারও বাড়ির দিকে রওনা হলো বাইক নিয়ে। মোটামুটি মিষ্টির প্যাকেটের সম্ভার নিয়ে পহেলা বৈশাখ খুবই ভালো ভাবে কাটলো।