প্রিয় মানুষের জন্মদিনে

in Incredible India15 hours ago

নমস্কার বন্ধুরা ।আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আপনাদেরকে শেয়ার করার জন্য কত কত ছবি তুলে রাখি ,আমার দিনের প্রত্যেকটা মুহূর্তের ছবি বুঝি ক্যামেরাবন্দি হয়ে থাকে শুধু এই প্লাটফর্মে শেয়ার করব বলে। তবে মাঝেমধ্যে সময়ের অভাবে সেগুলো শেয়ার করা হয়ে ওঠেনা। কিছুদিনের গ্যাপ গেলেই কত্তগুলো ছবি জমে যায়।

1000443554.jpg

আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি জানুয়ারি মাসের ৩ তারিখের কিছু মুহূর্ত। জানুয়ারি মাসের ৩ তারিখ হল আমার হবু বর এর জন্মদিন। অর্থাৎ ওই যাকে আমি আমার পার্টনার বলি।

যাইহোক প্রত্যেক বছর একই রকম ভাবে তো জন্মদিন সেলিব্রেট করা যায় না। একই রকম সারপ্রাইজও ভালো লাগেনা। আর সত্যি বলতে বিগত কিছু মাস হল ও নিজেও একটু কাজের চাপে এত ব্যস্ত হয়ে গেছে , এসব নিয়ে ওর মাথা ব্যথাই নেই। আমার জন্মদিনের ঠিক চারদিন পরে ওর জন্মদিন থাকে।

1000443551.jpg

আমরা দুজন একই সালে জন্মেছি। ও বছরের একদম শুরুতে আর আমি বছরের একদম শেষে। মানে ও জানুয়ারিতে আর আমি ডিসেম্বরে। তাই জন্মদিন যখন আসে ,চার দিনের গ্যাপ এ ,একটা মজার ব্যাপারই হয়।। মাঝেমধ্যে বলি ওকে ,একসাথেই জন্মদিন সেলিব্রেট করব। কোন এক বছর হয়তো সেটাও হবে।

1000443586.jpg

আমার জন্মদিন নিয়ে যে মানুষটার এত মাতামাতি, তার জন্মদিনে কি করব যখন ভেবে পাচ্ছি না ,তখন সত্যিই মাথাটা গরম হয়ে যাচ্ছিল। এর আগের বছর ওর বাড়িতে আমরা সবাই মিলে জন্মদিন সেলিব্রেট করেছিলাম। আমার ফ্যামিলি উপস্থিত ছিল প্লাস ওর ফ্যামিলি। এবং ও খুব আনন্দ পেয়েছিল। তার আগের বছর ওর জন্য একটু আলাদাভাবে সারপ্রাইজ প্ল্যান করেছিলাম একটা রেস্টুরেন্টে।

1000443582.jpg

এবারে প্ল্যানটা দুজন মিলেই করেছি । দুজন মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে কৃষ্ণনগরে মাদার্স হাট এ মানে রেস্টুরেন্ট এ জন্মদিন সেলিব্রেট করব ভেবেছি। আমাদের সাথে ছিল ওর দাদা আর বৌদি। আসলে যে রেস্টুরেন্টের কথা বলছি সেটার কথা আপনারা অনেকবারই শুনেছেন। ওই রেস্টুরেন্টের অনেকগুলো সেকশন আছে ।এক এক করে সেকশনগুলো ওরা ওপেন করছে। নতুন একটা সেকশন ওপেন করার পর আমরা একদিনও সেখানে যায়নি। এ কারণে জন্মদিনের দিনটাই বেছে নিলাম ওখানে যাওয়ার জন্য।

1000443550.jpg

আমাদের বাড়ি থেকে মোটামুটি ৮-৯ কিলোমিটার দূর। আমি ওর বাইকে করে, আর ওর দাদা বৌদি আর একটা বাইকে। এই ভাবেই পৌঁছে গেলাম mother's hut। আমাদের সাথে কিন্তু ঈশানও ছিল।সেদিন তো ভীষণ ঠান্ডা। এতটা ঠান্ডা ধারণার বাইরে। তবে কৃষ্ণনগরে যতই ঠান্ডা পড়ুক ,সেটাও আমার কাছে কম। কারণ ঠান্ডা আমার ভীষণ ভালো লাগে।

1000443542.jpg

রেস্টুরেন্টে ঢোকার আগেই দেখলাম এখনো কনস্ট্রাকশনের কাজ চলছে । আগের সেকশনটাতে যেমন ঢোকার গেটের আগেই অনেক জিনিসপত্র নিয়ে দোকানদাররা স্টল দেন। সেদিনও তাই ছিল ওই আউটলেটের সামনে। তারপর তো ঢুকতেই দেখলাম এরিয়াটা আসলেই অনেক বড়। বিশাল বড় জায়গা জুড়ে রেস্টুরেন্টটা তৈরি করা হয়েছে।। ইন্টেরিয়র ডিজাইনগুলো অন্যরকম। আমি ভিডিওতে দেখেছি এদের কিচেনটাও অনেকটা বড় করা হয়েছে।।

1000443543.jpg

এই রেস্টুরেন্টের মালিক আমার বাবার বন্ধু। সেই সূত্রে আমার সাথেও খুব ভালো সম্পর্ক। সেদিন কে দেখা হতেই কাকা আমাকে বলেছিল কিচেন টা একবার ঘুরে আসতে। আমি সেদিন সময় পাইনি, তবে অবশ্যই একদিন যাওয়ার ইচ্ছা আছে। ওরকম বড় কিচেন দেখার জন্য।

রেস্টুরেন্টে ঢোকার পরেই দাদা বৌদি যখন একটু ফ্রেশ হতে গেল ,আমি আর আমার পার্টনার মিলে কেকের দিকে চলে গেলাম। দেখতে গেলাম কি কি কেক আছে। আসলে ও তো সবই জানে, তাই জন্য এগুলো নরমাল ম্যাটার হয়ে দাঁড়িয়েছিল ওই সময়।।

1000443548.jpg

আমার এক্সাইটমেন্ট আর আনন্দই ওর কাছে অনেকটা। দু-তিন মিনিট পরেই বসতে না বসতেই কয়েকটা ছবি তুলতে লাগলাম। তারপরেই রোবট এ করে হাজির হয়ে গেল কেক। একটা চকলেট কেক অর্ডার করেছিলাম। কেক আসার সাথে সাথেই মোমবাতি দিয়ে সাজিয়ে দিলাম। তারপর তো সবাই মিলে হাততালি দিয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা সহ কেক কাটিং হল। কেকটা আসলেই অনেক ভালো খেতে ছিল। আমি বেরোনোর আগে ওর জন্য কিছু ফুল কিনেছিলাম । সেটাও ওকে দিলাম।

1000443578.jpg

আজকের মত এখানেই শেষ করছি বন্ধুরা। পরের পোস্টে বাকি কথা শেয়ার করব। সেখানে খাবার নিয়েও কথা হবে।