অক্ষয় তৃতীয়া - ১ ম পর্ব
শুভ অক্ষয় তৃতীয়া বন্ধুরা। যা কিছু শুভ, সবই অক্ষয় হয়ে থাক এই কামনা করি। আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন, ভালো আছেন। এই প্রচন্ড গরমে অবশ্যই নিজেদের শরীরের খেয়াল রাখুন, আর বেশি করে জল খান। আজকে যেহেতু অক্ষয় তৃতীয়া, তাই আমি সেই উপলক্ষে পোস্ট করতে চলেছি।
প্রতিবছর এই দিন আমাদের শোরুমে পুজো হয়ে থাকে। এ বছরেও হয়েছে। আমাদের ঘূর্ণি পুতুল পট্টিতে যে দুটি শোরুম আছে এবং যে কারখানাটি রয়েছে। সবকটার পুজো একেবারে আমাদের প্রথম দোকানে একসাথে দেয়া হয় আজকের দিনে। এ কারণে তিন জায়গার জন্য তিনটে মূর্তি আগে থেকেই তৈরি করা হয় এবং একসাথে মূর্তিগুলিকে রেখে পুজো করা হয়।।
তিন জোড়া লক্ষ্মী গণেশ আমাদের কারখানাতে এক সপ্তাহের মধ্যে তৈরি করা হয়ে যায়। কিন্তু এগুলো সব লাল রংয়ের হয়। বাবাকে একজন পুরোহিত বলেছিলেন এই কারণেই এই লাল রং করা। এবারে রংটা খুবই সুন্দর হয়েছিল। কালার টা খুবই ফুটছিল। এটাকে ঠিক লাল রং বলা যাবে না, কমলা আর লাল এর একটা মাঝামাঝি রং বলতে পারি।
প্রতিবছর বাড়ির সমস্ত পুজোর বাজার আমি করে থাকি ।তবে শরীর ভালো না থাকায় পুজোর বাজারটা আমি করিনি।। তাই দুদিন ধরে বাড়ির লোকজন একটু হিমশিম খেয়েছে।। যেহেতু পূজোর বাজার গুলো পুরোপুরি আমার ওপর ছেড়ে দেওয়া তাই অন্য কাউকে করতে দিলে স্বাভাবিকভাবেই একটু অসুবিধা হয়।। আমি ঘরের পূজা উপলক্ষে সুন্দরভাবে যেগুলো গুছিয়ে আনতে পারি ,অন্য কাউকে করতে দিলে ,তাকে অনেক বুঝিয়ে বুঝিয়ে আনতে হয়।
সকাল বেলায় আটটার সময় আজকে পুজো হবে, এটাই পুরোহিত বলেছিলেন।। পঞ্জিকাতে লেখা আছে পোনে এগারটায় তৃতীয়া ছেড়ে যাচ্ছে ,আবার এদিকে বেশিরভাগ জায়গায় দেখছি সাড়ে সাতটা অব্দি অক্ষয় তৃতীয়া রয়েছে এটাই দেখাচ্ছে। গতকালই তৃতীয়া লেগেছে সকাল ১১ টা নাগাদ। তবে এই দোটানাতে পুরোহিতকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো ,তিনি পঞ্জিকাটাই ফলো করলেন।। সকাল আটটা নাগাদ পূজো করতে আসলেন তিনি।
সকাল বেলায় ভেবেছিলাম তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে মায়ের সাথে একটু সাহায্য করবো। সত্যি বলতে আমি সকাল পাঁচটা নাগাদ উঠে পড়েছি। কিন্তু ঘটনা হলো উঠে পড়লেও বিছানা থেকে উঠতে পারছিলাম না। বেশ কিছুদিন শরীর অসুস্থ থাকায় এতটাই শরীর দুর্বল হয়ে গেছে যে মাথাটা তুলতে অসুবিধা হচ্ছিল। তার সাথেই গত বিকেল থেকে প্রচন্ড পায়ে ব্যথা। শরীরে যে আর কি কি হচ্ছে, আমি নিজেও জানিনা ,এবার ভেবেছি একটা ভালো ডাক্তার দেখাতে হবে।
এ কারণ এ এই সকাল বেলায় মায়ের সাথে উঠে সাহায্য করতে পারেনি। তবে ৭:০০ টার মধ্যে স্নান সেরে নিয়েছিলাম। এবং রেডি হয়ে চলে গিয়েছিলাম দোকানে। আমাদের দোকানে গিয়ে এই পুজোর জায়গাটা সুন্দরভাবে গুছিয়ে নিয়েছিলাম। আমার মা সমস্ত কিছু রেডি করে দিয়েছিল ,এমনকি সমস্ত ফল প্লেটে কেটে সাজিয়ে দিয়েছে, ফুলের সমস্ত জিনিস সাজিয়ে দিয়েছে, বাতাসা ,মিঠাই ,মিষ্টি যা যা লাগে সমস্ত প্লেটে সাজানো। শুধু বাড়ি থেকে দোকানে নিয়ে যাওয়া।
আজকে এখানেই শেষ করছি, পরের দিন বাকি কথা শেয়ার করব।




