মূল আকর্ষণ - কাবাব
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি গত পোস্টের পরবর্তী পর্ব। গত পোস্টে শেয়ার করেছিলাম বছরের শুরুটা উদযাপন করার কিছু মুহূর্ত। শুরু হয়েছিল ৩১ শে ডিসেম্বর ২০২৫ এর সন্ধ্যের মুহূর্ত দিয়ে। আজ বাকিটা শেয়ার করছি।
প্রত্যেকটা দিন প্রত্যেকটা সময় আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে যায়। হয়তো আমরা বুঝে উঠতে পারছি না সময় প্রতিনিয়ত আমাদের কিছু না কিছু দিয়ে যাচ্ছে। একটা গোটা বছর চলে যাওয়ার পর বছরের শেষের দিন কিংবা শুরুর দিন এই অনুভবটা অন্তত আমার হয় যে সারা বছর টা কি করলাম। সারা বছর জুড়ে কি কি হয়েছে তার একটা ফ্ল্যাশব্যাক মোটামুটি ভাবে চোখে ভাসে। বিশেষ করে ভাসে এ বছরের শুরুটা কেমন ছিল।
একটা দিনে একটা সেকেন্ডে মানুষের জীবন পরিবর্তন হয় আর ৩৬৫ দিনে কত কিছু যে হয়ে যায়। কিছু কিছু সময় আমরা মনে করি আমরা হয়তো সেই পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে পারবো না। কিন্তু ওই মুহূর্ত পার হয়ে আরো কতগুলো দিন পার করে দিই। ভাবতেই অবাক লাগে। তাই নতুন বছরের নতুন শুভকামনা নিয়ে নতুন আশা নিয়ে আবার আমাদের জার্নি শুরু হয়।
গত পোস্টে যেখানে মুড়ি মাখা আর বাঁধা কপির চপের শেষ করেছিলাম। আজ কিন্তু মুরগির কাবাব রয়েছে। যদিও আমি এই পোড়া খাবার খুব একটা পছন্দ করি না। শুধুমাত্র বেগুনের ভর্তাটা অর্থাৎ বেগুন পোড়া ভালো লাগে। বাকি এই মাংস পুড়িয়ে খাওয়া জিনিসটা আমার অতটা পছন্দের নয়। তাই সেদিনকে সকলে আনন্দ করে মুরগির ঠ্যাং গুলোকে সুন্দরভাবে মসলা দিয়ে মাকে রাখলেও আমার অতটা মনোযোগ ছিল না।

তারপর আমার পাশের বাড়ির ভাইটা যখন খুব সুন্দর ভাবে গমগম করে লাল আগুনের মধ্যে কাঠ কয়লা গুলোকে ঢাল ছিল তার ওপর লোহার নেট বসিয়ে তার ওপর মুরগির ঠ্যাং গুলোকে সুন্দর করে সাজিয়ে দিচ্ছিল, সেটার দিকেও খুব একটা চোখ যাচ্ছিল না।। শুধুমাত্র আপনাদের সাথে শেয়ার করব বলে কয়েকটা ছবি তুলে রেখেছিলাম।
ওদের কাছেই শুনেছি খুব সুন্দর খেতে হয়েছিল। তবে আমার ওই মাংসপোড়ার গন্ধটা কেমন যেন সহ্য হয় না। এর মাঝখানে কে হঠাৎ করে পেঁয়াজ আর গোটা টমেটো বসিয়ে দিয়েছিল ওই লোহার নেটের উপর। যে যা পারছিল করে যাচ্ছিল। কেউ সর্ষের তেল কেউ বাটার নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল মাংসগুলোর গায়ে লাগাবে বলে। কেউ চেঁচিয়ে উঠে বলছিল আর বেশিক্ষণ আগুনে রেখো না পুড়ে যাবে। আবার কেউ বলছিল বেশি পোড়া মাংসই খেতে ভালো। মোটামুটি সবার মেলবন্ধনে একটা খাবার প্রস্তুত হয়েছিল।
তারপর আমরা খাসির মাংস অর্থাৎ মটন কষা রান্নার প্রস্তুতিতে চলে গিয়েছিলাম। সবাই মিলে এইভাবে রান্না করতে খুব আনন্দ হচ্ছিল। আজকের মতন মুরগির কাবাবই থাক।
হাস্যকর ব্যাপার হলো, সারা বছরের একটা বিরাট বড় সিনেমা শেষ হবার পর, যখন আমাদের অবস্থা পুরোপুরি চিকেন কাবাব! বছরের শেষ দিনেও তাই কাবাব নিয়ে সেলিব্রেট করতে হয়। এটা বাধ্যতামূলক যে !! এটা হজম হওয়ার পর কালকে না হয় বাকি খাওয়া দাওয়া নিয়ে আলোচনা হবে।



.jpg)
