কালীপুজো -২ য় পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি আমার কালীপুজোর সন্ধ্যেবেলার কিছু মুহূর্ত। গত পোস্টে কালীপুজোর প্রদীপ দেওয়া নিয়ে বিশেষ কিছু কথা শেয়ার করেছিলাম ।আজকে তার পর থেকে শুরু করছি ।
যেদিন কালীপূজা ছিল সেদিন সন্ধ্যেবেলায় আমি আর বৌদি মিলে কিছুটা ভালো সময় স্পেন্ড করেছি।। প্রত্যেক বছরই আমি ফুল এর পাপড়ি দিয়ে রাঙ্গলি বানাই ,তার মধ্যে মোমবাতি বদিয়ে সুন্দরভাবে ডেকোরেট করি। ডেকোরেশনটা একেক বছর একেক রকম ভাবে করার চেষ্টা করে থাকি। এবারেও একটু নতুনভাবে করার চেষ্টা করেছি।
এজন্য সকালবেলাতেই হলুদ রঙের গাঁদা ফুল আর কমলা গাঁদা ফুল কিনে রেখেছিলাম। সব থেকে বাজে বিষয় হলো, সেদিন গাঁদা ফুলের দাম খুব বেশি ছিল। একটা ফুলের মালা ৫০ টাকা করে দাম বলছিল। আমি তো শুনে অবাক। ভেবেছিলাম অনেকগুলো গাঁদা ফুল এর মালা কিনব। সবশেষে দুটো কিনেছিলাম ৪০ টাকা করে।
মাঝেমধ্যে হঠাৎ করে গাঁদা ফুলের এরকম অত্যাধিক দাম বেড়ে যায় । পুজোর সময় যেকোনো ফুলের দাম তো অত্যাধিক বেশি থাকেই। যাইহোক যে গাঁদা ফুল এর মালা দুটো কিনেছিলাম ,সেখান থেকেই ফুলগুলো ছিঁড়ে নিয়ে পাপড়ি গুলো দিয়েই ডেকোরেট করেছিলাম সুন্দর করে। আমাকে সাহায্য করার জন্য মৌসুমী বৌদি চলে এসেছিল সন্ধ্যের দিকে।
তারপরে তো আমরা রেডি হয়ে নিয়েছিলাম বেরোবো বলে। তবে বেরোনোর আগে দুজন মিলে মোমবাতিগুলো মাঝে মাঝে বসিয়ে সুন্দরভাবে ডেকোরেট করে নিয়েছিলাম ।তারপর যখনই মোমবাতিগুলো জ্বালিয়ে দিলাম ।দারুন লাগছিল জায়গাটা। আপনারা আশা করি ছবিটাতে বুঝতেই পারছেন কতটা সুন্দর লাগছে, তাহলে ভাবুন সামনে থাকলে কেমন লাগত।
বাড়িতে যে কোন অনুষ্ঠানে খুব অল্প খরচে এভাবে কিন্তু আপনারা রঙ্গলি বানাতে পারেন। এর জন্য খুব বেশি খাটনি করে ডিজাইন করার প্রয়োজন পড়ে না।। নরমাল একটা ফুলের মতন করে তার মাঝে মাঝেই মোমবাতি বসিয়ে দিলে হয়ে যায়। মাঝে যে অনেকগুলো প্রদীপের জায়গা দেখছেন ,সেটা আমি কিনেছিলাম ।তাই মাঝখানে বসিয়ে দিয়েছি ।
ফুল দিয়ে রঙ্গলি যেমন আমি মাঝেমধ্যে বানিয়ে থাকি, তার সাথে আরো একটা প্রসেস আছে। সেটা হচ্ছে আলপনা দিয়ে ,মাঝে মাঝে মোমবাতি দিয়ে সাজানো । সেটাও কিন্তু অসম্ভব সুন্দর দেখতে লাগে। আমি বহু বছর আগে এরকমভাবে চেষ্টা করেছিলাম। হতে পারে আমার পুরনো পোস্টগুলোর মধ্যে রয়েছে।
তবে স্টিক মোমবাতির থেকে এরকম মোমবাতি বেশি দেখতে ভালো লাগে ।এগুলো এক প্যাকেট কিনে নিলেই তাতে ৫০ টা থাকে। অনলাইনেও আপনারা দেখতে পারেন। আমি এ প্যাকেটগুলো অনলাইনে কিনে থাকি। তবে এবারে কালীপুজোর লাইট,মোমবাতি ,প্রদীপের বাজার করার সময় হঠাৎ করে প্যাকেটটা দেখে কিনে নিলাম ।দাম নিয়েছিল একশো কুড়ি টাকা।
রঙ্গোলিটাকে বসে বসে আমরা অনেকক্ষণ দেখেছি আর অনেকগুলো ছবি তুলেছি কারণ আমাদের বেশ ভালো লাগছিল। তারপর তো আমরা বেরিয়ে পড়েছিলাম ঠাকুর দেখার জন্য।
কালী পূজার সময় নিজের ঘর বাড়ি এইভাবে আলো দিয়ে সাজাতে সবার মত আমিও পছন্দ করি। তবে সব সময় সাবধান থাকি আগুন এবং কারেন্ট থেকে। কারণ কালীপুজোর সময় চারিদিকে বহু ভয়ানক ঘটনা শুনতে পাওয়া যায়। গত বছরে কারেন্টের কারণে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে ,এছাড়া আগুনের জন্য। তার ওপর বাজি পটকার জন্যও প্রচুর মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই ঘটনাও শুনতে পাওয়া যায়। তাই কালীপুজোর সময় হোক কিংবা যে কোন পূজার সময় এসব জিনিস থেকে সাবধান থাকা উচিত এবং খুব সাবধানতার সাথে এগুলো ব্যবহার করা উচিত।।
এখানেই শেষ করছি আজ । সকলে ভালো থাকুন।








