রাধাষ্টমীর দিন সকাল বেলা
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আগে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি রাধাষ্টমীর দিন এর কিছু মুহুর্ত ।
রাধাষ্টমীর দিন প্রত্যেক বছর বাড়িতে বেশ ভালো করেই পুজো হয়। আমি আর মা মিলে খুব গুছিয়ে পূজা করি সেদিন। কিন্তু বিগত কিছু দিন ধরে আমার এবং বাড়ির সকলের এতই শরীর খারাপ যে জন্মাষ্টমীটা সুন্দরভাবে আয়োজন করে পুজো দিতে পারলেও রাধাষ্টমীর দিন সেটা সম্ভব হয়নি । সকালবেলা থেকে মন তো খারাপ ছিলই এ কারণে। শরীরটাও বেশ খারাপ ছিল ।
মা পুজোর ঘরে যেটুকুনি জোগাড় করে ঠাকুরকে দিতে পেরেছিল। আর আমি এদিকে রান্নাঘরে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলাম। মা টুকটুক করে রাধারানীর জন্য ভোগ নিবেদন করবে বলে ক্ষীর, কলার বড়া তৈরি করে ফেলেছিল। তার সাথে ছিল ফল , মিষ্টি আরো যাবতীয় মা যেটা ইচ্ছা হয়েছে মা ভোগের জন্য রেখেছিল।
এদিকে আমি স্নান সেরে রান্নাঘরে ঢুকেই রান্না করতে লেগে গেছিলাম সেদিন রান্না করেছিলাম আলু দিয়ে পনিরের একটা তরকারি। আর আর একটা মাখামাখা তরকারি করেছিলাম।। সেটার নাম কি রাখা যায় তা জানিনা। তবে আপনাদের একটু শেয়ার করি। ওই চারটে পটল আর তিন-চারটে ঝিঙে ছোট ছোট করে কেটে নিয়ে সেটাকে কালো জিরে, তেজপাতা, আর একটা শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিয়ে প্রথমে ভেজে নিয়েছিলাম।
এর আগে সাদা তিল হাফ কাপ মত, হাফ টমেটো, পাঁচটা কাঁচা লঙ্কা, পরিমাণ মতো আদা, সবকিছু একসাথে মিক্সচার গ্রাইন্ডারে পেস্ট করে রেখেছিলাম জল দিয়ে। যখন সবজিগুলো ভাজা ভাজা হয়ে যায় তারপরে এই পেস্ট ওর মধ্যে ঢেলে দিয়ে, ভালো করে খুন্তি দিয়ে নাড়াচাড়া করতে লাগি। সাথে পরিমাণ মতো লবণ অ্যাড করে দিলাম। দিয়েছিলাম পরিমাণ মতন জিরের গুরো আর ধনের গুঁড়ো। ঢাকা দিয়ে বেশ অনেকক্ষণ মিডিয়াম থেকে লো ফ্লেমে রান্না চলে। মাঝে একটুখানি জল দিয়েছি। তবে যেহেতু ঝোল ঝোল করবো না তাই বেশি পরিমাণ জল দেইনি।
নামানোর আগে গরম মসলা আর সামান্য একটু চিনি দিয়ে নামিয়ে নেওয়া। সেদিনকে হঠাৎ যেমন মনে হয়েছে তেমনভাবেই রান্না করেছি। সত্যি বলছি কি অসাধারণ খেতে লাগছিল। এটাকে কি রেসিপি বলবো আমি জানি না তবে অসাধারণ খেতেছিল। আমি যেভাবে বললাম আপনারা এভাবে রান্না করে দেখতে পারেন।।
আমার পিসি সেদিনকে বাড়িতে এসেছিল। সবাই মিলে দুপুরবেলায় যখন খেতে বসলাম আমার হাতের এই দুটো তরকারি রান্না খেয়ে সবাই মন্ত্রমুগ্ধ। বিশেষ করে সাদা তিল দিয়ে যে তরকারিটা করেছি, ওটা খেতে আসলেই খুব ভালো ছিল। আমার বাবা তো খুব পছন্দ করেছে। যেহেতু আমার বাড়িতে সকলেরই ঠান্ডা লেগে আছে। রীতিমতো জ্বর সর্দি নিয়েই ভুগছি সবাই। সবার মুখে কিন্তু ওই তরকারির স্বাদ দুর্দান্ত লেগেছিল তাই।
রাধাষ্টমীর দিন সন্ধ্যা বেলার দিকে আমাদের এক জায়গায় যেতে হয়েছিল সেটা নিয়ে অন্য দিন পোস্টে লিখব। আজকে এখানেই শেষ করলাম।


