অষ্টমীর সন্ধ্যা
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। গত পরশু আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম আমার অষ্টমীর সকালের মুহূর্ত। আজকে অষ্টমীর দিন সন্ধ্যেবেলার মুহূর্ত আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।
জানিয়েছিলাম যে সপ্তমীর দিন সন্ধ্যেবেলা থেকেই শরীরটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। জ্বর ,সর্দি, কাশিতে শরীর আর পারছিল না।আমি বিছানাতেই শুয়ে এই পূজার মধ্যে। অষ্টমীর দিন সকালবেলাতে কি পরিস্থিতি ছিল, তা পরশু পোস্টে শেয়ার করেছিলাম। অষ্টমী দিন দুপুরবেলায় এরকম শুয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ করে আমার বাবার এক বন্ধু আসে বাড়িতে। বাবার ওই বন্ধুটি মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ।
আমার এই অবস্থা দেখে কিছুটা সময় পর বাইরে থেকে ঘুরে এসে আমাকে দুটো ওষুধ হাতে ধরিয়ে দিল। একটা ওষুধ ছিল প্যারাসিটামল। আর একটা ওষুধ হল মনটেক এল সি। বলল এই ওষুধগুলো খেয়ে নে ,দেখ বিকেলের মধ্যে তুই ঠিকঠাক হয়ে যাবি।আর এরপর এক কাপ চা খেয়ে নিস। আমি তো প্যারাসিটামল খেয়েছিলাম আগে তবে ওই ওষুধটা খাইনি।
সকাল থেকেই প্রচুর জল খাচ্ছি ।আর চাও অনেক বার খাওয়া হয়েছে। এইজন্য ওষুধ দুটো খাওয়ার পরে চা আর খাইনি। তবে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। কাকার কথা মতো বিকেল বেলায় যখন ঘুম থেকে উঠলাম, আস্তে আস্তে দেখছি শরীরটা ঠিক হতে শুরু করল।
সবাই অষ্টমীর পুজোর দিনে ঠাকুর দেখতে বার হয় ।মায়ের তাই ভীষণ খারাপ লাগছিল ।আমি এইভাবে বিছানায় পড়ে আছি দেখে। মাও বুঝতে পারল শরীরটা আস্তে আস্তে সুস্থ হচ্ছে। তাই বলল চল ,তোকে আশেপাশের কয়েকটা ঠাকুর দেখিয়ে নিয়ে আসি।
তখনও মন থেকে জোর পাচ্ছিলাম না ।কারণ ভয় পাচ্ছিলাম ভিড়ের মধ্যে ঠাকুর দেখতে গিয়ে যদি মাথা ঘুরে পড়ে যাই। অবশেষে আস্তে আস্তে রেডি হলাম। চোখমুখ বসেছিল তাই হালকা মেকাপ করতে হলো। সাধারণত মেকআপ আমি করিনা। শরীর খারাপ হওয়াতে মুখ চোখের অবস্থা যা ছিল,সে কারণেই মেকআপ করা।
হালকা একটু মেকআপ করে রেডি হয়ে নিলাম। মা বাবার সাথে ভাইয়ের সাথে বেরিয়ে পড়লাম ঠাকুর দেখতে। প্রথমেই প্ল্যান ছিল বাড়ির কাছেই পাঁচ মিনিটের দূরত্বে একটা বেশ বড় পুজো হয়, সেই ঠাকুরটা দেখতে যাওয়ার, সেখানে মেলাও বসে। মেইন রোডের ওপরেই বাঁদিকে পুজোর মন্ডপ। মা ,বাবা, ভাই বাবার বাইকে আর আমি আমার বাবার ওই বন্ধুর বাইকে করে ঠাকুর দেখতে গেলাম।
সত্যি বলতে টানা ঘরের মধ্যে থাকতে থাকতে দম আমারও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বাড়ির বাইরে বেরোনোর পরে খোলা আকাশে নিঃশ্বাস নিয়ে সত্যিই ফ্রেশ লাগছিল। রাস্তায় বেরিয়ে বুঝতে পারলাম পুজোতে সকলে কেমন আনন্দ করছে। ভাগ্যিস মায়ের কথা মতো একটু হলেও বাইরে বার হয়েছিলাম। ঠাকুরটা অসম্ভব সুন্দর ছিল। ভিড় কাটিয়ে আস্তে আস্তে মন্ডপের ভেতরে ঢুকলাম। মন্ডপের সামনে একটা কনসার্ট হচ্ছিল।
রাস্তার বাঁদিকে এরকম ভাবে প্যান্ডেল হয় বলে পুজোর ওই কটা দিন ওইটুকুনি জায়গায় পুরোপুরি ভিড় থাকে। রীতিমতো বড় থেকে ছোট গাড়িগুলো চলাফেরা করতে থাকে, এর সাথে মেলা তার ওপর পুজোর ভিড়। সবমিলিয়ে ওই জায়গাটা জ্যাম বেঁধে যায়। আপনাদের সাথে শেয়ার করব বলে যেটুকুনি পারলাম, ছবি তুলে রাখলাম।
তারপর ঠাকুর প্রণাম করে আবার বেরিয়ে পড়লাম। বেরোনোর পরেই লাইট দিয়ে সাজানো রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে আমি, মা ,বাবা, ভাই সবাই মিলে কয়েকটা ছবি তুললাম। কাকা ছবি তুলে দিল।। তারপর আবার বাড়ি ফেরার প্ল্যান করছিলাম। কিন্তু মা বলল বেরিয়েছি, যখন চল আরো কয়েকটা ঠাকুর দেখে নিই। আমারও খুব একটা অসুবিধা হচ্ছিল না শরীরে। আমিও রাজি হয়ে গেলাম।
ওই ভিড়ের মধ্যে আর বেশিক্ষণ না থেকে বেরিয়ে পড়লাম অন্যান্য ঠাকুর দেখার উদ্দেশ্যে। আজকের মত এখানেই শেষ করছি। বাকি ঠাকুরের ছবি এবং বাকি মুহুর্ত পরের পোস্ট এ শেয়ার করব।।







