লাগেজ প্যাকিং
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি সকলে সুস্থ আছেন ।গতকালের পোস্ট এ শেয়ার করেছিলাম বাবা মাকে ফোন করে পুরীতে যাওয়ার জন্য জিজ্ঞেস করছিল ।তারপর আমরা কি প্ল্যান করেছি, সবটাই আজকে শেয়ার করছি।
অনেক ছোটবেলায় মনে আছে তখন আমি ক্লাস ফাইভে পড়ি ।আমার দাদু মারা যান ২০১০ সালে। ২০১১ সাল নাগাদ আমি পুরীতে গিয়েছিলাম।। দাদু মারা যাওয়ার আগেই ট্রেনের টিকিট কাটা ছিল বলে, আমরা সেগুলো ক্যানসেল করতে পারিনি। দাদুর সমস্ত কাজ হয়ে যাওয়ার পরেই একমাস পরেই আমাদের পুরীতে যাওয়া ছিল ।আমরা গিয়েছিলাম তবে মন্দিরে পুজো দিতে পারিনি ।যেহেতু আমাদের হিন্দু ধর্ম মতে ওই এক বছর কাল অশৌচ থাকে।।
মায়েরও ভীষণ ইচ্ছা ছিল পুরীতে পূজো দেওয়ার। তো সেই কারণে মায়ের এক্সপ্রেশন দেখে বুঝতে পারলাম ।আমার মায়ের যাওয়ার ইচ্ছা আছে। বাবাকে হ্যাঁ বলার আগেই আমি সোজা চলে গেলাম আমার ঘরে। সাথে সাথে ব্যাগ গোছাতে লেগে গিয়েছিলাম।। আর এদিকে আমার বাবা-মা বাবা মিলে আলোচনা করছে। সমস্ত কিছু জানছে ,শুনছে, যে কে কে যাবে, কিসে করে যাওয়া হচ্ছে, কত ঘন্টা লাগবে ,যাবতীয় সবকিছু, কদিনের ট্যুর ,সবকিছু।।
আসলে আমরা যতবারই কোথাও ঘুরতে যাই, বেশিরভাগ সময় আমরা চারজন মিলে যাই ।তবে লাস্ট ট্রিপ যেটা বেনারস ছিল, গত বছর জানুয়ারি মাসে ,সেটা গ্রুপ ট্যুর ছিল। এবারেও গ্রুপ টুর হতে চলেছে। জানতে পারা গেল শনিবার গিয়ে হয়তো বুধবারের দিকে রওনা দেয়া হবে পুরি থেকে।
ফিরতে ফিরতে বৃহস্পতিবার হতে পারে। একটা উইঙ্গার গাড়ি ভাড়া করা হয়েছে, এসি অবশ্যই রয়েছে ,আর আমরা মোটামুটি ১১ জন যাচ্ছি।। মানে টোটাল তিনটে ফ্যামিলি। আমাদের বাড়িতে আমরা চারজন। আমার এক দাদার বাড়ি থেকে ওরা তিনজন। আর এক ফ্যামিলিতে ওরা চারজন।
যাইহোক উপরে এসে আমার মাথায় হাত পড়ে গেছে ।আমি কোনটা ছেড়ে কোনটা নেব। কারণ এতদিনের ব্যাপার সব থেকে বড় কথা কোথায় কোথায় ঘুরতে যাওয়া হবে ,সে ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। আর যেহেতু পুরীতে অনেক ছোটবেলায় গিয়েছি । শুধু মনে আছে পুরীতে ঘোরার জায়গা বলতে জগন্নাথ মন্দির রয়েছে। রয়েছে পুরী বিচ আর কোনারক মন্দির। এছাড়া কোথায় কোথায় আর কি কি দেখার মতন আছে সত্যি এ বিষয়ে আমার কোন ধারণা ছিল না।।
আমি যতক্ষণে ভাবতে বসেছি ,ততক্ষণে আমার মা এসে হাজির ঘরের মধ্যে। মা রীতিমতো আমার আলমারি তোলপাড় করে ছাড়লো ।কারণ আমি বারবার বলছিলাম ,মা তুমি একটু শাড়ি ছেড়ে এবার একটু অন্যরকম চুরিদার টাইপের কিংবা কোন ড্রেস টাইপের কিছু চেষ্টা করো ।
যেহেতু কৃষ্ণনগরের বাইরেই যাচ্ছি ।। আমার মা আসলে একটু সাবেকি গোছের মানুষ। উনি শাড়ি ছাড়া অন্য কিছু পড়তে পছন্দ করেন না। ঘুরতে গেলেও মায়ের সবকিছুর আগে শাড়ি নিতেই হবে। অন্য কোন ড্রেস যদিও পড়তে পেরেছে, সেটাও আমার জেদাজেদি তে।
সমস্ত বিষয়গুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পেরে কিন্তু বেশ মজা লাগবে। বাকি কথা পরের পোস্টে লিখব।আজ এখানেই শেষ করছি।


