অক্ষয় তৃতীয়া - শেষ পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা ।আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন ।আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে অক্ষয় তৃতীয়ার শেষ পর্ব শেয়ার করছি।
আশেপাশের যে দোকানগুলো রয়েছে তাদেরকেও প্রসাদ দিতে হয়। এমনকি ওই মুহূর্তে দোকানে উপস্থিত যে স্টাফ দাদাটা রয়েছে ,তাদেরকেও। সবার জন্য প্রসাদ ঠিকঠাক ভাবে প্লেটে সাজিয়ে দিয়ে আরো কিছু ফল কেটে রাখলাম যদি কারোর লাগে পরে।
তার একটু পরেই আমার বাবা আমাকে নিতে চলে আসলো বাড়ি নিয়ে যাবে বলে। বাড়িতে এসে সাথে সাথে মা আমাকে এক গ্লাস ডাবের জল দিয়ে দিল। তারপরে দিয়ে দিল মুড়ি চিনি জল। এই মুড়ি চিনি জল কিন্তু শরীরের পক্ষে খুবই ভালো। স্যালাইন ওয়াটার তো থাকে এর মধ্যে, সাথে মুড়িটা পেট ভরানোর কাজ করে । সকলে সকালবেলায় ডালপুরি আলুর তরকারি খেলেও আমি খাইনি সেদিন।
দোকানে বসে থাকা কালীন ঈশান কয়েকটা ছবি তুলে দিয়েছিল ,সেগুলোই বসে বসে দেখছিলাম তারপর খানিকক্ষণ ঘুমিয়ে নেয়ার পরে খাওয়া দাওয়া করে নিয়েছিলাম।
আমার বাবা ঈশান মিলে সারা দুপুর জুড়ে সাড়ে বারোটা অব্দি, এর বাড়ি ওর বাড়ি অর্থাৎ যে সকল মানুষ আমাদের খুব কাছের তাদের বাড়িতে বাড়িতে সন পাপড়ির প্যাকেট ,লাডুর প্যাকেট এবং মিষ্টি নিয়ে গিয়েছিল সকলকে দিতে অক্ষয় তৃতীয়ার শুভেচ্ছা সহ।
বাড়িতে আসার পরে বাবার মনটা খারাপ করছিল মামার বাড়িতে কিছু দিতে পারছে না বলে । তখন আমি বাবাকে বললাম তুমি জিও মার্ট এ পাঠাতেই পারো। এখন আমার মামার বাড়ির ওদিকে অর্থাৎ যেটা গ্রামের বাড়ি সেখানেও এক দেড় কিলোমিটার এর মধ্যেই জিও মার্টের একটা আউটলেট খুলেছে। বোন সেটা জানলেও কখনো অর্ডার করেনি সেখান থেকে।
বোন বলতে আমি শর্মীর কথা বলছি। আমি সাথে সাথে ওদের জন্য আইসক্রিম আর লটে চকোপাই এর একটা বড় প্যাকেট অর্ডার করে দিলাম। যখন অর্ডারটা পৌঁছালো ওরা অনেক আনন্দ পেল। তবে দুটো আইসক্রিম হওয়াতে ওদের বাড়িতে দুটো পৌঁছেছে। চারটে বলেছিলাম সে জায়গায় দুটো পৌঁছেছে আইসক্রিম।।
এটাতে একটু খারাপ লাগছিল আমার। আসলে আউট অফ স্টক হয়ে গিয়েছিল। ওদের বলেছি পরবর্তীতে কিছু খেতে ইচ্ছা করলে অবশ্যই আমাকে বলতে, যাতে আমি আবার পাঠাতে পারি।
ওদের পাঠানোর পর আমার ছোট মামার বাড়ি অর্থাৎ যেটা রায়গঞ্জ শহরের মধ্যেই, সেখানেও বোনদের জন্য একটা আইসক্রিমের বার আর লটে চকো পাই এর প্যাকটা পাঠালাম। ছোটোমামী পার্সেলটা পেয়ে খুবই আনন্দ পেয়েছিল।
দুপুরে আমার বাবা আমার পার্টনার কে দুটো আইসক্রিম ট্রিট হিসেবে দেয়। অক্ষয় তৃতীয়া ট্রিট । যদিও ওদের বাড়িতে বাবা আর ঈশান মিলে গিয়েছিল লাড্ডুর প্যাকেট ,সন পাপড়ি আর মিষ্টি দিতে, তবুও আমার পার্টনার আইসক্রিম খেতে ভালোবাসে বলে ওকে আবার আলাদা করে আইসক্রিম ট্রিট দেয়া হয়েছিল।
সন্ধ্যা বেলায় আমার বাবার বন্ধু সুবীর জেঠু এসে অক্ষয় তৃতীয়ার মিষ্টি দিয়ে গেল। পয়লা বৈশাখের দিনটা প্রত্যেক বছর সেম ভাবে কাটলেও ,অক্ষয় তৃতীয়ার দিনটা সত্যিই একটু অন্যরকম কেটেছে।
সন্ধ্যেবেলায় আমাদের একটি দোকানে নিমন্ত্রণ ছিল ।দোকানটি বাবার বন্ধুর দোকান । জামা কাপড়ের দোকান। নাম-আমোদিনী। বাবার বন্ধু এবং তার মেয়ে অনেকবার বলার সত্ত্বেও আমি যেতে পারিনি ,শরীর ভালো ছিল না বলে।আজ এখানেই শেষ করছি। সকলে ভালো থাকুন।



