লক্ষ্মী পূজা - ২ য় পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। গত পোস্টে লক্ষ্মী পূজার প্রথম পর্ব শেয়ার করেছিলাম ।আজকে দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে হাজির হয়েছি।
লক্ষী পূজোর দিন সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে পূজোর জোগাড় করতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম আমি আর মা ।যদিও পুজোর সময় ছিল দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ। এ নিয়ে আমার মায়েরও একটু মন খারাপ ছিল। কারণ ঠাকুমা প্রত্যেক বছর সন্ধ্যা বেলায় পুজো করতেন। তাই মাও সবসময় চেষ্টা করে সন্ধ্যেবেলার দিকে এই কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো করার ।
সাড়ে তিনটে পূজো হলেও পূজোর জিনিসপত্র জোগাড় করতে করতেই অনেকটা সময় কেটে যায় ।পুজোর জন্য নারকেলের নাড়ু তৈরি করা একটা বড়ই খাটনির ব্যাপার ।সময়ও বেশ লাগে। চিনির আলাদা করে নাড়ু তৈরি করা, গুড়ের নাড়ু আলাদা তৈরি করা, তিলের নাড়ু তৈরি করা, অতগুলো মোয়া তৈরি করা সত্যিই সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।।
অনেকেই দেখেছি বাজারে গিয়ে বাজার থেকে দশ টাকা /পনেরো টাকা/ কুড়ি টাকার প্যাকেট কিনে নিয়ে আসে। কিন্তু নিজের হাতে ঠাকুরের উদ্দেশ্যে ভোগ তৈরি করার মজাটাই আলাদা।
সকালবেলা থেকে আমি আর মা সেই কাজেই যুক্ত ছিলাম। পরবর্তীতে বারোটার পর আমার সেজ পিসি বাড়িতে আসে ।পিসির বাড়িতে আসাতে অনেকটাই কাজ এগোতে থাকে। লুচি পায়েস প্রসাদ গুলো তৈরি করতে হয়েছে ।এর সাথে আসন গোছানো, ফুলের জায়গা ঠিকঠাক করা, অতগুলো ফল কাটা, সবকিছুই রেডি করতে হয়েছে সত্যনারায়ণের সিন্নি প্রসাদের জন্য। সেই জায়গাটা রেডি করে রাখাও একটা বড় বিষয়। যেহেতু আমাদের বাড়িতে হোম হয়, হোমের জন্য বেলপাতা গুনে রাখতে হয় ২১ টা।
এসব করতে করতেই কখন যে সময় চলে যায়। আমরা নিজেরাও টের পাই না। কিছু কিছু সময় মনে থাকে। কিছু কিছু সময় অনেক কিছুই ভুলে যাই।আবার মনে পড়ে সেই মতো আনতেও হয়। সকাল বেলায় মিষ্টি ,দই এগুলো আমরা কিনে নিই। আর আগের দিন শুকনো বাজার করা হয়ে থাকে।
এসব করতে করতেই সাড়ে তিনটা নাগাদ ব্রাহ্মণ চলে আসে। আর পূজোতে বসে পড়ে। আগের বছর সিন্নি কিভাবে তৈরি করতে হয়, এই নিয়ে একটা পোস্ট শেয়ার করেছিলাম ,সিন্নি আমাদের বাড়িতে সকলেরই পছন্দ। আর আমাদের বাড়ির তৈরি এই সিন্নি প্রসাদ আমাদের প্রতিবেশীরাও খুব ভালোবাসে। সাথে আমাদের আত্মীয়-স্বজন।।
সিন্নির মধ্যে কিছু আর বাকি থাকে না ।থাকে ২৫টা কলা, এক কেজি আড়াইশো আটা , ১ কেজি আড়াইশো আখের গুড়, নারকেল কোরা, কাজু ,কিসমিস, আদা ,এলাচ ,এক চিমটি কর্পূর, এক চামচ মধু। আর এক কেজি আড়াইশো দুধ। সবমিলিয়ে মাখার পরে যে সুন্দর খেতে লাগে জিনিসটা। আপনারা বাড়িতে এমনি পুজো ছাড়াও চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
সমস্ত রেডি হয়ে যাওয়ার পর ব্রাহ্মণ যখন পুজোতে বসে, পুজোতে বসার একটু পরেই ব্রাহ্মণ নারায়ণ শিলা স্নান করিয়ে নেন। তারপর ঠাকুরকে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে পুজো করা শুরু হয়। আমি এবারের সত্যনারায়ণ ঠাকুরের জন্য তুলসী পাতা দিয়ে সুন্দর করে মালা গেঁথেছিলাম।
সকলে মিলে পূজোর জায়গায় হাজির হয়ে একে একে অঞ্জলি দিই ।ব্রাহ্মণ পঞ্চ প্রদীপ, কর্পূর দানি সহযোগে আরতি করেন।। সত্যনারায়ণ ঠাকুরের পাঁচালী এবং লক্ষ্মীর পাঁচালী পড়া হয় ।সবশেষে হয় হোম ।সবমিলিয়ে মোটামুটি এক থেকে দেড় ঘন্টা মতো পুজো করতে সময় লাগে পুরোহিতের।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি পরবর্তী পোস্টে বাকি কথা শেয়ার করব।






Want to grow faster on Steemit? Try www.pussteem.com – the first platform that lets you use $PUSS tokens to power up your posts. For just $0.50, you can receive $10 worth of upvotes through our curated support system.
➤ Learn more: Unlock the Power of Your Steemit Journey
➤ Step-by-step guide: How to Get Started -Video Tutorial
Join the movement – boost your visibility, earn more, and grow with Pussteem!
:globe_with_meridians: https://pussteem.com
Join with us on Discord: https://discord.gg/g4KWCtFJbk