বিজয়া দশমীর মুহুর্ত

in Incredible India2 months ago

নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি, দুর্গাপুজোর দশমীর দিনের কিছু মুহূর্ত ।বিজয়া দশমীর দিন একেবারেই অন্যরকম কিছু সময় আমরা বাঙালিরা উদযাপন করি। সকলের মুখ লাল সিঁদুর রাঙা হয়ে যায়। এ দৃশ্য দেখার মতন থাকে।

সিঁদুরের এই লাল বর্ণ প্রত্যেকের মুখেই এক অপরূপ সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে ।সকলে মায়ের এই বিজয় যাত্রায় সিঁদুর খেলা প্রত্যেক বছর করে থাকে।

20251105_232401.jpg

আমাদের বাড়ি থেকে এক মিনিটের হাঁটা পথে যে বারোয়ারি আছে, তার নাম ঘূর্ণি শিবতলা বারোয়ারী, বারোয়ারীতে প্রত্যেক বছর দুর্গা পূজা থেকে শুরু করে বাকি সব পুজো হয়ে থাকে। তবে বেশিরভাগ সময় আমাকে দেখতে পাওয়া যায় জগদ্ধাত্রী পুজোর সময়টুকু ।বলতে গেলে তখন বাড়িতে কম থাকি।সেই সময় বাড়ির থেকে পূজা মন্ডপেই আমি বেশি থাকি।

20251002_143059.jpg

তবে দূর্গা পূজার সময় অষ্টমীর অঞ্জলি দিতে যাওয়া এবং বিজয়া দশমীর দিন মায়ের সাথে সিঁদুর খেলাতে উপস্থিত থাকা আমার প্রতিবারের অভ্যাস। এবারও সেটা পরিবর্তিত হয়নি ।দশমীর দিনকে যেহেতু আমাদের দশমী পূজা সকালেই হয়ে গিয়েছিল ।তাই মা ভেবেছিল সমস্ত বাড়ির কাজ সেরে দুপুর নাগাদ রেডি হয়ে ঠাকুরের কাছে যাবে।

প্রত্যেক বছর আমার পাশের বাড়ির কাকিমা ,মৌসুমী বৌদি আর মা মিলে সিঁদুর খেলতে যায়। এর সাথে আমিও থাকি ।ওদের ছবি তুলে দেবো বলে।।

20251002_143749.jpg

এ বছরে পাশের বাড়ির কাকিমা ছিল না। এ কারণে মৌসুমী বৌদি আর মা দুজনেরই প্রায় মন খারাপ ।তার সত্ত্বেও দুজনকে খুব সুন্দর করে রেডি হতে বললাম। বৌদি রেডি হয়ে আসলো। মাকেও ভালোভাবে রেডি করালাম।

সকাল থেকে বাড়ির সমস্ত কাজ সেরে নিয়েছিল মা। তাই কোনরকম চাপ ছিল না। প্রত্যেক বছর আমিও বিজয়ার দিনকে একটু শাড়ি পড়ে থাকি। আগের বছরেও পড়েছিলাম। এ বছরেও মায়ের একটা সুন্দর শাড়ি, আলমারি থেকে বার করে পড়ে নিলাম।

20251105_232948.jpg

এই নিয়ে মায়ের কাছে বকুনি খেতে হয়েছে। আসলে মায়ের কথা হল, "নিজের শাড়ি এত কিনে থাকিস ,সেগুলো না পড়ে আমার আলমারি থেকে আমার শাড়িগুলো নিয়ে এত ঘাটিস কেন। কেন আমার শাড়ির উপর তোর এত নজর।"

আসলে আমি খেয়াল করে দেখেছি মায়ের শাড়ির উপর ছোটবেলা থেকেই আমার নজর বেশি। নিজের যতই শাড়ি থাকুক না কেন, মায়ের শাড়ি গুলোর মধ্যে যেন মায়ের একটা গন্ধ লুকিয়ে থাকে। শাড়িগুলো পড়ার সময় ভাবি, আমাকে আমার মায়ের মতন দেখতে লাগবে তো!? সত্যি বলতে সেটা কখনোই হয় না।

20251105_233027.jpg

তবে কোথাও না কোথাও, মায়ের শাড়ি গুলো পড়ে মাকে খুঁজে পাই নিজের মধ্যে।। ছোটবেলায় সরস্বতী পুজোতে সকালবেলা থেকে মায়ের সাথে জেদ করতাম। মা যেন একটা আলমারি থেকে শাড়ি বের করে দেয়। তখন মা কত শাড়ি ভাঁজ করে করে পড়াতো। যেহেতু আমি অনেক ছোট ছিলাম। এখন ভাঁজ করে পড়তে হয় না।। তবুও মায়ের শাড়িগুলোর প্রতি আমার লোভ এখনো থেকে গেছে।

20251105_232716.jpg

এই ব্যাপারটা শুধু আমার ক্ষেত্রেই হয় কিনা আমি জানিনা। আপনারাও আমার মতন হলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

যাইহোক রেডি হয়ে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ বাড়িতে ছবি-টবি তুলে চলে গিয়েছিলাম পূজা মন্ডপে। পৌঁছে গিয়ে দেখি ওখানে অনেকেই মাকে জল মিষ্টি দিয়ে সিঁদুর দিতে এসেছেন। আমার মা ও বৌদি দুজন মিলে মাকে সিঁদুর পরালো ।বাকি যে নিয়ম গুলো থাকে, সেগুলো করে নিল ।পান পাতা দিয়ে মাকে বরণ করে জল মিষ্টি খাইয়ে মাথায় সিঁদুর পরিয়ে দিল।

তারপরে যে কজন কাকিমারা, মেয়েরা ওখানে উপস্থিত ছিল ,সকলে যে যার মত করে একে অপরের গালে সিঁদুর পড়াতে লাগলো। অবিবাহিত মেয়েদের সিঁথি তে সিঁদুরের নিয়ম নেই। তারা গালেই সিঁদুর মাখছিল। আমি অল্প করে সিঁদুর দিতে বলেছিলাম ,তাই কেউ আর বেশি আমার কাছে আসেনি।।।

সমস্ত কিছু হয়ে যাওয়ার পরে হঠাৎ করে মৌসুমী বৌদি খুব সুন্দর দুটো ছবি ক্যাপচার করেছে। আমার পোস্টের একদম শেষ ছবি দুটোর কথা বলছি। এখানে কিন্তু আমার দুজন মা আমার সাথে উপস্থিত আছে।। অস্বাভাবিক সুন্দর একটা ফ্রেম।

যাইহোক বিজয়া দশমীর দিন এই মুহূর্তটা একেবারেই অন্যরকম। বিবাহিত মহিলাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা সময় বলা চলে। আপনাদের সাথে মুহূর্তগুলো শেয়ার করতে পেরে ভালো লাগলো। সকলে ভালো থাকবেন।

Sort:  
Loading...

1000068411.png

Curated by : @sduttaskitchen
Loading...