বোনের সাথে মেলাতে গিয়ে কাটানো মুহূর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলের ভালো লাগবে।
বসন্তের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে প্রত্যেক দিন ঝড়- বৃষ্টি প্রায় লেগেই রয়েছে। নয়তো বা প্রত্যেক দিন মেঘের ঝলকানি চলছে।মেঘ দেখে বাইরে বের হতে ইচ্ছে করে না।দিনের বেলাতে প্রচন্ড রোদের তাপ থাকলেও সারাদিন ঠান্ডা ঠান্ডা হাওয়া বয়। তাই খুব গরম লাগলেও খুব একটা মনে হয় না। কিন্তু বিকেলের পর থেকেই আবহাওয়া একেবারে অন্যরকম হয়ে যায়। ঠান্ডা ঠান্ডা হাওয়া এখনো রয়েছে, তাই সেভাবে গরমের আভাসটা এখনো পাওয়া যায় না। এই ওয়েদার পরিবর্তনের জন্য অনেকের অনেক সমস্যা লেগেই রয়েছে। আমারও বেশ কিছুদিন ধরে শরীরটা ভীষণ খারাপ ছিল। বেশ কিছুদিন ধরেই ঘরবন্দী রয়েছি। অনেকদিন এদিক-ওদিক কোথাও বেরোতে পারি না। এখন কাজের চাপ অনেকটাই কম রয়েছে। কাজের চাপ না থাকলেও কোথাও বেরোনো হতে পারছি না ।এখন কাজ না থাকায় একদমই সময়ও কাটতে চাইছে না।
ঘরবন্দী থাকতে থাকতে নিজেকে মানসিক রোগী মনে হচ্ছে ।অন্য সময় কাজ থাকলে এমনি দিন গুলো কেটে যায়। যাই হোক আমাদের উৎসবের শহর কৃষ্ণনগর। কৃষ্ণনগরে সারা বছর যে কোন উৎসব মেলা লেগেই রয়েছে। প্রায় ১৫ দিন ধরে আমাদের কৃষ্ণনগরে গোপাল ভাঁড় নামে একটি মেলার আয়োজন করা হয়েছে ।প্রত্যেক বছরই এই বসন্তকালে গোপাল ভাঁড়ের মেলার আয়োজন হয়। কৃষ্ণনগরে গোপাল ভাঁড়ের বিখ্যাত ভূমিকা রয়েছে। আমাদের কৃষ্ণনগরে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজ দরবারে গোপাল ভাঁড় ছিল একজন জনপ্রিয় সভার বিশেষ কর্মী। প্রত্যেক বছরই গোপাল ভাঁড়ের মেলাতে যাওয়া হয় ।কিন্তু এ বছরে জানতেই পারিনি কবে থেকে মেলা শুরু হয়েছে।
কিছুদিন ধরে মামার মেয়ে যাওয়ার জন্য বায়না করছিল। কিন্তু ওরও প্রচন্ড শরীর খারাপ হওয়ার জন্য যাওয়া হয়ে ওঠেনি ।এ বছরে প্রত্যেকদিন কোন না কোন অভিনেত্রী মাঠে নাচ, গান সকলকে আনন্দ দেওয়ার জন্য হাজির হচ্ছে। বাড়ির কাছে হলেও একদিনও গিয়ে উঠতে পারিনি। আমি ভেবেছিলাম হয়তো মেলা শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আজকে হঠাৎই শুনলাম এখনো মেলা চলছে। তাই আমি আর মামার মেয়ে দুজনে ঠিক করেছিলাম সন্ধ্যার পরপরই দুজনে মিলে মেলায় এক পাক ঘুরে আসব। আমার বাড়ি থেকে মাত্র দু মিনিটের হাঁটা পথ। যাই হোক সন্ধ্যা বেলায় দুজনে মিলেই সেজেগুজে বেরিয়ে পড়েছিলাম মেলা দেখতে ।এ বছরে মেলায় সে রকম কিছুই বসে নি।
কারণ আর কয়েকদিন পরই বারদোল মেলা। তাই এই মেলাতে তেমন দোকানপাট কিছুই বসেনি। কিছুদিন আগেই ওই মাঠে হয়ে গেল বিরাট বসন্ত উৎসব। একের পর এক মানুষ কতই বা দেখবে। যাইহোক মাত্র হাতে গোনা কয়েকটা দোকান বসেছে ।কি খাবো ঠিক করে উঠতে পারছিলাম না। বোন বলল পাপড়ি চাট খাবে। তাই দুজনে মিলে প্রথমেই এক প্লেট পাপড়ি চাট খেয়ে নিয়েছিলাম। এরপরে দুজনে মিলে একটু ফুচকা খেয়ে নিয়েছিলাম। ফুচকা খেয়ে বোনের আবার ঝাল লেগে গিয়েছিল ।তাই সাথে সাথে মথুরা কে খেয়ে নিয়েছিলাম।মেলায় ঢোকার পর থেকেই দেখছিলাম বিভিন্ন প্রোগ্রাম চলছিল ।মঞ্চে অনেক নিত্য শিল্পীরা তাদের সুন্দর সুন্দর নৃত্য পরিবেশন করছিল। ছোট থেকে বড় সকলেই তাদের নৃত্য পরিবেশন করছিল। বসে বসে বেশ খানিকক্ষণ অনুষ্ঠান দেখছিলাম।
কিন্তু ওই যে প্রথমেই বললাম অভিনেত্রী আসে প্রত্যেকদিন ।তাই বেশ খানিকক্ষণ বসে রইলাম অভিনেত্রীকে দেখব বলে। খানিকক্ষণ বসে থাকার পর আটটা পঁয়তাল্লিশ নাগাদ উনি এসে হাজির হলো। যাইহোক ক্ষণিকের মধ্যেই মঞ্চে উঠে পড়েছিল। কিন্তু আমি ওই অভিনেত্রীকে চিনিনা বলে আর এক মিনিটও মেলাতে দাঁড়ায়নি। প্রথমেই সম্পূর্ণ মেলাটা ঘুরে নিয়েছিলাম। তাই অভিনেত্রী আসা মাত্রই আমি আর আমার বোন দুজনে মিলে রওনা দিয়েছিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে। ফাঁকা মাঠে দুজনেই চেয়ারে বসে থেকে বেশ সুন্দর আবহাওয়া ঠান্ডা ঠান্ডা খুব ভালো লাগছিল। বেশ অনেক দর্শকই বসেছিল অভিনেত্রীকে দেখবার জন্য।
গত কয়েকদিন বৃষ্টিতে মাঠে প্রচণ্ড কাদা জমে গিয়েছিল। তাই আর সেভাবে মেলাতে ভিড় হচ্ছিল না। কিন্তু এই দুদিন একটু রোদ হওয়াতে মানুষজন গেছে মেলা দেখতে। আসলে যারা সিরিয়াল করে তাদের দেখার জন্যই আসলে সকলে মেলায় যায়।যাই হোক আজ দুই বোনের মেলাতে কাটানো ক্ষণিকের মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম। অনেকদিন পর বাইরে সময় কাটিয়ে বেশ ভালো লাগলো।
আজ এইখানে শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।





Thank you 🙏