বড়দিনের মেলাতে যাওয়ার মূহুর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন ।আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব ২৫ শে ডিসেম্বরের খ্রিস্টানদের বড়দিনের মেলা দেখতে যাওয়ার সুন্দর মুহূর্ত। খ্রিস্টানদের মেলাতে আমাদের সমস্ত প্রজাতির মানুষকে ভিড় জমায়। এ বছরে ডিসেম্বর মাস জুড়ে বেশ কনকনে ঠান্ডা পড়েছিল। আমি প্রত্যেক বছর ডিসেম্বর মাসে নিজের আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ঘুরে বেড়ায়। এ বছরেও মামাশ্বশুরের বাড়িতে গিয়েছিলাম বেড়াতে। মামাশ্বশুর বাড়ি থেকে ফিরেছিলাম ৩০ শে ডিসেম্বর রাত্রিবেলায়। আমার সাথে মামাশ্বশুরের মেয়ে এসেছিল বেড়াতে। অনেকদিন পর আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। তাই বছরের শেষে একটু ঘুরতে নিয়ে যাবার ইচ্ছে ছিল। আমাদের কৃষ্ণনগরে চার্চে বেশ বড় করে মেলা হয়। সেখানে প্রত্যেক বছরই যাওয়া হয়। তবে এ বছরে বোনকে সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলাম।
আসলে প্রত্যেকটা চার্চ একটু আলাদা আলাদা করে সাজানো হয়। আমাদের কৃষ্ণনগরে চার্চ কম বেশি ভালো করেই সাজানো হয়। তবে সেদিন গিয়েছিলাম প্রায় রাত আটটা নাগাদ। শীতকালে রাত আটটা অনেকটাই রাত। আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ থেকে সাত মিনিটে রাস্তা। টোটো করে চলে গিয়েছিলাম তিনজন মিলে চার্চের মেলা দেখতে। তবে অন্যান্য বছরে তুলনায় এ বছরে একদমই ভিড় ছিল না। কারণ অত ঠান্ডায় মানুষজন আর পেরে উঠছিল না। তাই আমরা ফাঁকা ফাঁকায় ঘুরতে ঘুরতে যখন চার্চের সামনে গিয়ে পৌঁছায় তখন দেখি প্রত্যেকটি চার্চ বন্ধ করা ছিল। আমাদের কৃষ্ণনগরে তিনটে পাশাপাশি চার্চ রয়েছে।
প্রথম তিনদিন পুরনো চার্চটি খোলা থাকে ।রাত নটা পর্যন্ত।এমনকি ভিতরটা সুন্দর করে সাজানো হয়। আমরা যেহেতু শেষের দিকে গিয়েছিলাম তাই ওটা বন্ধ থাকা স্বাভাবিক। তাই ওখান থেকে দ্বিতীয় চার্চ টিতে চলে গিয়েছিলাম। ওখানে গিয়ে দেখি ওটাও বন্ধ। ছোট থেকে আজ পর্যন্ত কোনদিনই দেখিনি যে দ্বিতীয় চার্চ টি আর আরেকটি চার্চ রয়েছে সেটা বন্ধ থাকে। যাই হোক দ্বিতীয়টা দেখে আবার যখন বাইরের দিকে চার্চে গিয়েছিলাম তখন সেটাও বন্ধ ।প্রথমে আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলাম ।কারণ কোনদিনই কারোর মুখ থেকেও শুনিনি বাকি দুটো চার্চ বন্ধ থাকে। এরপর তিনজনে মিলে মেলায় ঘুরে নিয়ে ছিলাম। এছাড়া কিছু খাওয়া দাওয়া করে নিয়েছিলাম। চার্চের মেলা দেখতে গিয়ে যদি চার্চ দেখতে না পায় তাহলে মেলায় দেখার কোন মানে হয় না।
এরপর চলে গিয়েছিলাম সামনেই আরেকটি খ্রিস্টানদের স্কুলের মাঠে মেলা বসে সেখানে মেলা দেখার জন্য ।সেখানে চারিদিক ঘোরাঘুরি করে বাড়ির জন্য কিছু খাবার কিনে নিজেদের পছন্দমত জিনিস কিনে হাঁটতে হাঁটতে রওনা দিয়েছিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে। কারণ মামার মেয়ের ইচ্ছে ছিল কেকের দোকান থেকে কেক খাবে। তাই হেঁটে হেঁটে সেই দোকান পর্যন্ত চলে এসেছিলাম। সেখান থেকে তার পছন্দমত কেক নেওয়া হয়েছিল। এরপর হাঁটতে প্রায় অনেকটা পথ চলে এসেছিলাম। তবে শীতকালে রাত্রে হাঁটতে বেশ ভালোই লাগে। এদিকে সমস্ত দোকানপাট বন্ধ করা হচ্ছিল । আবার অনেকে রাত জেগে পিকনিক করা শুরু করেছিল। কারণ পরের দিন ছিল বছরের প্রথম দিন। বছরের প্রথম দিন নিয়ে অনেকেরই অনেক উত্তেজনা থাকে।তখন প্রায় রাত ন'টা বেজে গিয়েছিল। কিন্তু ফুলের দোকানগুলো থেকে যেন চোখ সরানো যাচ্ছিল না।
শীতকালে ফুল গুলো দেখতে এত ভালো লাগে তা বলে বোঝানো যাবে না। যাইহোক ফুল দেখতে দেখতে ওখান থেকেই টোটো ধরে নিয়েছিলাম বাড়ি ফিরব বলে। এরপর রাত দশটা নাগাদ বাড়ি পৌঁছে গিয়েছিলাম। বাড়িতে এসে যখন শাশুড়ি মাকে বলছিলাম চার্চ গুলো সব বন্ধ। তখন শাশুড়ি মা বলল যে ওদের মধ্যে কোন একটা সমস্যা হয়েছে তাই চার্চ গুলো এখন বন্ধ রাখা হয়। আমার শাশুড়ি মা খ্রিস্টানদের স্কুলে চাকরি করতেন। তাই উনি খ্রিস্টানদের সম্পর্কে অনেক কিছুই জানেন। যাইহোক আমার আপাতত কি কারনে বন্ধ মনে পড়ছে না। তাই আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে পারলাম না। সেদিন চার্চের মেলায় ঘুরে, তিনজনে মিলে খুব মজা করেছিলাম। সেই মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম।
আজ এই পর্যন্তই। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।



