গঙ্গা স্নান যাত্রা
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে
আজ শ্রাবণ মাসের শেষ রবিবার। এ বছরে শ্রাবণ মাসে পাঁচটা সোমবার পড়েছে। বাঙালিদের বারো মাসে তেরো পার্বণ লেগেই থাকে ।এটা আমরা সকলেই জানি। বাঙালিরা যেকোনো উৎসবকেই আরো মাতিয়ে তুলতে নিজেদের উৎসর্গ করে দেয়। আমার মনে হয় শুধু মাত্র হিন্দুদের মধ্যেই একের পর এক উৎসব নিয়ে এত মাতামাতি আনন্দ আমরা করে থাকি। শ্রাবণ মাস আমরা মহাদেবের মাস বলেই প্রত্যেকটা সোমবারে নিষ্ঠা ভাবে মহাদেবের পূজা করে থাকি ।যে যেমন ভাবে পারে সে সেই রকম ভাবেই মহাদেবের কাছে নিজেকে উৎসর্গ করে। তবে প্রত্যেক সোমবারেই বাবা তারকনাথের কাছে মানে তারকেশ্বরে জল ঢালতে যায়। শুধু তারকেশ্বর বললে ভুল হবে যেখানে যেখানে মহাদেবের স্থান রয়েছে সেখানে সেখানে সমস্ত ভক্তরা ছোটে। কিন্তু আমাদের কৃষ্ণনগরে শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার দিন প্রত্যেক বছর শয়ে শয়ে মানুষ শিবনিবাসে বাবার মাথায় জল ঢালার জন্য পারি দেয়।
আমার বড় মামা প্রায় গত ২৫ বছর ধরে শিব নিবাসে বাবার মাথায় জল ঢালতে যায়। কিন্তু আমার সেভাবে কোনদিন ইচ্ছে কিংবা শখ হয়নি মামার সাথে যাওয়ার। কিন্তু এ বছরে হঠাৎ করেই মনে হল আমিও যাই বাবার মাথায় জল ঢালবার জন্য। কয়েক দিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু মন থেকে সাঁই ছিল না। কারণ পারব কিনা আমি নিজেও বুঝতে পারছিলাম না। আমাদের কৃষ্ণনগর থেকে নবদ্বীপ প্রায় ১৬ কিলোমিটার রাস্তা। যেখান থেকে হেঁটে হেঁটে আসা সত্যিই খুবই দুষ্কর ব্যাপার। তাতে আবার ওখান থেকে এসে আবারো শিবনিবাসে উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হয়। শিবনিবাসে রাস্তা প্রায় ৩০ কিলোমিটার মত রাস্তা হবে। আজকে সকাল বেলাতেই ঘুম থেকে উঠেছি প্রায় ভোর পাঁচটা নাগাদ । আসলে একটা জায়গায় যাব বলে সেভাবে রাত্রিবেলায় ঠিক করে ঘুম হয়নি।
ঘুম থেকে উঠে বাড়ির টুকটাক কিছু কাজকর্ম শাশুড়ি মাকে এগিয়ে দিয়েছিলাম ।উনি তো বকাবকি করছিল। আসলে এক জায়গায় যাব তাতে আবার বাড়িতে পরিশ্রম করা ওই জন্যই উনি বকাবকি করছিল। যাই হোক রেডি হয়ে সকাল ছটা নাগাদ পাড়ার মহাদেব কে প্রণাম করে টোটো করে আমি আর একটা মাসি দুজনে মিলে নবদ্বীপের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। ওখানে যত সকালে যাওয়া যাবে ততই ভালো। নয়তো অনেকটা দূরে নামিয়ে দেয়। ওখান থেকে আবার অনেকটা দূর হেঁটে যেতে হয়। এদিকে লঞ্চ পার হওয়ার জন্য প্রচুর দূর পর্যন্ত লাইন পরে। আমার এ বছরেই প্রথম যাওয়া। যাইহোক টোটো করে যেতে যেতেই দেখি কত ভক্তরা রাতের বেলাতে চলে গিয়েছে তারা অর্ধেক রাস্তা পর্যন্ত কাঁধে বাঁক নিয়ে রওনা দিয়েছে।
আসলে রোদ উঠে যাওয়ার আগে আগে যদি বাড়ি পৌঁছে যাওয়া যায় সত্যিই খুব ভালো হয়। আকাশে ছিল ঘন কালো মেঘ ।যখন তখন বৃষ্টি চলে আসতে পারে। আমরা খুব ভালোভাবেই নদীর কাজ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলাম। নবদ্বীপে গঙ্গাস্নান করতে গেলে লঞ্চ করে আবার ওপারে যেতে হয়। কারণ আমাদের গঙ্গা নদীর এপারে হল জলঙ্গী নদী আর ওপারে গঙ্গা নদী দুটো নদী একসাথে মিশে বয়ে চলেছে। ঘাটের কাছে টিকিট কাটতে গিয়েই দেখি এত ভিড় যে ভিড় ঠেলে টিকিট কাটতে হচ্ছে। যাই হোক টিকিট কেটে নিয়ে আমরা নৌকায় উঠবো রীতিমতো দাঁড়িয়ে পড়েছিলাম। তখনো নৌকাতে ওঠার জন্য লাইন দিতে হচ্ছিল না। তাই আমরা খানিকক্ষণ দাঁড়ানোর পরেই নৌকাতে উঠে পড়েছিলাম ।তবে এবারে গঙ্গাস্নান করতে গিয়ে অর্ধেকটা জলঙ্গি আর অর্ধেকটা গঙ্গা নদী পুরো স্পষ্ট ভাবেই দেখতে পেয়ে ছিলাম।
গঙ্গাজল সর্বদাই ঘোলা হয় ।আর আমাদের যে জলঙ্গী নদী বয়ে চলেছে সেই জল স্বচ্ছ পরিষ্কার। নৌকাতে সকলেই কাঁধে বাঁক নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আমি কাঁধে বাঁধ নিয়ে যায়নি। কারণ অতদূর থেকে কাঁধে বাঁক নিয়ে জল টেনে আনা অসম্ভব ব্যাপার। তাই ছোট্ট একটা জলের জার নিয়েছিলাম ।সেটা নিয়ে আসবো বলে খুব ভালোভাবেই নদীর ওপারে গিয়ে ছিলাম। আগে থেকেই নদী টাকে ঘিরে ব্যারিকেট করে দিয়েছিল। যাতে ব্যারিকেটের বাইরে গিয়ে কেউ স্নান না করে। কারণ নদীর জল প্রচুর বেড়েছে, গঙ্গার জলের প্রচুর স্রোত। তবে এই সময় প্রশাসন ব্যবস্থা খুবই ভালো দেয়। আজ এইটুক থাক পরের পর্ব টুকু নিয়ে পরের পোস্টে শেয়ার করে নেব।
আজ এইখানেই শেষ করলাম ।আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।



Thank you 🙏