মায়ের আদর

in Incredible India11 hours ago

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG20260429141428.jpg

এই পৃথিবীতে"মা"শব্দটা খুবই ছোট। কিন্তু মায়ের দায়িত্ব পালন করা অতটা ও সোজা নয়। মায়ের সাথে অন্য কারোর ভালোবাসা তুলনা করা যায় না। তবে আমার ক্ষেত্রে একটু অন্যরকম।কিন্তু মা যে কি জিনিস সেটা হয়তো বেশি করে মেয়েরা ছাড়া কেউ বোঝেনা। বিশেষ করে বিয়ের পর থেকেই সমস্ত কিছু আমরা অনুভব করতে পারি। তেমন ভাবে মাকে কোনদিন কাছে পায়নি। দিদার কাছে ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠা। এমনকি জীবনের সমস্ত স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। তবুও ওই যে বলে "মা" শব্দটার মধ্যে সমস্ত আবেগ ,ভালোবাসা কিছুই লুকিয়ে রয়েছে। যতদিন যায় ততই যেন মায়ের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়েছি ।কথাই বলে নারীর টান রক্তের সম্পর্ক কোথায় যাবে। কোন বিশেষ কারণ ছাড়া মায়ের কাছে যাওয়া হয়না ।মা সর্বদা দিদার বাড়ীতে আসলে তখনই দেখা সাক্ষাৎ হয় ।এছাড়া ফোনে কথাবার্তা চলে। বেশিরভাগ দিন মায়ের সাথে অভিমান করতে করতে কেটে যায়। তবে ওই যে কথাই বলে, মা সবকিছু করতে পারে নিমেষের মধ্যেই মেয়ের অভিমান ভাঙ্গিয়ে দিতে পারে।

IMG20260429141200.jpg

এ বছরে ভোট দিতে যাওয়ার আগে আমি মাকে বলেছিলাম তুমি রেডি হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকবে। আমি ভোট দিয়ে বাড়ি যাব না সেই মুহূর্তেই আবার গাড়ি করে চলে আসব। শুনে মায়ের ভীষণ অভিমান হয়েছিল। মা যে অভিমান করেছিল সেটা কখনো মেয়েদের বুঝতে দেয় না। একদিন মেয়ের অভিমান ভাঙাতেই মা হঠাৎ করে আমার বাড়ি চলে এসেছিল। তখন কি আর আমি অভিমান করে থাকতে পারি। যাইহোক সমস্ত প্ল্যান ক্যান্সেল হয়ে গিয়েছিল। আমি ভোট দিতে গিয়ে মায়ের কাছে না গিয়ে থাকতে পারিনি। ভোট দিয়ে এসে মাতো আমার জন্য প্রচুর রান্না বান্না করেছিল। মেয়ে যেহেতু অনেকদিন পর বাড়িতে আসবে তার সাধ্যমত রান্না-বান্না করেছিল। আর মায়ের হাতে রান্না খেতে কার না ভালো লাগে।

এদিকে ওনার জামাই বলে পাঠিয়েছিল মায়ের কাছ থেকে আমার জন্য ভাত ,তরকারি সমস্ত কিছু নিয়ে আসবে। আমার ভাগটা যেন বাদ না পড়ে। উনিও শাশুড়ি মায়ের হাতে রান্না খেতে ভীষণ পছন্দ করে। ওনার ওখানে ভোট দিতে দেরি হবে বলে তাই উনি সেদিন আমার সাথে যাননি। মা তো জামাইয়ের কথা শুনে হেসেই গড়াগড়ি দিচ্ছিল। আমাকে তো পেট পুরে না খাইয়ে ছাড়বে না। আমি ভোট দিয়ে এসে শান্তি করে খেয়ে নিয়েছিলাম। কারণ অনেক সকালে খেয়ে বেরিয়েছিলাম প্রচন্ড খিদেও পেয়ে গিয়েছিল। এদিকে ভোটের দিন তাই ড্রাইভার বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে রাজি হচ্ছিল না। তাই মায়ের কাছে খুব বেশি সময় কাটানো হয়নি।

মা এদিকে মেয়ের বাড়িতে পাঠাবে বলে গাছ থেকে কাঁঠাল, লাউয়ের ডগা, লাউ সমস্ত কিছু রেডি করে রেখেছিল মেয়েকে দেবে বলে। আসলে এইসব চিন্তাভাবনা মায়েদের মাথাতেই আসে। মা অবশ্য বলছিল গাড়িটাকে ছেড়ে দিতে আমাকে থেকে যেতে। কোন মা চায় না এক আধ ঘন্টার জন্য মেয়েকে কাছে পেয়ে ছেড়ে দিতে ।মা বারবার রিকোয়েস্ট করেছিল কিন্তু আমি থাকতে রাজি হয়নি। কারণ এই গরমের মধ্যে আমার বাসে করে যাতায়াত করতে ভীষণ অসুবিধা হয়। এদিকে আবার কোথাও যেতে ভালো লাগেনা কিন্তু আসার সময় আসতেও ইচ্ছে করে না। তাই আমি জোর করেই মাকে বলেছিলাম মা আজ আর থাকবো না ।অন্য সময় আবার আসবো। এই বলে সমস্ত কিছু গুছিয়ে নিয়ে আবারও বেরিয়ে পড়েছিলাম নিজের গন্তব্যে আসবো বলে।


আজ এইখানেই শেষ করছি। আবার নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Sort:  
Loading...

Curated By : @ memamun


 7 hours ago 

Thank you 🙏