মামার জন্মদিন উপলক্ষে কেনাকাটা

in Incredible India2 days ago

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে। আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG20260611183714.jpg

গত ২৭ শে জ্যৈষ্ঠ ছিল আমার বড় মামার জন্মদিন ।এর আগে বিভিন্ন পোস্টে আমি আমার বাড়ির সকলের জন্মদিনের মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে থাকি। আমার দিদার আর দুই মামা আমার মায়ের জন্মদিনের তারিখটা মনে না থাকলেও বড় মামারটা ঠিক মনে রেখেছেন। বড় মামা যে বছরে হয়েছিল সেই বছরের নাকি ২৭ শে জ্যৈষ্ঠ পড়ে ছিল গঙ্গা পূজা। তাই প্রত্যেক বছরই এই দিনটি মনে থাকে। শুধু এখন জন্মদিন পালন হয় এমন কোন বিষয় না আমি ছোট থেকেই দিদাকে দেখে আসছি ছেলে মেয়ে সকলকেই জন্মদিনের দিন নয়তো মাসের যে কোন একটা দিনে পায়েস রান্না করে খাওয়াতে। সেই রীতিটা এখনো পর্যন্ত দিদা ধরে রেখেছেন। তবে এখনকার জন্মদিন মানেই তো কেক কেটে সেলিব্রেশন করা। কিন্তু আগেকার দিনের মানুষ ওরা মনে করে পায়েস খাওয়ানো শুভ। আমার তো জন্মদিনে পায়েস খেতে ভীষণ ভালো লাগে।

IMG20260611183719.jpg

আপনারা কম-বেশি সকলেই জেনে থাকবেন মামার বাড়িতে যে কোন অনুষ্ঠান হলেই আমাকে আগে যেতে হয়। না হলে ওরা কোন কিছুই করতে চায় না ।যাই হোক আমাকে সেদিন সকাল থেকেই ফোন করা হয়েছিল যাবার জন্য। কিন্তু আমার বাড়িতে যেহেতু মিস্ত্রি কাজ করছিল তাই আমি একটু যেতে যেতে ইতস্তত বোধ করছিলাম। কিন্তু শেষে বাধ্য হয়ে যেতে হয়েছিল। এদিকে মামীর সকাল থেকে বায়না ওই দিনই নাকি যে কোন সোনার গিফট কিনে মামাকে গিফট করবে। সেদিন দুপুরের পর থেকেই শুরু হয়েছিল মুষলধারে বৃষ্টি। আকাশে ঘন কালো মেঘ।এই বৃষ্টির মাঝে জিনিস কিনতে যাওয়া সম্ভবনা ছিল না।তবুও মামীর বায়না সেই দিনই নাকি যাবে। আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল ।যাইহোক বৃষ্টি মাথায় আমি বড়মামা মামি, বৃষ্টির মধ্যে ছাতা নিয়ে বের হয়েছিলাম।

IMG20260611183728.jpg

বাড়ি থেকে বের হতেই এমনভাবে বিদ্যুৎ চমকে ছিলো মনে হল এই বুঝি মাথার উপর বাজ পড়ল। আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।যাই হোক বাড়ির কাছ থেকেই টোটো ধরে চলে গিয়েছিলাম সরাসরি দোকানে সোনার দোকানে। যাওয়ার আগে মনে হচ্ছিল যেন বন্যা শুরু হয়েছিল। বৃষ্টির জল আর সারা রাস্তায় ড্রেনের জল এক হয়ে গিয়েছিল। সমস্ত জল অতিক্রম করে দোকানে গিয়ে ছিলাম। বৃষ্টির মধ্যে দোকান অবশ্য ফাঁকা ফাঁকাই ছিল। আর যেহেতু চেনা দোকান তাই আরো সুবিধা হয়েছিল ।মামার জন্য একটা আংটি পছন্দ করে ছিল ।মামাকে আংটি দেবে অনেকদিন ধরেই মামীর ইচ্ছে ছিল। তবে স্বামীর জন্মদিনে আংটি উপহার দিয়েছিল। যাইহোক বাজেটের মধ্যে আংটিটা কেনা হয়ে গিয়েছিল। আংটি টার দাম পড়েছিল ৫৫ হাজার টাকা।

IMG20260611183841.jpg

এদিকে আবার আংটি নিয়ে কিছু টাকা বেঁচে গিয়েছিল। তখন মামীর বায়না করলো মামী নিজের জন্য একটা জিনিস কিনবে। তাই ওখানে মামীর একটা সীতা হার পছন্দ হয়ে গিয়েছিল ।তাই কিছু টাকা দিয়ে মামী আবার সেই হারটাকে বায়না দিয়ে এসেছে। অর্ধেক টাকা সেই দিন মিটিয়ে আর বাকি অর্ধেক টাকা দিয়ে জিনিসটা নিয়ে আসবে। মামির এক ঢিলে দুই পাখি মারা হয়ে গিয়েছিল ।এদিকে মামাকেও উপহার দিতে পারল। আর নিজের জন্য একটা জিনিস নিয়ে নিল। প্রত্যেক মেয়েদেরই শাড়ি গয়নার উপর ভীষণ লোভ। সোনার জিনিস যেটাই দেখা হয় সেটাই পছন্দ হয়ে যায়। সেই বৃষ্টি ভেজা সুন্দর মুহূর্ত উপভোগ করেছিলাম। কেনাকাটা হয়ে গেলে আবার চলে গিয়েছিলাম মামাকে নিয়ে শপিংমলে। সেখান থেকে আমিও মামার জন্য একটা টিশার্ট গিফট করেছিলাম। মামা নিজে গিয়ে শপিংমল থেকে নিজের জন্য পছন্দমত একটা টিশার্ট নিয়েছিল। এরপর আবারো তিনজনে মিলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম।

IMG20260611185441.jpg

আজ এইখানেই শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নেই হাজির হবো আগামীকাল ।সকালে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।

Sort:  
Loading...
 yesterday 

Thank you 🙏

image.png
Curated By: lirvic
 yesterday 

Thank you 🙏