শীতকালে গ্ৰামের ভোরের দৃশ্য
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে নতুন বছরের দ্বিতীয় দিন। পুরনো বছর কাটিয়ে আমরা নতুন বছরের দ্বিতীয় দিনে দাঁড়িয়ে রয়েছি। সময় দেখতে দেখতে নিমেষের মধ্যে কেটে যায়। তবে সময় থাকতে থাকতে নিজেদের সমস্ত স্বপ্ন ইচ্ছা গুলোকে পূরণ করে নেওয়া দরকার। একটা সময়ের পর আমাদের আর কোন কিছুই ভালো লাগবে না। প্রত্যেক বছরেই আমাদের কোনো না কোনো স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। তবে আগামী দিনগুলো আরো ভালোভাবে কাটানোর চেষ্টা করব ।যাইহোক গতকালকেই মামাশ্বশুরের বাড়ি থেকে আসার কিছু মুহূর্ত শেয়ার করে নিয়েছিলাম ।আমি সব সময় সকলের সাথে আনন্দ মজা করে থাকতে বেশি ভালোবাসি। হঠাৎ করেই মামা শ্বশুর বাড়িতে যেতে হয়েছিল কারণ মামাশ্বশুরের মেয়েকে কলেজ থেকে শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছিল।
মামা মামি দুজনেরই sir এর কাজ চলছিল । তাই কেউ যেতে পারিনি। শেষে আমি হুটো পাটা করে আগের দিন সন্ধ্যা বেলাতে মামার বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলাম। আজকে শেয়ার করব ভোরের বেলায় গ্রামের প্রাকৃতিক দৃশ্য অনুভব করার সুন্দর মুহূর্ত। এর আগে কখনো আমি এই দৃশ্যের মুখোমুখি হয়নি। কারণ গ্রামের মেয়ে হলেও ভোরবেলায় উঠে কোথাও যাওয়া বা দেখার মুখোমুখি আমাকে হতে হয়নি। তবে এই কনকনে ঠান্ডাতে ভোরবেলা ওঠা সত্যিই খুবই কষ্টকর। কিন্তু কষ্ট হলে কিছুই করার ছিল না। যেহেতু আমাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে হবে ।তাই সেদিন ভোর চারটের সময় ঘুম থেকে উঠে পড়েছিলাম। শীতকালে বিছানা ছাড়তে খুব বিরক্ত লাগে। মনে হয় লেপের ভিতরেই ঘুমিয়ে থাকি। এমনিতেই নতুন জায়গা তাই সারারাত সেদিন ঘুম হয়নি।
ভোর চারটের সময় ঘুম থেকে উঠে বাড়িতে মামি চা করে দিয়েছিল ।আমি আর মামার মেয়ে দুজনেই চা, মুড়ি খেয়ে রেডি হয়ে ভোর পাঁচটা নাগাদ টোটো করে বেরিয়ে পড়েছিলাম। বাড়ি থেকে আসতে অনেকটা সময় লাগে। কারণ কলেজের স্যাররা যেখানে আসতে বলেছিল সেটা অনেকটা দূরে। আমি মামার মেয়ে আর মামা তিনজনে মিলে টোটো করে ভোর পাঁচটার সময় বেরিয়েছিলাম ।ভোর পাঁচটাতে এখন অনেক অন্ধকার থাকে। আমাদের পৌঁছানোর জন্য সাথে মামা গিয়ে ছিল। কারণ ওই ভোরবেলাতে দুটো মেয়েকে একা একা মামা ছাড়েনি। চারিদিক অন্ধকার। তাতে আবার প্রচুর শেয়াল ডাক ছিল। শহরে সচরাচর শেয়ালের ডাক শোনা যায় না।টোটো তে প্রচন্ড ঠান্ডা হাওয়া লাগছিল। রাস্তাতে হাতে গোনা কয়েকজন ছিল ।অনেকে আবার শীতের মধ্যে বেশ সোয়েটার পড়ে মর্নিং ওয়ার্ক এ বেরিয়ে পড়েছিল ।আবার কেউ কেউ মাঠে চাষের কাজের জন্য সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে।
গ্রাম থেকে যখন বেরিয়ে রাস্তায় এসে পৌঁছেছিলাম তখন প্রচুর গাড়ি চলছিল ।এদিকে মাছ ওয়ালারা মাছের হাঁড়ি নিয়ে হয়তো মাছ ধরতে যাচ্ছিল। ফাঁকা রাস্তা চারিদিকে ফাঁকা মাঠ ভীষণ ভয় লাগছিল ।তাতে আবার সামনে কবর স্থান ছিল ।ভূতের ভয় না পেলেও মাঝে মাঝে ফোনে কিছু অলৌকিক কাহিনী শুনি সেটাই বারবার মনে পড়ছিল। এদিকে ফাঁকা রাস্তা তে এক পাশ দিয়ে টোটোওয়ালা নিয়ে যাচ্ছিল। আমাদের করিমপুর রোডে প্রচুর গাড়ি চলে প্রায়শই শোনা যায় অ্যাক্সিডেন্টের কথা। যাই হোক ঠাকুরের নাম করে বেড়িয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচটা নাগাদ পৌঁছে গিয়েছিলাম তেহট্ট নদীর ধারে।
নদীর ধার পার হয়ে তবে আমাদের বাসে উঠতে হবে। নদীর ধারে চায়ের দোকান খোলা ছিল ।এছাড়া মামার মেয়ে আমি আর ওদের স্যার এই তিনজন মাত্র ছিলাম। তিনজন মিলেই নদী পার হয়ে ওপারে চলে গিয়েছিলাম । নদীতে বাঁশের ব্রিজ করা ছিল।নদীর ধারে শীতকালে বেশি ঠান্ডা হওয়া যায়। নদীতে রয়েছে নৌকো বাঁধা আর চারিদিকে কুয়াশায় ভরা। এইরকম প্রাকৃতিক দৃশ্য জীবনে প্রথমবার দেখা। এদিকে হাঁড় কাঁপানো ঠান্ডা লাগছিল।যাইহোক নদী পার হয়ে আবারো খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়ে ছিল। কারণ আরো স্টুডেন্টরা এসে এক জায়গায় জমা হবে। এরপরের মুহূর্ত অন্য পোস্টে শেয়ার করে নেব। পোস্টে দেওয়া ছবিগুলো মামার মেয়ের ফোনে তোলা।
আজ এখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।



