ছেলের বাড়িতে খানিকক্ষণ সময় কাটিয়ে বাড়ি ফেরার পালা
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব পাত্র দেখতে যাওয়ার পরের পর্ব। জীবনে কোনদিন পাত্র দেখতে যাইনি ।এই প্রথমবার হয়তো এত বড় দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলাম। আসলে পাত্র দেখতে যাওয়া বাড়ির বড়দের কর্ম।ওঠা সঠিক সবকিছু জিজ্ঞেস করতে পারেন। তবুও এখন মানুষ চেনা বড় দায়।এক ছাদের নীচে না থাকলে মানুষ চেনা যায় না।কিন্তু আমাদের মাথার উপরে গুরুজন বলতে আমার মামারা।দিদা এখন অসুস্থ। তার কোথাও যাওয়ার ক্ষমতা নেই বললেই চলে।তাই মামারা আবার আমাকে ছাড়া কোথাও যায় না। তাই আমিও যেতে বাধ্য হয়েছিলাম ।এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো বয়স আমার এখনো হয়নি। বেলা দুটো নাগাদ পৌঁছে গিয়েছিলাম পাত্রের বাড়িতে। পাত্রের বাড়ির সকলে ভীষণ খুশি ।কারণ ওরা ধরেই বসে আছে যে ওই বাড়িতেই আমার ছেলের বিবাহ দেব। আমরা যাওয়া মাত্রই সকলেই ঘরের ভিতরে খানিকক্ষণ ঠান্ডায় বসে ছিলাম। বসার পর সকলকে হাতে এক গ্লাস করে কোলডিংন্স দেওয়া হয়েছিল। সকলে মিলে যে যার মত করলেন খেয়ে নিয়েছিলাম। বাইরে রোদ গরম থেকে গিয়ে একটু ঠান্ডা আশ্রয় আর ঠান্ডা পানীয় বেশ ভালো লাগে।এরপরে সকলে সাথে আলাপচারিতা শুরু হয়েছিল।
আলাপচারিতা করতে করতে আবারো মিনিট দশেক পর হাতে ধরিয়ে দেওয়া হল এক প্লেট করে মিষ্টি। মিষ্টি খেতে ভালোবাসলেও কোথাও গিয়ে খাওয়ার মত পরিস্থিতি থাকে না ।তাও নিয়ম রক্ষা করতে কয়েকটা মিষ্টি খেয়েছিলাম। কিন্তু মিষ্টি গুলো খেতে কিন্তু ভীষণ সুস্বাদু ছিল।এরপর আবার সকলে বসে সকলে মিলে সমস্ত বিষয়ে আলোচনা শুরু হলো। আমার মেজ মামা আর মা সমস্ত বিষয় আলোচনা করছিল। আমরা যেহেতু ছোট তাই আমরা চুপচাপ বসে ছিলাম। এরপর সকলে মিলে সমস্ত কথোপকথন করে একটা সিদ্ধান্তে আসা হলো। এরপর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। এখন বিয়ের আগেই রেজিস্ট্রি ম্যারেজ করা হয়। তাই রেজিস্ট্রির দিনক্ষণ পাকা করা হলো। একটা শুভ দিন দেখে রেজিস্ট্রি করা হবে।
কথার কোন শেষ থাকে না । এরপর আবারো দুপুর সাড়ে তিনটা নাগাদ সকলকে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমরা যাব দেখে আমাদের জন্য প্রচুর আয়োজন করেছিল। দুপুরের খাবারে আমাদের দেওয়া হয়েছিল- ভাত ,শাক ভাজা, ডাল, পটল চিংড়ি ,খাসির মাংস, মাছ, চাটনি , পাঁপড়, দই, মিষ্টি। আমার তো মনে হচ্ছিল পুরো নেমন্তন্ন বাড়ি খাওয়ার মত মনে হচ্ছিল। সেদিন হয়তো কোন অনুষ্ঠানে আমরা যোগদান করেছি। এত আয়োজন করবে আমরা সেটাও বুঝে উঠতে পারিনি। আমরা তো আমাদের বাড়িতে যখন গিয়েছিলে তখন তেমন কিছু আয়োজন করে উঠতে পারিনি। তাই নিজেদেরই ভীষণ লজ্জা লাগছিল। যাইহোক সকলে মিলে খাবার-দাবার সেরে আবারো খানিকক্ষণ পর সকলে বসে এবার বাড়ি ফেরার জন্য সকলকে বলা হয়েছিল।
ওদের বাড়িতে আর ও খানিকক্ষণ থেকে গেলে হয়তো ওদেরই ভীষণ ভালো লাগতো। যাই হোক সকলের সাথে আবারো বিদায় জানিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম । কারণ আমাদের একেক জন একেক দিকে রওনা দেব।এরপর আবারো আমাদের দেবগ্রামে নামিয়ে দিয়েছিল। বোনের বর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল। আমাদের দেবগ্রাম বাস স্ট্যান্ড থেকে আবারো বাস ধরে অনেকটা পথ আসতে হবে।মা গাড়ি করে বাড়ির পথে রওনা দিয়েছিল। সেদিন একেক জন একেক জায়গা থেকে গিয়ে একসাথে মিলিত হয়ে ছিলাম।যাই হোক আজ এখানেই শেষ করছি। আরো কিছু অংশ আপনাদের পরের পোস্টে শেয়ার করে নিচ্ছি ।
আজ এইখানেই শেষ করলাম। আবার নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।


Thank you 🙏